একজন খুকী ও আমাদের মানবিকতা

Spread the love

সৈয়দ জুয়েল: দিল আফরোজ বেগম (খুকী)।স্বচ্ছল পরিবারেই জন্মেছিলেন খুকী। মানসিক ভাবে কিছুটা দূর্বল থাকায় পরিবার ও সমাজে স্বীকৃতি জোটেনি এই সংগ্রামী নারীর। রাজশাহী শহরে পত্রিকা বিক্রি করছেন দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে। হকারি পেশার মূলধনটাও জোগাড় করেছেন সততা দিয়ে। রাস্তায় মানিব্যাগ কুড়িয়ে পেয়ে তার মালিককে বুঝিয়ে দিয়ে ফিরে আসতে মালিক খুশী হয়ে ১৫০ টাকা দিয়েছিলো, সেই ১৫০ টাকা দিয়েই শুরু করেন পত্রিকা বিক্রি। মূলধন বলতে সততা আর ১৫০ টাকা দিয়ে ১৯ বছরের হকারি জীবনে গীরব ছয়জন নারীকে দিয়েছেন ছয়টি সেলাই মেশিন, তিনটি হিন্দু পরিবারকে দিয়েছেন গরু কিনে। প্রতিদিন তিনশো টাকা আয়ের একটি অংশ ব্যায় করেন এতিম খানায়, একটি অংশ মসজিদ, মন্দিরে, একটি অংশ রাখেন হজ্বের জন্য।

আর নিজে খরচ করেন শুধুই চল্লিশ টাকা। মানবিক অবক্ষয়ে ভোগা এ সমাজ ব্যাবস্থায় খুকীদের মত নারীদের এ উদারতায়- জাতির বিবেকে একটু হলেও হয়তো নাড়া দিবে শারীরিক সুস্থের মানুষদের। খুকীদের মত মানুষদেরকে যারা আমরা মানসিক প্রতিবন্ধী বলে অবজ্ঞা করি,পাগলী বলে তেড়ে আসি,তাদের জন্য আমরা কি একটু মানবিক হতে পারিনা? কে প্রতিবন্ধী! খুকী না আমাদের মত সুস্থ বলে দাবী করা বীরদর্পে হেঁটে চলা দু পায়ের শক্তির মানুষ! একজন খুকী যখন কোন হিন্দু,মুসলমানের ধর্মের নামে আলাদা করে না দেখে মানবিক দিক বিবেচনা করে এগিয়ে এসেছে,একজন অতি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সেই মানুষ কি খুকীর মানবিকতাকে স্পর্শ করতে পেরেছে?


আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তার ভরন পোষনে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে তার থাকার জায়গায়ও সংস্কার হচ্ছে, এক নারীও খুকীর হজ্বে যাওয়ার ব্যায় বহনে এগিয়ে এসেছে। একজন খুকীর হয়তো পূর্নবাসন হয়ে যাবে,তবে সমাজের ভেতর এখনো রয়েছে হাজারো খুকী,যাদের প্রতি একটু সহযোগিতার হাত বাড়ালে পুরো সমাজ ব্যাবস্থায় আসতে পারে আমূল পরিবর্তন।

ভঙ্গুর সমাজ ব্যাবস্থা থেকে বেড় হয়ে উজ্জ্বল সমাজ ব্যাবস্থা গঠনে- এরকম খুকীদের বড়ই দরকার আজ এই ক্রান্তিলগ্নে। আমরা তাকিয়ে আছি হাজারো খুকীদের জন্য,যাদের মানবিকতার গুনে লজ্জিত হয়ে আধুনিক লোভী মানুষগুলোর বিবেক একটু হলেও জাগ্রত হবে,একটু হলেও ভালবাসার আর শ্রদ্ধার জায়গাগুলোতেও আসবে ব্যাপক পরিবর্তন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *