নাগরিক রিপোর্ট: বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার নবগঠিত উত্তর ও দক্ষিন উলানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সুষ্ঠভাবে অনুষ্ঠানে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন প্রশাসন। যেকারনে ভোটের ১০দিন আগেই রোববার জেলার সব সেক্টরের কর্মকর্তাগন মেঘনা ঘেরা মেহেন্দীগঞ্জে গিয়ে প্রার্থী সহ সংশ্লিস্টদের সাথে আইনংশৃংখলা বিষয়ক বিশেষ সভা করেছেন। ওই সভায় নৌকার প্রার্থীরা নির্বাচনী এলাকাকে বহিরাগত মুক্ত করা, অস্ত্র উদ্ধার এবং প্রত্যেক কেন্দ্রে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েনের দাবী তোলেন। সভায় প্রশাসন সুষ্ঠ ভোটের আশ্বাসও দিয়েছেন। তবে আ’লীগের প্রার্থীরা দাবী করেছেন, স্থানীয় একটি অদৃশ্য শক্তির ইশরায় বার বার মেহেন্দীগঞ্জে নৌকার প্রার্থী হারে। এবারও উত্তার ও দক্ষিন উলানীয়ায় ওই শক্তির নির্দেশেই নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী দাড় করানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, আগামী ১০ ডিসেম্বর এ দুই ইউনিয়নে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
রোববার মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা মিলনায়তনে উত্তর উলানিয়া ও দক্ষিণ উলানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন উপলক্ষে প্রতিদ্বন্দদ্বী প্রার্থীদের সাথে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক বরিশাল এস এম অজিয়র রহমান। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা পিজুস চন্দ্র দে। বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো: আলাউদ্দিন, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মাদ নূরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার মো: নাইমুল হক, রির্টানিং কর্মকর্তা মো: জহিরুল ইসলাম প্রমূখ।
সভায় উপস্থিত উত্তর উলানিয়ার নৌকা প্রতিকের প্রার্থী নুরুল ইসলাম জামাল মোল্লা বলেন, তিনি প্রশাসনের কাছে উলানিয়াকে বরিাগত মুক্ত করার দাবী তুলেছেন। প্রতিদিন পৌর এলাকা থেকে ৫০-৬০টি মোটরসাইকেলে নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগতরা আসে। প্রত্যেক ক্যাম্পে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট, অস্ত্র উদ্ধারের দাবী জানিয়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দুপুরে বহিরাগত বন্ধের দাবী জানালেও বিকেলে মোটরসাইকেলের মহড়া দেখা গেছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- শ্রমিক লীগের মনির জম্মাদাদর, ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক সাকিল। তিনি বলেন, সভায় তারা ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন যে একজন জনপ্রতিনিধির নির্দেশে এখানে আ’লীগ একাধিকবার হেরেছে।
দক্ষিন উলানিয়ার আ’লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী আ: হালিম মিলন বলেন, তিনি সভায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবী জানিয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দী বিদ্রোহী প্রার্থী রুমা বেগমের অনুসারীরা ২টি স্পীডবোট নিয়ে বহিরাগত লোকজন আনা নেয়া করে। জেলেদের মারধর করে আতংক সৃস্টি করে। কালিগঞ্জ বাজার, হাজির হাট, আশা এলাকায় বহিরাহত সন্ত্রাসী বাহিনী তার পোস্টার ছিড়ে ফেলে। লালগঞ্জ বাজারে মোশারফ সরদার, রাকিব সরদার, আলমগীর সরদার ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখায়।
আইনশৃংখলাবাহিনীকে তিনি বলেছেন, একটি অদৃশ্য শক্তির কারনে বিদ্রোহীরা নৌকার বিরুদ্ধে তৎপরতা চালাচ্ছে। সেই শক্তির বলেই এবারও নৌকাকে হারাতে চায়।
তবে দক্ষিন উলানিয়ার বিদ্রোহী প্রার্থী রুমা বেগমের পুত্র তারেক সরদার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এদিকে উত্তর উলানিয়ার বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী ফয়সাল চৌধুরী বলেন, এখানকার সব সেন্টার ঝুকিপূর্ন। তিনি সুষ্ঠ নির্বাচন চেয়েছেন প্রশাসনের কাছে। একই দাবী করেছেন দক্ষিন উলানিয়ার বিএনপি প্রার্থী মোশারফ হোসেন মিশু।
সভায় প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান বলেন, সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট প্রদানের জন্য সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তিনি প্রার্থীদের নানা অভিযোগ সমাধানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানান।
এ প্রসঙ্গে বরিশালের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো: নুরুল আলম বলেন, তারা উলানিয়ার ভোটকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন। এটি সুষ্ঠ করার জন্য অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, বহিরাগত না থাকার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক তাদের আশ্বাস দিয়েছেন ভোটে বিজিবি, র্যাব, পুলিশ এবং ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে।
এব্যাপারে আইনশৃংখলা বিষয়ক বিশেষ ওই সভার সভাপতি মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিযুষ চন্দ্র দে বলেন, সভায় জেলা প্রশাসকসহ নির্বাচন কমিশন, আইনশৃংখলাবাহিনীর কর্মকর্তারা উলানিয়ায় সুষ্ঠ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভোট হওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রার্থীরা যেসব অভিযোগ করেছেন সেগুলো নোট আকারে নিয়ে প্রতিটি অভিযোগ প্রতিকার করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

