বরিশালে ঐতিহাসিক স্থানে ব্যানার ফেস্টুন নিষেধ, বাস্তবায়নে সংশয়

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট: বরিশাল নগরীর সৌন্দর্য্য রক্ষায় ঐতিহাসিক স্থান ও স্থাপনায় ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড সাটানোর উপরে বিধি নিষেধ আরোপ করেছে করেছে সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। তবে শুক্রবার বিকেলে ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর ঐতিহ্যবাহী বিবির পুকুর, অশ্বিনী কুমার টাউন হল, চৌমাথা লেক বিভিন্ন রাজনীতিক দলের ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ডে ভরে গেছে। নগরীর বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ এ বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।


বৃহস্পতিবার রাতে বরিশাল করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) স্বপন কুমার দাস সাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে- নগরীর ঐতিহাসিক স্থান ও স্থাপনার সৌন্দর্য্য রক্ষায় সব ধরনের ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড সাটানো যাবে না। বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী বিবির পুকুর পাড় এবং অশি^নী কুমার টাউন হল ও এর আশপাশে বরিশাল সিটিকরপোরেশনের অনুমতি ব্যতিত ব্যানার, ফেস্টুন নিষিদ্ধ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।


শুক্রবার বিকেল ৩টায় নগরীর বিবির পুকুর পাড় ঘুরে দেখা গেছে গোটা পুকুরেই ব্যানার ও ফেস্টুন রয়েছে। প্যানেল মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকন, ছাত্রলীগ নেতা সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত, আতিকুল্লাহ মুনিম, মহানগর মহিলা লীগের ব্যানারে ঢেকে গেছে পুকুর। গোটা পুকুরের চারদিকেই নানা রঙ্গের ফেস্টুন ঝুলছে। এসব ব্যানার-ফেস্টুনের কারনে পুকুরটির সৌন্দর্য্য অনেকাংশ ঢেকে গেছে বলে পথচারীরা জানান।


এর ২০ গজ দুরে অশ্বনী কুমার টাউন হলের সামনেও বিশাল ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা গেল। জনৈক আ’লীগ নেতা সালাউদ্দিন রিপন এবং মহানগর আ’লীগের ব্যানারে টাউন হল ঢেকে গেছে। একই অবস্থা চৌমাথা লেক। গোটা লেক ভাসমান দোকানপাটে ভরে গেছে।


বরিশাল মহানগর আ’লীগের সভাপতি অ্যাড. এ কে এম জাহাঙ্গির কে এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে নগর আ’লীগের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি অ্যাড. আফজালুল করিম বলেন, সিটি করপোরেশন যে উদ্যোগ নিয়েছে এজন্য স্বাগত। মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহকে জন্য ধন্যবাদ। বিবির পুকুর ও টাউন হল উন্মুক্ত থাকা দরকার। তিনি করপোরেশনের এ ধরনের বিধিনিষেধ মেনে চলতে সকল নেতাকর্মীকে এধরনের ঐতিহাসিক স্থানে ব্যানার ফেস্টুন সাটানোয় বিরত থাকার আহবান জানান।


জানতে চাইলে বেসরকারি সংগঠন গ্রিন মুভমেন্ট এর বরিশাল জেলা সমন্বয়ক কাজী মিজানুর রহমান ফিরোজ বলেন, ব্যানার, ফেস্টুন অপরিচ্ছিন্নতা, সৌন্দর্য্যহানী ঘটায়। এটি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকার। এই জঞ্জাল মুক্ত নগরী করতে সিটি করপোরেশনকে সহায়তা করতে হবে দলমত নির্বিশেষে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো বিবির পুকুর, টাউন হলের সামনে যে ব্যানার সাটায় তা তুলে ফেলতে বিসিসিকে তাদের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হবে।


সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন বরিশাল জেলা সাধারন সম্পাদক কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, তারা বিভিন্ন সময় বিবির পুকুর ও অশ্বিনী কুমার টাউন হল ব্যানার, ফেস্টুন মুক্ত রাখার বিষয়ে সোচ্চার ছিলেন। কিন্তু বিভিন্ন দল ও সংগঠন এটি না মানায় নগরীর সৌন্দর্য্য বিনস্ট হচ্ছে। সিটি করপোরেশন বিধিনিষেধ জারি করলেও বিবির পুকুর এবং টাউন হল ব্যানার, ফেস্টুনে ঢাকা। কেবল বিজ্ঞপ্তিই নয়, এটি বাস্তবায়নে কার্যকর আইনগত পদক্ষেপ চান তিনি।


এব্যপারে বরিশাল করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) স্বপন কুমার দাস বলেন, সিটি করপোরেশন বিবির পুকুর ও টাউন হলের সামনে ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড সাটানো বন্ধে কঠোর হবে। তাদের বিজ্ঞাপন বিভাগের কর্মীরা উচ্ছেদ কার্যক্রম চালাবে। প্রয়োজনে করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে আাইনী পদক্ষেপ নিবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *