নাগরিক রিপোর্ট: দক্ষিন বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেষে মেঘনার তীরে গড়ে উঠেছে এক অপরুপ পর্যটন স্পট ‘দক্ষিনের হাওয়া’। বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরার দক্ষিন সাকুচিয়া ইউপির রহমানপুর গ্রামে এর অবস্থান। সাগরে থেকে ভেসে আসা ঢেউ মেঘনা তীরে আছড়ে পড়া, ডুবোচর, বিশাল কেওড়া বন, আর নানা প্রজাতির বন্য প্রানী এ দ্বীপটিকে অন্যরকম আকর্ষন বাড়িয়ে দিয়েছে পর্যটকদের মাঝে। শীত মৌসুমকে ঘিরে তাই বাড়ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর এ বীচে দর্শনার্থীদের ভীর।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, দক্ষিনের হাওয়া দ্বীপের উদ্যোক্তা দক্ষিন সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারমান অলিউল্লাহ কাজল। তিনি বলেন, দখিনের হাওয়া সী বিচ গড়ে তুলতে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ করছেন তার স্ত্রী সাথী কাজল। গত বছরের রোজার ঈদ থেকে এই বীচের যাত্রা। ইতোমধ্যে জেলাপ্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার স্পটটি পরিদর্শন করেছেন। পর্যটন মন্ত্রনালয় ১ কোটি টাকার প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প পাশ হলে ব্রিজ, কটেজ, বিদ্যুৎ সরবরাহ, স্ট্রীট লাইট সংযোগ দেয়া যাবে। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে একটি গেট ও ওয়াশরুম করা হচ্ছে।

দখিনা হাওয়া সী বিচের স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের সভাপতি রাকিবুল হাসান বলেন, দক্ষিন বঙ্গোপসাগর ঘেষা মেঘনার তীরে গড়ে উঠেছে প্রায় ১ কিলোমিটারের দখিনা হাওয়া সী বিচ। বিদায়ী বছরের ডিসেম্বরেই এখানে পর্যটক এসেছে ৮ সহ¯্রাধিক। থার্টিফাস্টে এর সংখ্যা ছিল ২ হাজার। সামুদ্রিক পাখির কলকাকুলি, বীচে আছড়ে পড়া ঢেউ, বন্য প্রানী, ডুবোচর যেকারো চোখ জুড়াবে। এমনকি দখিনের হাওয়া বীচ থেকে সুর্যদয়ও দেখা যায়। নতুন বছরে চলমান শীত মৌসুমে পর্যটক কয়েকগুন বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, বন্যপ্রাণীর মধ্যে হরিন, বানর, বনমোরগ এ কেওড়া বনে দেখা যায়। দখিনের হাওয়া বীচে সংলগ্ন মেঘনায় স্বল্প দামে পাওয়ায় যায় তাজা ইলিশ, পোয়া, তপসে মাছ, চিংড়ি। শীতের হাঁস সবচেয়ে জনপ্রিয় এ দ্বীপে।
কথা হয় লর্ডহার্ডিঞ্জ থেকে আসা একদল ট্যুরিস্টের সাথে। তারা জানান, দখিনের হাওয়া বীচে প্রধান সমস্যা আবাসন। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নেই ২৪ ঘন্টা। যাতায়াত ব্যবস্থা আধুনিক হওয়া দরকার। তবে বিচে ছাউনি ও তাবু রয়েছে। জানা গেছে, রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটক আসছেন দখিনের হাওয়া বীচ ভ্রমনে।

মনপুরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহবুবুল আলম শাহিন বলেন, দক্ষিন বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেষে জেগে ওঠা দখিনের হাওয়া বীচে শত শত পর্যটক আসছেন। তিনি বলেন, সাগরে ঘেষা এ পর্যটন স্পটকে সরকারী হিসেবে স্বীকৃতি পেলে দর্শনার্থী বাড়বে, অনেক বিনিয়োগকারীও আসবেন।
এব্যাপারে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শামিম মিয়া বলেন, পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে মনপুরাকে গড়ে তোলার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে সংশ্লিস্ট মন্ত্রনালয়ে। সী বিচের আদলে সাগর ঘেষা মেঘনা তীরে ‘দখিনের হাওয়া’ নামে বীচ ট্যুরিস্ট স্পট হিসেবে গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন, এখানের বড় সংক আবাসন ব্যাবস্থা না থাকা। মার্চের মধ্যে শত ভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনা হচ্ছে উপজেলাটিকে।

