সৈয়দ জুয়েল: মায়ানমার ইস্যুতে দ্বিতীয় বারের মত ভোটদানে বিরত থাকলো ভারত। “শাপও যেন না মরে লাঠিও যেন না ভাঙ্গে” এ নীতিতেই হাঁটছে প্রতিবেশী রাস্ট্রটি। ইতিহাস ঘাটলে ইন্দিরা-মুজিব সময়ের পরে আর এ দু রাস্ট্রের মাঝে যুগসই সম্পর্ক আর গড়ে ওঠেনি। দু দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে দূর্বল জোগাজোগ, বড় রাস্ট্রের ইগো, দেয়ার চেয়ে নেয়ার প্রবনতা, সীমান্ত হত্যাই অনেকটা দায়ী সম্পর্ক অবনতির। তবে একটু সতর্ক হলে এ দু দেশ হতে পারে বন্ধু প্রতীম রাস্ট্র।
অর্থনৈতিক ভাবে ভারতের চেয়ে বাংলাদেশ তেমন পিছিয়ে নেই। বরং ভারতের চেয়ে অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। শুধু ভারত নয়,শ্রীলংকা,মায়ানমার,পাকিস্তান ছারাও অনেক প্রতিবেশি রাস্ট্রের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। পদ্না সেতু,মেট্রো রেল,কর্ণফুলী নদীর নীচ দিয়ে বঙ্গবন্ধু টানেল, এ ধরনের মেগা প্রজেক্ট শেষ হওয়ার পর উন্নত বাংলাদেশ বললেও এতটুকু ভূল হবেনা। এ প্রজেক্টগুলো শেষ হলে অর্থনৈতিক উন্নতির দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।
ক্ষুধা, দারিদ্র, অর্থনৈতিক মন্দার কবল থেকে বাংলাদেশ বেড়িয়ে এসেছে বহু আগে। তাই ভারত বাংলাদেশকে দেয়ার কিছু নেই। বরং ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নত হলে লাভটা মূলত: ভারতেরই বেশি। কারন-এ অঞ্চলে চীন অনেক বছর ধরেই তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়,ভারতও পিছিয়ে নেই। তাদের লোভটাও রয়েছে এ অঞ্চলে দাদাগিরি করার। তবে দাদাগিরি করতে হলে মনকে করতে হবে আরো উদার।
না হয় চীনের সাথে যদি বাংলাদেশের বেশি সখ্যতা হয়ে যায়,অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি দুঃশ্চিন্তার ভাঁজ পরতে পারে ভারতের। যেহেতু বাংলাদেশ কারো সাথেই যুদ্ধে জড়ানো থেকে শুরু করে দাদাগিরি করার কোন অভিপ্রায় নেই। ছোট রাস্ট্র সুখেই কাটাবে বাংলাদেশ। আধুনিক বিশ্ব আর মুক্ত বাজার অর্থনীতির সময়ে এ দু দেশ এক হয়ে কাজ করলে-দু দেশেই ঈর্ষনীয় এক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করতো বিশ্ব দরবারে। বড় দেশ হিসেবে আগ্রহের হাতটা বাড়াতে হবে ভারতের দিক থেকেই।
আমরা চাই বাংলাদেশের যে কোন সমস্যায় সবচেয়ে আগে এগিয়ে আসবে ভারত,আবার বাংলাদেশও তাদের সাহায্যের হাতটা বাড়িয়ে দিবে সবার আগে ভারতের দিকে। ইন্দিরা-মুজিব শাসনামলে যে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক ছিলো,সেই ধারায় কি ফিরতে পারবে ভারত-বাংলাদেশ!
