নাগরিক রিপোর্ট:
বরগুনার পাথরঘাটায় আলোচিত মোস্তাফিজুর সোহেলের দ্বিতল ভবনের আস্তানা গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বুলড্রেজার দিয়ে ভবনটি উচ্ছেদ করে তাদের বেদখল হওয়া জমি পুন:উদ্ধার করেছে। অভিযোগ রয়েছে এ ভবন থেকেই মোস্তাফিজ পাথরঘাটার অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রন করতো। এটি অনেকটা সরকারি জমিতে অবেধ রাজপ্রসাদ হিসেবে গড়ে উঠেছিল।
প্রায় এক দশক আগে পাথরঘাটা মৎস্য অবতরন কেন্দ্র (বিএফডিসি) সংলগ্ন পাউবোর জমিতে মোস্তাফিজ ভবনটি নির্মান করে সেখানে মৎস্য ঘাট শ্রমিক ইউনিয়নের অফিস স্থাপন করেছিল। তিনি ছিলেন পাথরঘাটা উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি।
গত শনিবার অনুষ্ঠিত পাথরঘাটা পৌর নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় মোস্তাফিজকে শ্রমিকলীগ থেকে বহিস্কার করা হয়। নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন।
সোমবার উচ্ছেদ কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা পাউবোর কার্য সহকারী জামাল হোসেন বলেন, মোস্তাফিজ পাউবোর জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা করেছিল। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
বিএফডিসি আড়ৎদার সমিতির সাধারন সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর জেমাদ্দার জানান, মাছ বাজারসহ ২৩টি সংগঠনের সভাপতি পদ দখল করেছে মোস্তাফিজ। কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি করে সরকারি জমিতে রাজপ্রসাদ গড়েছিল। তার কাছে জিম্মি ছিল মৎস আড়তদার ও শ্রমিকরা। বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে থানায় চাঁদাবাজি, ধর্ষন, মাদক, নারী নির্যাতনসহ ১৮টি মামলা হয়েছে। এখনও ১২টি মামলা চলমান। তার চাঁদাবাজীর প্রধান উৎস্য ছিল বরগুনার পাথরঘাটা বিএফডিসি মাছ বাজার, বাস কাউন্টার, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন।
মৎস আড়তদার আলম মোল্লা জানান, মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল নদীপথে মাছের ট্রলারে করে কক্সবাজার থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট এনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করতো। প্রত্যেক ব্যাসায়ীর কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ চাঁদা নিত। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাকে মারধরের শিকার হতেন ব্যবসায়ীরা।
বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন বলেন, মোস্তাফিজের চাঁদাবাজী থেকে মুক্তি পেতে আড়তদার ও মৎসঘাট শ্রমিক ইউনিয়ন মাছঘাটে শনিবার বেলা ১১টায় সভা করেছে। তাদের আমন্ত্রনে ওই সভায় আমি এবং নারী সংসদ সদস্য সুলতানা নাদিরা উপস্থিত ছিলেন। এরপরেই পাউবো তাদের জমি উদ্ধার করেছে। আমি সংসদ সদস্য হিসাবে তাদের সহযোগিতা করছি।
কে এই মোস্তাফিজ : পাথরঘাটা পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরুল আমিন মুন্সীর দুই ছেলের মধ্যে বড় মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল। তার ছোট ছেলে হাফিজুর রহমান উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান। ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকার গঠনের পর মোস্তাফিজ পাথরঘাটায় অপ্রতিরোধ্য সন্ত্রাসীতে পরিনত হন।
২০১৬ সালের পৌর নির্বাচনে তিনি ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার তিনি দলের মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হয়ে সন্ত্রাসী নির্ভর প্রচারনা শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রচারনার শুরু থেকে তার সমর্থকদের সঙ্গে নৌকা প্রতীকের কর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সর্বশেষ গত বুধবার প্রায় দেড়ঘন্টা মোস্তাফিজের সমর্থকদের সঙ্গে নৌকার কর্মী ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষের পর মোস্তাফিজ কোনঠাসা হয়ে পড়েন।
