নাগরিক ডেস্ক: চট্টগ্রাম টেস্টে অসাধারণ জয় পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অভিষেক ম্যাচে কাইলি মায়ার্সের ডাবল সেঞ্চুরিতে সফরকারী দল ৩ উইকেটে বাংলাদেশকে হারিয়েছে। ৩৯৫ রানে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে খেলতে নেমে মায়ার্সের ডাবল সেঞ্চুরিতে (২১০*) ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে করা ৪৩০ রানের জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ মাত্র ২৫৯ রানে অল আউট হয়েছিল। প্রথম ইনিংসে ১৭১ রানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিয়েস ৮ উইকেটে ২২৩ রান করে ইনিংসের সমাপ্তি টেনেছিল। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়িয়েছিল ৩৯৫ রান। কাইলি মায়ার্স ও এনক্রুমাহ বোনারের চমৎকার ব্যাটিং ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জয় এনে দেয়। অসাধারণ ব্যাটিং করেছেন উভয়ে। বোনার ৮৬ রান করেন। আর মায়ার্স ২১০ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয় এনে দেন।
কাইলি মায়ার্স ও এনক্রুমাহ বোনারের অভিষেক টেস্ট ম্যাচ ছিল এটি। প্রথম ইনিংসে দুইজনের কেউ তেমন একটা সুবিধা করতে পারেননি। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে বীরোচিত ব্যাটিং করেছেন তারা। আগের দিন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্রুত ৩ উইকেট হারানোর পর ক্রিজে এসেছিলেন কাইলি মায়ার্স ও এনক্রুমাহ বোনার। আগের দিন জুটি বেঁধে তারা ১৫ ওভারের বেশি ব্যাটিং করেছেন। আর আজ তো পুরো দুই সেশনে ক্রিজে আধিপত্য করেছেন। বাংলাদেশের কোনো বোলারই তাদের আধিপত্য নষ্ট করতে পারেনি। চা বিরতির পর এ জুটি বিচ্ছিন্ন হন। ২১৬ রানের পার্টনারশিপ গড়েন তারা। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কাইল মায়ার্স অভিষেক টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করার অনন্য কীর্তি গড়েছেন। ২১০ রানে অপরাজিত তিনি। খেলেছেন ৩১০ বল। ২০ বাউন্ডারি আর সাত ওভার বাউন্ডারিতে সাজানো ছিল তার ইনিংস।
ডাবল সেঞ্চুরি করে রেকর্ডের খাতায় জায়গা করে নিয়েছেন মায়ার্স। ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে চতুর্থ ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েছেন তিনি। তবে তৃতীয় ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান হিসেবে এ তালিকায় স্থান পেয়েছেন তিনি। তার আগে গর্ডন গ্রীনিজ ও জর্জ হেডলি এ কীর্তি গড়েছিলেন।
এনক্রুমাহ বোনার ৮৬ রান করেছেন। খেলেছেন সত্যিকারের টেস্ট ইনিংস। কোনো তাড়াহুড়া করেননি। দলকে বাঁচাতে শুধু বল ডিফেন্স করে গেছেন। তাইতো ৮৬ রান করতে তাকে খেলতে হয়েছে ২৪৫ বল। তবে চা বিরতির পর হঠাৎ দুই উইকেট হারানোয় ছোট্ট এক ধাক্কা হজম করতে হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। কিন্তু জোসুয়া দা সিলভা সে ধাক্কা দারুণভাবে সামাল দিয়েছেন। মায়ার্সকে খেলতে দিয়েছেন আর নিজে উইকেট আগলে রেখেছেন। ৫৯ বল খেলেছেন তিনি। করেছেন ২০ রান। সে সঙ্গে দলকে পৌঁছে দিয়েছেন জয়ের দিকে।
