আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, বাঙালির আত্মত্যাগ

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট:
অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি আবার ফিরে এলো । এ দিন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস। মায়ের ভাষার দাবিতে বাঙালির আত্মত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এদিন। আজ থেকে ৬৮ বছর আগে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন উৎসর্গ করার অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন বাংলা মায়ের অকুতোভয় সন্তানেরা। এই অনন্য ইতিহাসকে স্বীকৃতি দিয়ে ইউনেসকো ১৯৯৯ সালে দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। সেই থেকে বাঙালির আত্ম-অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের দিনটি সারা বিশ্বেই পালিত হয়ে আসছে।

তৎকালীন সময়ে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ অন্যায়ভাবে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাঙালির ওপরে চাপিয়ে দিতে ঘোষণা দিলেন, ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’। বিক্ষোভে ফেটে পড়ে পূর্ববাংলার ছাত্র-জনতা। প্রতিবাদের লড়াইয়ে সর্বপ্রথম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলার ছাত্রসমাজ এই ঘোষণার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ঢাকার রাজপথে। ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ স্লোগানে প্রকম্পিত করে সারা পূর্ববাংলা।

১৯৫২ সালে সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিছিল করে এগিয়ে যেতে থাকলে তাঁদের ওপর গুলি চালানো হয়। ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হয় রফিক, শফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ নাম না জানা অগণিত শহীদের রক্তে। মায়ের ভাষার অধিকার ও রাষ্ট্রভাষা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ছিল বীর বাঙালি জাতির লড়াই-সংগ্রাম আর বীরত্বের গৌরবগাথা অধ্যায়।

রাষ্ট্রভাষার সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রাখার কারণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কারাবরণ করতে হয়। শহীদের রক্তে রঞ্জিত অমর একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির আত্মপ্রতিষ্ঠা, আত্মবিকাশ ও আত্ম-বিশ্লেষণের দিন।

বাঙালির আত্মগৌরবের স্মারক অমর একুশের গৌরবময় এদিনে জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে মহান ভাষা শহীদদের, যাদের আত্মত্যাগে আমরা পেয়েছিলাম মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার। যাদের ত্যাগে বাংলা বিশ্ব আসনে পেয়েছে গৌরবের অবস্থান।

একুশের প্রথম প্রহর থেকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হচ্ছে মহান ভাষা শহীদদের। দিবসটি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।বরিশালে দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েছে।

একুশে ফেব্রুয়ারির প্রাক্কালে ২০ ফেব্রুয়ারি শনিবার বিকাল ৪ টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একুশের আলপনা আকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক বরিশাল জসীম উদ্দীন হায়দার। এসময় উপস্থিত ছিলেন এনডিসি বরিশাল মোঃ নাজমূল হুদা, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত বিশ্বাস দাস, শিক্ষাবিদ অধ্যাপিকা শাহ সাজেদা ।

শুরুতে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক রঙ তুলি দিয়ে আলপনা করার মাধ্যমে একুশের আলপনার উদ্বোধন করেন পরে সকলে উপস্থিতিতে একুশে ফেব্রুয়ারির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আলোচনা করেন। বিভিন্ন রঙে, রেখায়, ডিজাইনের এই আলপনায় মূর্ত হয়ে উঠেছে বরিশাল নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *