নাগরিক রিপোর্ট:
বরেন্য শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মো: হানিফ আর নেই। তিনি সোমবার রাত ১০টায় রাজধানীর ইবনে সিনা হাসাতালে বার্ধক্যজনিত কারনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি…. রাজেউন)। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। ৪ পুত্র, দুই কন্যাসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন অধ্যক্ষ হানিফ। এদিকে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা শেষে তাকে মঙ্গলবার বাদ আছর পর বরিশাল নগরীর মুসলিম গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে।তার জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নিয়ে চোখের জলে বিদায় জানিয়েছেন বরিশালবাসী।
দক্ষিনাঞ্চলে শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে আলোর বাতিঘর অধ্যক্ষ হানিফ এর ভুমিকা ছিল সীমাহীন। তিনি বরিশালের ঐতিহ্যবাহী ব্রজমোহন কলেজ (বিএম), সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ, বরিশাল ইসলামিয়া কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ছিলেন।
তিনি একাধারে যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়, জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় এর সিন্ডিকেট সদস্য ছিলেন। চাকুরী থেকে অবসরের পরও তিনি শিক্ষা সংক্রান্ত কাজে জড়িয়ে ছিলেন।
বরিশাল বিশ^বিদ্যালয় ও বরিশাল শিক্ষাবোর্ড প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অগ্রনী ভুমিকা পালন করেছেন তিনি। ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলেন বিভিন্ন সংগঠনে। বরিশালের অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং সামাজিক সংগঠন গড়ার কারিগর অধ্যক্ষ মো: হানিফ সর্বজন শ্রোদ্ধেও ছিলেন। নিজ জেলা ভোলাসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন। দেশের বিভিন্ন সেক্টরে তার ছাত্র থাকায় সারাদেশই অধ্যক্ষ হানিফের সুনাম ছিল অবর্ননীয়।
মঙ্গলবার বেলা ২টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হলে অধ্যক্ষ মো. হানিফের মরদেহে নাগরিক শ্রদ্ধা জানানো হয়। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ছাদেকুল আরেফিন, সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, আওয়ামীলীগ, বিএনপি, বরিশাল প্রেস ক্লাব, বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
বিকালে মরদেহ নেয়া হয় তার কর্মজীবনের স্মৃতিবিজরিত ব্রজমোহন কলেজে। আছরের নামাজের পর সেখানে জানাজা শেষে মুসলিম গোরস্থানে চিরশায়িত করা হয় অধ্যক্ষ হানিফকে।
