অভয়াশ্রমে নিষেধাজ্ঞা: কড়াকাড়িতেও চলছে জাটকা নিধন

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট:
ইলিশের অভয়াশ্রমে নিষেধাজ্ঞার প্রথমদিনে নদ নদীতে করাকরি অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। মৎস্য অধিদপ্তরের নেতৃত্বে ইতোমধ্যে জাটকা নিধনের অভিযোগে ৭জনকে আটক করা হয়েছে। জাটকা ও নিষিদ্ধ জাল উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমান। এরপরও থেমে নেই জাটকা ধরা। মেঘনার শাখা নদীগুলোতে দেদারছে নিধন চলছে জাটকা- এমনটাই জানা গেছে স্থানীয় সুত্রে। মৎস্য অধিদপ্তর দাবী করেছে, সাগরের মত বিশাল নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করা সম্ভব নয়, সংকট সত্বেও তারা কেবল নদীগুলো নিয়ন্ত্রনে রাখার চেস্টা করছেন। প্রসঙ্গত, জাটকা ইলিশ পূর্নাঙ্গ রুপ দিতে মৎস্য অধিদপ্তর ৫টি অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ ঘোষণা করেছে। ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত টানা দুই মাস এ নিষেধাজ্ঞা চলবে।

অভয়াশ্রমে নিষেধাজ্ঞার মুল উদ্দেশ্যে হলো জাটকা রক্ষা করে বড় ইলিশে পরিনত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। সে অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার মধ্যে অন্য মাছ আহোরনের অজুহাতে জেলেরা নদ নদীতে নেমে যাতে জাটকা নিধন করার সুযোগ না পায় সেজন্য দেশের ৫টি অভয়াশ্রমের জলসীমার মধ্যে সব ধরনের মাছ আহোরন বন্ধ রাখা হয়েছে। ২০১৯ সালে মেঘনা, আড়িয়াল খাঁ, নয়াভাঙ্গুলী গজারিয়া ও মেঘনার আশিংক নিয়ে বরিশালের আওতাধীন ষষ্ঠ অভায়াশ্রম ঘোষণা করা হয়।

৬ষ্ঠ অভয়াশ্রম সংলগ্ন মেঘনা ঘেরা মেহেন্দীগঞ্জ ও হিজলায় খোজ নিয়ে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা সত্বেও জেলেরা মাছ ধরতে নামছে। ভোর হতেই নিষিদ্ধ জালে জাটকা নিধন চলে চোরাগোপ্তা। অবশ্য হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আ: হালিম জানান, প্রথম দিনে মেঘনা নদী ফাঁকা। জেলেরা নামছে না তেমন একটা। অভিযানে কিছু জাল আটক করা হয়েছে। মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, জনবল সংকট ও বরাদ্ধ না থাকায় এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সমস্যা প্রকট আকার দেখা দিয়েছে। তারপরও তারা কাজ করে যাচ্ছেন।


সোমবার কালাবদর নদীতে অভিযানে থাকা বরিশালের মৎস্য কর্মকর্তা (হিলসা) ড. বিমল চন্দ্র দাস বলেন, নদীতে অভিযান চালিয়ে আ: জলিল, সুজন, ফারুক, খলিল হাওলাদার নামে ৪ জেলেকে আটক করা হয়েছে। এসময় ১৫ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও ৫ কেজি জাটকা উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, শুরুতে নিষেধাজ্ঞায় করাকরিভাবে অভিযান চলছে।

বরিশাল সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জিব সন্যামত বলেন, অভয়াশ্রমে নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনে সোমবার বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর শহীদ আবদুর রব সেরিনয়াবাত সেতু সংলগ্ন টোলে চেকপোস্ট বসিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে ৪০০ কেজি জাটকা উদ্ধার করা হয়। এসময় আটক করা হয় গাড়ির ৩জন স্টাফ মো: রনি, রেজাউল, সোহেল খানকে।

এসব বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আনিছুর রহমান তালুকদার বলেন, জেলায় নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনে সোমবার ৭জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জনকে জেল ও ১ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। বরিশাল জেলায় ১০ হাজার মিটার জাল ও ৪০০ কেজি জাটকা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া পটুয়াখালী জেলায় ১০ হাজার মিটার জাল উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, নিষেধাজ্ঞা সত্বেও জেলেরা নদীতে নামছে। মেঘনা সমুদ্রের মতই বিশাল। কিন্তু তারা নিয়ন্ত্রনে রাখার চেস্টা করছেন। মৎস্য কর্মকর্তা আনিচুর বলেন, জনবল সংকট বরাদ্ধ সংকট থাকলেও বিভাগের মৎস্য কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।


উল্লেখ্য, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ৫টি অভয়াশ্রমের সীমানা হচ্ছে- বরিশাল সদর উপজেলার কালাবদর নদীর হবিনগর পয়েন্ট থেকে মেহেন্দিগঞ্জের বামনীরচর, গজারিয়া নদীর হাটপয়েন্ট থেকে হিজলা লঞ্চঘাট. হিজলার মৌলভীরহাট পয়েন্ট থেকে মেহেন্দিগঞ্জ সংলগø মেঘনার দক্ষিণ-পশ্চিম জাঙ্গালিয়া পয়েন্ট পর্যন্ত মোট ৮২ কিলোমিটার নদ-নদী।

একইভাবে চর ইলিশার মদনপুর থেকে ভোলা জেলার চরপিয়াল পর্যন্ত মেঘনা নদীর শাহাবাজপুর চ্যানেলের ৯০ কিলোমিটার, ভোলা জেলার ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালী জেলার চররুস্তুম পর্যন্ত তেতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার, চাঁদপুর জেলার ষাটনল থেকে লক্ষীপুর জেলার চর আলেকজেন্ডার পর্যন্ত মেঘনা নদীর ১০০ কিলোমিটার এবং শরীতপুর জেলার নুরিয়া থেকে ভেদরগঞ্জ পর্যন্ত নি¤œ পদ্মার ২০ কিলোমিটার। এর আগে মোট ৬টি অভয়াশ্রমের মধ্যে আন্ধারমানিক নদীর ৪০ কিলোমিটারে নিষেধাজ্ঞা পালিত হয়েছে ১ নভেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *