মেয়র হিরনকে ভুলেনি বরিশালবাসী, ভুলেছে দল

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট:
আধুনিক বরিশাল নগরী গড়ার কারিগর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরন এর মৃত্যুবার্ষিকী ছিল শুক্রবার ৯ এপ্রিল। সেই হিরনকে আজও ভুলতে পারেনি বরিশালবাসী। এখনও নগরীর আনাচে কানাচে হিরনের কথাই শোনা যায় সাধারনের মুখে। কিন্তু যে দলের জন্য এই নগরীতে সংগ্রাম করেছে সেই আওয়ামী লীগ মৃত্যুবার্ষিকীতে কোনভাবেই স্মরন করেনি হিরনকে। হিরন বরিশাল নগর আ’লীগের সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের জনপ্রিয় মেয়র ছিলেন।


২০১৪ সালের ২২ মার্চ বরিশালে গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পরেন মেয়র শওকত হোসেন হিরন। তাকে সিঙ্গাপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেয়া হলেও দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। একই বছরের ৯ এপ্রিল তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। জনপ্রিয় এ নেতার অসুস্থতার সেই দিনকে স্মরন করে নেতাকর্মী ও ভক্তরা সামাজি যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নানা আবেগঘন মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে দোয়া মিলাদও করেছে।


শুক্রবার ভোর থেকেই প্রয়াত মেয়র হিরনকে স্মরন করে নানা আবেগঘন মতমাত দেন নানা শ্রেনীপেশার মানুষ। শিক্ষক নেতা মহসিন উল ইসলাম হাবুল ফেসবুকে উল্লেখ করেন ‘প্রতি ক্ষনে ক্ষনে তুমি আছো বরিশালবাসীর হৃদয়জুড়ে।’ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাড. বলরাম পোদ্দার উল্লেখ করেন, ‘জীবনানন্দের এই শহরে বরিশালে এক স্বপ্নবাজ মানুষ ছিলেন হিরন।’ জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ইকবাল হোসেন তাপস ফেসবুকে লেখেন, ‘প্রতিক্ষনে অপেক্ষায় ছিলাম কেউ একজন এসে বলবে হিরন ভাইর জ্ঞান ফিরেছে।’ আ’লীগ নেতা সৈয়দ মনির উল্লেখ করেন, ‘তুমি রবে প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে।


কেন এতো জনপ্রিয় ছিলেন প্রয়াত মেয়র? এর জবাব পাওয়া গেছে বরিশাল নগরীর সাধারন মানুষের কাছ থেকে। নগরীর কীর্তনখোলা তীরের চায়ের দোকানী হানিফ মিয়া বলেন, তিনি এক যুগ ধরে এখানেই চা বিক্রি করনে। হিরন ভাই মাঝে মাঝে নদীর তীরে আসলে মগ ভরে চা পান করতেন। একজন সহজ মানুষ ছিলেন তিনি এমনটাই বললেন আবেগে গলা জড়িয়ে আসা হানিফ। নগরীর গোরাচাঁদ দাস রোড থেকে চৌমাথা আশা অটোরিকশা চালক রমিজ উদ্দিন বলেন, এই অটোর মাধ্যমে তার জীবিকা অর্জন হয়। হিরন ভাই সুযোগ দিলেও এখন নগরীতে অটো চালানোই দায়। চাঁদা না দিলে গাড়ি বন্ধ রাখতে হয়।


এদিকে শওকত হোসেন হিরনের মৃত্যুবার্ষিকীতে মহানগর আওয়ামী লীগ কিংবা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কোন কর্মসুচী নেয়া হয়নি। কোনভাবেই তাকে স্মরন করেনি তার দল। জানতে চাইলে মহানগর আ’লীগের সহ সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু শুক্রবার বলেন, এখন পর্যন্ত কোন কর্মসুচী নেয়া হয়েছে কিনা তা জানা নেই। তিনি সভাপতির সাথে কথা বলবেন। অপর সহ সভাপতি আনোার হোসাইন বলেন, নগর আ’লীগের সাবেক সভাপতির মৃত্যুবার্ষিকেতে দল কোন আয়োজন রাখেনি। হয়তো করোনার কারনেই রাখা হয়নি।


জানা গেছে, হিরনের পারিবারের পক্ষ থেকে বাসায় দোয়া মিলাদ ও গোরস্থান মাদ্রাসায় ছাত্রদের নিয়ে মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে। বিএম কলেজ ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল আহমেদ মুন্না বলেন, দল কি করবে তা তার জানা নেই। তবে তিনি নথুল্লাবাদে মসজিদে মিলাদের আয়োজন করেছেন। বিভিন্ন মসজিদে হিরনের ভক্তদের মিলাদের আয়োজন করতে দেখা গেছে। তার সহধর্মীনী সাবেক এমপি জেবুন্নেছা আফরোজের নামে নগরীতে কয়কটি ব্যানারও দেখা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *