সৈয়দ জুয়েল:
দিন যতই যাচ্ছে ততোই করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের হার বাড়ছে হু হু করে। আইসিইউ সংকট, অক্সিজেন সংকট, ডাক্তার, নার্স, বিছানা, কোন কিছুই ঠিক নেই।
কিন্তু করোনা মোকাবিলায় এক বছরের বেশি সময় পেয়েছিলো বাংলাদেশ। এর মাঝে অনেকটা গুছিয়ে নেয়া অসম্ভব ছিলনা। করোনায় ইউরোপ, আমেরিকা যখন লাশ গুনতে হিমশিম খেয়েছে, তখন বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি যথেষ্ট ভাল ছিলো। বহির্বিশ্বের এ অবনতি দেখেও ততটা গায়ে মাখেনি দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ।
যার জন্য আজ করোনা রোগীরা হাসপাতাল থেকে হাসপাতাল ছুটছেন একটি বিছানার জন্য, একটু অক্সিজেনের জন্য। চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। মৃতের সংখ্যা যত দীর্ঘ হচ্ছে-স্বাস্থ্য বিভাগের রুগ্ন দশা ততই বেড় হচ্ছে। সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশ করোনা রোধে উল্লেখযোগ্য কোন কাজই করেনি। যেভাবে চলছে, এভাবে যদি আরো কিছুদিন চলতে থাকে, তাহলে প্রতিটি বাড়ী থেকে যে কান্নার রোল বইবে, সেই শোক কিভাবে সইবে প্রিয়জনরা!
সময় কি এখনো আছে সতর্ক হওয়ার? সে সময়ও বোধহয় খুব দেরি হয়ে গেছে। মৃত্যুর আগে একটু চিকিৎসা পেলে পরিবারও সান্তনা পায়-চেষ্টা তো করেছিলাম! কিন্তু বিনা চিকিৎসায় যখন কেউ মারা যায়, সে পরিবারের সদস্যরা রাষ্ট্রের দূর্বল স্বাস্থ্য বিভাগ তথা দেশ পরিচালনার কর্তা ব্যাক্তিদের কি আদৌ শ্রদ্ধার চোখে দেখবে!
নাগরিকের মৌলিক অধিকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো স্বাস্থ্য সেবা। সেই সেবা থেকে কেউ বঞ্চিত হলে তার দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে। জনগন সরকারের মেগা প্রজেক্ট গুলোয় এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ বলে যেমন বাহাবা দেয়,তেমনি কোন বিভাগে জনসেবা পুরোপুরি ভেঙ্গে পরলে সেখানেও সরকারকে সচেতনতা ও ব্যার্থতার অভিযোগে আঙ্গুল তুলে কথা বলার যৌক্তিক অধিকার জনগনের রয়েছে।
যাদের পরিশ্রমের ফসল এ বাংলাদেশ, সেই সন্মানিত জনগন বিনা চিকিৎসায় ছটফট করে মারা যাবে,আর অসহায় পরিবারগুলো দেশের স্বাস্থ্য বিভাগের গুন কীর্তন করবে,এ ভূল কথাটি যেন সরকার বিশ্বাস না করে। স্বাধীনতার পর থেকে কোন সরকারই স্বাস্থ্য খাতের স্বাস্থ্য ভাল করতে পারেনি। সরকারি হাসপাতালগুলোয় দুর্গন্ধ ভেসে বেড়ায় প্রতিটি জায়গায়, শৌচাগারে মেথর পর্যন্ত ঢুকতে ভয় পায়।
রোগীদের খাবার সুস্থ মানুষ খেলেও অসুস্থ হয়ে পরবে। এ যখন অবস্থা,তখন এ সরকারি হাসপাতালগুলো থেকে জনগন দুর্গন্ধ পেলেও সেবাটা আর পাবে বলে মনে হয়না। অথচঃ প্রতি বছরের বাজেটে বড় একটি অংশ ব্যায় হয় এই স্বাস্থ্য খাতে। তাহলে অর্থ যায় কোথায়! প্রশ্ন ঘুরপাক খায় বোকা রাখাল বালকেরও মনে।
ভগ্নদশা, রুগ্নদশা, করুনদশার এ স্বাস্থ্য বিভাগকে এখনও যদি পুরো ঢেলে সাজানো না হয়,তাহলে আগামী দিনে সরকারের সকল অর্জন-ব্যার্থতার চাদরে যেন ঢেকে না যায়। সতর্ক, সচেতন ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এখনই।
