নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশালের হিজলা উপজেলায় পুলিশের মোটর বহরের ধাওয়ায় সামশুল হক সরদার (৫৫) নামে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যার আগ মুহুর্তে উপজেলার মৌলভিরহাট বাজার সংলগ্ন মোবাইল টাওয়ার এর সামনে থেকে পুলিশের গাড়ি বহর দেখে দৌড়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে মারা যায়। হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক জানিয়েছেন সম্ভবত ওই ব্যক্তি ভয়ে হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছেন। ময়নাতদন্ত করলে প্রকৃত কারন যানা যাবে।
উপজেলার পূর্ব গুয়াবাড়িয়া মৌলভিরহাটের ৮ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ইব্রাহিম মোল্লা বলেন, পুলিশ বিকেলে ২০-২৫টা মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দিচ্ছিল। পিছনে একটি গাড়িও ছিল। পুলিশের ধাওয়ায় যে যেভাবে পাড়ে ছুটে যায়। মহড়া যখন মৌলভিরহাট বাজারের মোবাইল টাওয়ারে কাছে আসে তখন পুুলিশের ধাওয়ায় ভয়ে দৌড় দেয় জেলে সামশুল হক সরদার। পরে স্থানীয়রা গিয়ে দেখে সামশুল রাস্তায় পড়ে আছে। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষনা দেয়। তিনি বলেন, মহড়ায় ওসি (তদন্ত) তারেককে তিনি দেখেছেন। পুলিশ ধরধর করে ধাওয়া দিয়েছিল। এতে বাজারে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ইউপি সদস্য ইব্রাহিম বলেন, পুলিশের এমনটা করা ঠিক হয়নি।
জানতে চাইলে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা: শাহারাজ হায়াত বলেন, সামশুল হক সরদারকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। মনে হচ্ছে ভয়ে হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছেন তিনি।
মৃত সামশুল হকের চাচাতো ভাই মো: রতন সরদার, তিনি বাজারের অদুরে ছিলেন। হঠাৎ পুলিশের গাড়ি দেখে যে যেভাবে পাড়ে ভয়ে ছুটছে। সামশু পুলিশের আতংকেই মারা গেছে। ওটো রিকশা চালক মনির হোসেন বলেন, মোবাইল টাওয়ারের কর্নারে সাশুল ভাই দাড়ানো ছিল। তিনি ছিলেন সড়কের বিপরীতে। হঠাৎ ২০-২৫টি মটোরসাইকেল ও গাড়ি এসে ধাওয়া দিলে সরু রাস্তা পেড়োতে গিয়ে লাফ দেন সামশুল হক। একটু পরে কয়েকজনে গিয়ে দেখেন সামশু উপরে পড়ে আছে।
এব্যাপারে মহড়ায় থাকা হিজলা থানার ওসি (তদন্ত) তরিকুল ইসলাম তারেক বলেন, শনিবার বিকেলে তারা কাউরিয়া, মৌলভিরহাটসহ কয়েকটি এলাকায় রুটিন মহড়া দিয়েছেন। আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতেই এই মহড়া। তিনি বলেন, পুলিশের গাড়ি সব সময় মহড়া দেয়। এখন কেউ যদি ভয়ে দৌড় দেয় তবে পুলিশের কি করার আছে।
