সৈয়দ জুয়েল:
ক’দিন আগে কর্মরত অবস্থায় আয়ারল্যান্ডে আকরাম হোসেন নামের এক ভাইর মৃত্যু হলো।ফয়জুল্লাহ সিকদার ও জাফর আহাম নামে দুই ভাই স্ট্রোক করে এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মরহুম আকরাম হোসেনের লাশ দেশে নেয়ার প্রস্তুতি চলছে, তার জন্য তার কর্মক্ষেত্র সেন্ট্রা থেকে অর্থ তহবিল গঠনে কাজ করছে তার কলিগরা। সাথে বাংলাদেশিরাও এগিয়ে এসেছেন দেশের মানুষের এক রক্তের টানে।
রক্তের টান আসলেই অদ্ভূত এক টান। প্রবাসে যারা আমরা থাকি নানা কারনে, সেটা দলীয় বা ব্যাক্তিগত কারন, যাই হোক না কেন- আমরা দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পরি।
নিজেকে জাহির করতে অন্যের কুৎসা,অপবাদ,অভিযোগে পর্যুদস্ত করে থাকি। হাল ফ্যাশনে একে অপরের বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্টাটাসও দিয়ে থাকি। কিন্তু কেন এই হীনমন্যতা! একজন বাঙ্গালির মৃত্যুতে আমাদের অন্তরে যে রক্তক্ষরন হয়, জীবিত থাকতে আমাদের একটু ভালবাসা কেন থাকেনা! এখানে তো কেউ কারো অধীন নয়,সবাই স্বচ্ছল।
তাহলে কেন শত্রুতা, কেন একে অপরের পিছনে লেগে থাকা! প্রবাসে মৃত্যু হলে শত শত মাইল দূর থেকে গাড়ী চালিয়ে আমার দেশী ভাইরা কবর পর্যন্ত অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় দেয়,হয়তো এ লোকটির সাথে আমাদের কখনো পরিচয়ও ছিলনা,তারপরও শুধু আসে অজানা এক মায়ার টানে। আজ আমি,কাল আপনি,পরশু আরেকজন, এভাবেই আমরা ধীরে ধীরে ঐ সাড়ে তিন হাত মাটির ঘরের দিকেই যাচ্ছি, সাথে একটু শুভ্র কাপড় নিয়ে। ক্ষনিকের এ যাত্রা বিরতিতে একে অপরকে দেখে মুখ ফিরিয়ে অর্জন কি?
দিন শেষে সেই আপনিই নিজের বিবেকের কাছে লজ্জিত হবেন, হেরে যাবেন মনুষ্যত্বের কাছে। বিবেকের নীশিদিন ভালবাসা সবসময় দংশন করবে আপনার সুপ্ত মনে। আপনার মত আমি কখনোই হতে পারবোনা, আমার মতও আপনি কখনো হতে পারবেননা। এটাই সৃষ্টির রহস্য। পৃথিবীতে আপনি এক প্রতিভা নিয়ে এসেছেন, যা আমার মাঝে নেই,আবার আমার মাঝে যে প্রতিভা রয়েছে,তা আপনার নেই। তাই আপনার কাছেও আমার হারের কিছু নেই,আপনারও নেই। তাহলে কেন বিভেদ? আসুন দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাই।
দূনিয়ার মায়া ত্যাগ করার পর আমাদের জন্য যাদের মায়া থাকবে,তারাই আমাদের জন্য হাত খুলে দোয়া করবে,হয়তো তখন দু’ফোঁটা চোখের জলও গড়িয়ে পরবে,অবচেতন মন বলে উঠবে-আহ! কত ভাল মানুষ ছিলো। অন্যের অন্তরে মায়া সৃষ্টি করতে অনেক বিনিয়োগের দরকার হয়না,শুধু একটু সন্মান,ভালবাসা। খুব কি বড় কিছু! মৃত্যুর পরে পরম যত্নে যে মানুষগুলো তাদের হাত দিয়ে কবরে এক টুকরো মাটি দিবে আপনাকে, জীবিত থাকতে সেই তাদের বিশ্বস্ত হাতে একটু ভালবাসা আমরা কেন দিতে পারবোনা!
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফয়জুল্লাহ সিকদার ভাই ও জাফর আহাম ভাই আপনাদের সুস্থতার জন্য আমরা পুরো বাংলাদেশ কমিউনিটির প্রতিটি মানুষ অধীর অপেক্ষায় আছি। ফিরে আসুন আমাদের মাঝে। একটি সুস্থ,সুন্দর ভালবাসায় ভরা একটি সমাজ গঠনে আপনাদের সবারই আমাদের অতি প্রয়োজন।
