চাঁদাবাজী মামলার আসামীকে ছাড়াতে আ’লীগ নেতাদের থানা ঘেরাও

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট:
ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক চালকদের কাছ থেকে চাঁদা নেয়ার অভিযোগে বরিশাল নগরীর ২৯ নং ওয়ার্ডের স্থানীয় কতিপয় আ’লীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সম্প্রতি মামলা দায়ের করেন ইজিবাইক সংগ্রাম কমিটির সদস্যরা। ওই মামলার প্রধান আসামি আ’লীগ কর্মী রিপন মাঝীকে রোববার রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনার জেরে দলীয় কর্মীকে ছাড়িয়ে নিতে সোমবার দুপুরে বিমানবন্দর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে মহানগর আ’লীগের প্রভাশালী কয়েক নেতার নেতৃত্বে তাদের কর্মীরা। এমনকি রিপনকে মুক্তি দেয়ার জন্য আল্টিমেটাম ও হুশিয়ারী দেয় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা।

আন্দোলনকারীরা বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারী। যদিও সোমবার সকালেই আদালতের মাধ্যমে রিপনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


জানা গেছে, নগরীর কাশিপুরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় গত ২৯ মার্চ সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সহ সভাপতি গোলাম রসূলসহ বেশ কয়েকজনের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার শিকাররা বাসদ নেত্রী মনীষা চক্রবর্তীর অনুসারী। এ ঘটনায় ৩০ মার্চ বরিশাল বিমানবন্দর থানায় গোলাম রসূল ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কর্মী রিপন মাঝিসহ ৬জনের নামে চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় রোববার রাতে রিপনকে গ্রেফতার করে বিমানবন্দর থানা পুলিশ। পরদিন সোমবার তাকে কারাগারে প্রেরন করা হয়।


এই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার দুপুরে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহামুদ বাবুর নেতৃত্বে কয়েকশ নেতাকর্মী মোটরসাইকেল বহর নিয়ে বিমানবন্দর থানা ঘেরাও করে। প্রায় ১ ঘন্টা তারা বিক্ষোভ সমাবেশে রিপনকে বিকেলের মধ্যে মুক্তির আল্টিমেটাম দেয়। পরে নেতাকর্মীরা নগরীর সোহেল চত্বরে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে।


সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরোয়ার রাজীব, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাইয়েদ আহম্মেদ মান্না, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মিজানুর রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আতিকুল্লাহ মুনিম, সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত প্রমূখ।


এ প্রসঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবু সাংবাদিকদের বলেন, সরকার বিরোধী একটি চক্র আওয়ামী লীগের নেতাকমীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। রিপন বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করা তারই একটি অংশ মাত্র। তাকে মুক্তি না দিলে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।


তবে বাসদ’র বরিশাল জেলা সদস্য সচিব মনীষা চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেন, কাশিপুরে নিরীহ অটোচালকদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করত একটি চক্র। সেই ঘটনায় প্রতিবাদ করায় তার নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হন। এর বিচার চেয়ে মামলা দায়ের করেছেন তার সংগঠনের এক সদস্য। ওই মামলার আসামী রিপন চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে। তিনি বলেন, মামলার আসামীকে ছাড়িয়ে নিতে এভাবে থানার সামনে বিক্ষোভ করায় নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।


কাশীপুর বাজারের স্থানীয় সুত্রগুলো জানিয়েছে, মেহেন্দিগঞ্জ থেকে কাশীপুর এলাকায় এসে বসতি গড়া রিপন মাঝির আওয়ামীলীগে কোন পদ-পদবী নেই। ২৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের কয়েকজন নেতার ছত্রছায়ায় ইজিবাইক থেকে চাঁদা তুলতো সে। ওই ওয়ার্ড নেতারও গতকাল সোমবা থানার সামনের বিক্ষোভে অংশ নেন।


এব্যাপারে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানার ওসি কমলেশ চন্দ্র হালদার বলেন, চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় রিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই মামলায় তদন্ত শেষে পুলিশ শুধুমাত্র আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছে। থানা ঘেরাও ঘটনা অস্বীকার করে ওসি বলেন, দলীয় লোকজন এসেছিলেন। তারা তার সাথে কথা বলে চলে গেছেন। রিপন বিশ্বাসকে মুক্তি দেওয়া না দেওয়া আদালতের ব্যাপার। তাকে আগেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *