নাগরিক রিপোর্ট:
আসন্ন ইউপি নির্বাচনে আধিপত্তকে কেন্দ্রে করে হিজলা উপজেলার হরিণাথপুর ইউনিয়নে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটেছে। রোববার মধ্যরাতে প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে আহত হয়েছে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৫০ জন। ভাংচুর হয়েছে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ কার্যালয়। এ ঘটনায় ওই এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। সোমবার স্থানীয় আ’লীগ বর্ধিত সভায় ৪জনকে বহিস্কারের দাবী তুলেছে।
উপজেলার হরিণাথপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি রুবেল খান জানিয়েছেন, ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর প্রার্থী বর্তমান মেম্বর জহির রায়হান ও অপর মেম্বর প্রার্থী মোক্তার হোসেনের মধ্যে বাদানুবাদ থেকে সংঘর্ষের সুত্রপাত হয়। এর জের ধরে বর্তমান চেয়ারম্যান ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী (স্থগিত নির্বাচনের) আলহাজ্ব লতিফ খান এবং বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক তৌফিক রহমানের (ঘোড়া) সমর্থকরা রাত সাড়ে ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত হরিনাথপুর বাজারে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও হামলা করেছে। গভীর রাতে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, চেয়ারম্যান আলহাজ্ব লতিফ খান বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল হাসানাত এমপি সমর্থক এবং বিদ্রোহী প্রার্থী তৌফিক রহমান স্থানীয় সংসদ সদস্য (বরিশাল- ৪) পংকজ দেবনাথের সমর্থক।
চেয়ারম্যান লতিফ খান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রোববার রাত সাড়ে ৮টায় হরিণাথপুর বাজারে আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে আলোচনা সভা শুরু করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তৌফিক রহমানের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা দলীয় কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এসময় তার (লতিফ) সমর্থকরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। রাত ২টার দিকে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। তিনি বলেন, দলীয় কার্যালয় ছাড়াও তার বসতবাড়ি ও সমর্থকদের কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রাতভর হামলা করেছে তৌফিক রহমানের সন্ত্রাসীরা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও বিদ্রোহী প্রার্থী তৌফিক রহমান বলেন, চেয়ারম্যান প্রার্থীতা নিয়ে কোন সংঘর্ষ হয়নি। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দুই মেম্বর প্রার্র্থী মোক্তার হোসেন ও জহির রহহানের মধ্যে ঝগড়ার জের ধরে তাদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। চেয়ারম্যান লতিফ খান ঘটনা ভিন্নদিকে নিতে এ ঘটনার সঙ্গে তাকে জড়াচ্ছেন। একই উদ্দেশ্যে চেয়ারম্যানের লোকজন দলীয় কার্যালয় ভেঙ্গেছে বলে দাবী করেন তৌফিক রহমান। সংঘর্ষের সময় তিনি হরিণাথপুর বাজারে উপস্থিত ছিলেন বলে জানান।
এ প্রসঙ্গে মেম্বর প্রার্থী মোক্তার হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের টাকা নিয়ে অনিয়ম করায় তিনি রোববার রাতে বর্তমান মেম্বর ও প্রতিদ্ব›িদ্ব প্রার্থী জহির রায়হানের কাছে প্রতিবাদ জানান। এর জের ধরে তার ওপর হামলা হলে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বর্তমান মেম্বর জহির রহমান চেয়ারম্যান লতিফ খানের সমর্থক এবং অপর মেম্বর প্রার্থী মোক্তার হোসেন বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী তৌফিকুর রহমানের সমর্থক।
এদিকে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে সুত্রে জানা গেছে, রোববার গভীর রাতে সংঘর্ষ হলেও সোমবার বেলা ১২টায় প্রথমে তৌফিক রহমানের সমর্থক ৯ জন এ হাসপাতালে ভর্তি হন। এর পরপরই চেয়ারম্যান লতিফ খানের সমর্থক ৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সকলে ইটপাটকেল নিক্ষেপে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সংঘর্ষের ১২ ঘন্টা পর হাসপাতালের ভর্তির কারন জানতে চাইলে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী তৌফিক রহমান বলেন, রাতে হাসপাতালে আসার পরিস্থিতি ছিল না। চেয়ারম্যান লতিফ খান বলেন, তার মোট ১০ জন সমর্থক আহত হয়েছেন। তারমধ্যে একজনকে বরিশাল মেডিকেলে ও ৪জনকে হিজলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এব্যপারে হিজলা থানার অফিসার ইনচার্জ অসীম কুমার সিকদার সোমবার জানান, রাতে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনেছেন। হরিণাথপুর বাজারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কোন পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেননি, গ্রেফতারও নেই বলে জানান তিনি।
এদিকে সোমবার বেলা ১১টায় হিজলা উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপজেলা আওয়ামীলীগের সভায় বিদ্রোহী ৪ চেয়ারম্যান প্রার্থীকে দল থেকে বহিস্কারের দাবী তোলা হয়েছে। উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ টিপু সিকদার জানান, প্রধানমন্ত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিসব উপলক্ষে তারা আলোচনা সভা করেছেন।
ওই সভায় বক্তারা উপজেলার চার ইউনিয়নে নৌকার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী বড়জালিয়া ইউনিয়নের সার্জেন্ট (অব:) মাহমুদ (উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক) ও পন্ডিত শাহাবুদ্দিন ( উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক), মেমনিয়া ইউনিয়নের মাষ্টার নাসির উদ্দিন (উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক) এবং হরিণাথপুর ইউনিয়নের তৌফিক রহমানকে (ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পদক) দল থেকে বহিস্কারের দাবী তোলা হয়েছে।
