সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা: শংকিত দেড় লাখ জেলে

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট:
সাগরে টানা ৬৫ দিন সব ধরনের মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে আজ বুধবার মধ্যরাত থেকে। ইতোমধ্যে দক্ষিনাঞ্চলের ছয় জেলার ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫৪৩জন সমুদ্রগামী জেলেকে নৌযান সরিয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। চলছে উপকূল জুড়ে সচেতনতা। তবে সমুদ্রগামী জেলেরা দাবী করেছেন, দফায় দফায় এভাবে দীর্ঘ মেয়াদের নিষেধাজ্ঞায় তাদের জীবিকা নির্বাহ করা নিয়ে শংকা দেখা দিয়েছে। পরিবার পরিজন নিয়ে অনেকের জীবন চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বরিশাল মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সাগরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের নিরাপদ প্রজননে ৬৫ দিনের এ নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। এ সময়ে সমুদ্রগামী জেলেরা মাসে ৪০ কেজি করে মানবিক খাদ্য সহায়তা পাবেন।


বরিশাল মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপ পরিচালক মো: আনিচুর রহমান বলেন, ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত সমুদ্রে সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫৪৩জন সমুদ্রগামী জেলে রয়েছে। এর মধ্যে ভোলায় সবচেয়ে বেশি ৬৩ হাজার ৯৫৪জন, বরগুনায় ২৭ হাজার ২৭৭ জন, ঝালকাঠী ৪০জন, পটুয়াখালী ৪৭ হাজার ৮৫৮জন, পিরোজপুর ৫ হাজার ৩৯৩ জন এবং বরিশাল জেলায় ১৮২১জন জেলে রয়েছেন।


এই জেলেদের নিষেধাজ্ঞাকালে সাগরে নামতে নিষেধ করা হয়েছে। এজন্য উপকূলীয় এলাকায় সচেতনতা, মাইকিং, পোস্টার সাটানো হয়েছে। কিন্তু দাদন, লগ্নি করায় চোরাই পথে জেলেরা সাগরে নামে। তাদের সমুদ্রে নামায় আড়তদার, ট্রলার মালিকরা। এদের রোধে কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ, নৌবাহিনী সাগর ও উপকূলে থাকবে। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞাকালে তাদের চাল সহায়তা দেয়া হবে। প্রথম কিস্তির ৮ হাজার ২০৬ মেট্রিক টন চাল সরবরাহের প্রস্তুতি চলছে।


উপকূলীয় এলাকা কলাপাড়ার মহিপুর জেলে সমিতির সভাপতি নুরু মাঝী বলেন, মৎস্যজীবীদের কারনেই এ অঞ্চলে মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন ঘটছে। বেড়েছে ইলিশের উৎপাদনও। কিন্তু জেলেদের সে তুলনায় জীবনমান বাড়েনি। বছরের ৭-৮ মাসই কোন না কোনভাবে নিষেধাজ্ঞায় পড়তে হয় জেলেদের। এরপর বাকিটা সময় মাছ ধরে সংসার চালানো কস্টকর। মহিপুরের অধিকাংশ জেলে তীরে ফিরেছেন। ইলিশ ধরার সময় আসছে। কিন্তু জেলেরা সাগরে যেতে পারছে না। এই জেলেদের চাল সহায়তা কবে আসবে তার নিশ্চয়তা নেই বলে জানান নুরু মাঝি।


ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরার জেলে রহিম মাঝি, মোহাম্মদ আলী জানান, মাছ ধরেই তাদের জীবন জীবিকা চলে। কিন্তু অভয়াশ্রমের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ওঠার পরপরই সমুদ্রে ৬৫দিনের নিষেধাজ্ঞা। তারা সমুদ্রে মাছ ধরায়ও অভ্যস্ত। যেকারনে এভাবে জীবন চালানো কস্টকর হয়ে পড়েছে।


বরিশাল ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী উন্নয়ন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইসরাইল পন্ডিত সাংবাদিকদের বলেন, এ অঞ্চলের জেলেরা মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা, অভয়াশ্রমে নিষেধাজ্ঞা, জাটকা নিধন রোধে নিষেধাজ্ঞাসহ নানা বিধিনিষেধে থাকেন সারা বছর। নতুন করে সমুদ্রে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞায় জেলেদের জীবন জীবিকা চালানো কঠিন হয়ে যায়। তিনি ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা আওতাভুক্ত জেলেদের খাদ্য সহায়তা দেয়ার আহবান জানান।


এব্যপারে বরিশাল মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা (ইলিশ) ড. বিমল চন্দ্র দাস বলেন, বুধবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে সমুদ্রে সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত এটি সমুদ্রসীমা এলাকায় কার্যকর করা হবে। এর উদ্দেশ্য হলো মৎস্য প্রজনন মওসুমে মাছের আহরণ বন্ধ করা, যাতে মাছের প্রজনন ঠিক মতো হয়।


মৎস্য কর্মকর্মকর্তা ড. বিমল বলেন, জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার নানা পরিকল্পনা করছে। ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞায়ও সমুদ্রগামী জেলেরা ৪০ কেজি করে চাল পাবেন। সাগরে মাছের উৎপাদন বাড়াতে এমন বিধিনিষেধ মেনে চলার আহবান জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *