প্রেমিকের ছুরিকাঘাতে শেবাচিম হাসপাতালে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়ের (ববি) এক ছাত্রীকে ছুরিকাঘাত করেছে তার প্রেমিক। আহত ছাত্রীকে স্থানীয়রা শেবাচিম হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করেছে। গত রবিবার বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কাটাদিয়া বাড়ৈকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের ছাত্রী এবং বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের কালিদাশিয়া গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত বখাটে মোহাম্মদ ইব্রাহিম পেশায় একজন ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল চালক এবং সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর পুত্র।


জানা গেছে, ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে ছাত্রীর সঙ্গে ইব্রাহিমের প্রেমের সম্পর্ক হয়। কিন্তু ইব্রাহিম যে বিবাহিত ছিল তা গোপন রাখা হয়। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রীর অন্যত্র বিয়ে হয়। সম্প্রতি ছাত্রী বাবার বাড়িতে সন্তান নিয়ে বেড়াতেন আসলে ইব্রাহিম ফের সম্পর্ক গড়ার চেস্টা করেন। তাতে রাজি না হওয়ায় রবিবার ছাত্রীর মুখে ছুরিকাঘাত করে বখাটে ইব্রাহিম।


শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা: সাইফুল ইসলাম বলেন, রবিবার ওই ছাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার মুখে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে তার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।


হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ওই ছাত্রী মঙ্গলবার জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার পথে তার সঙ্গে মোহাম্মদ ইব্রাহিমের পরিচয় হয়। বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর ছেলে মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তিনি পেশায় একজন ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল চালক। পরিচয় থেকে ইব্রাহিমের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়। তবে ইব্রাহিমের আগে বিয়ে হওয়ার বিষয়টি গোপন ছিল। পরিবার সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে তাকে ঢাকার এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেন। এরপর তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে তাদের সংসারে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। নতুন করে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া শুরু করেন তিনি।


ছাত্রী জানান, ইব্রাহীমের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় সে হুমকি দিয়ে আসছিল। রবিবার স্বজনদের নিয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলার গ্রামের বাড়িতে যান ওই ছাত্রী। সেখান থেকে ফেরার পথে প্রেমিক ইব্রাহিম কাটাদিয়া বাড়ৈকান্দি এলাকায় তাকে ছুরিকাঘাত করে। স্থানীয়রা ছাত্রীকে উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করেন। বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আলাউদ্দিন মিলন বলেন, তিনি এ বিষয়টি জানেন না। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


এ বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর সুব্রত কুমার দাস বলেন, তিনি এমন একটি বিষয় তিনি সোমবার রাতে শুনেছেন। সংশ্লিস্ট বিভাগও খোজ নিয়েছেন কিন্তু কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, হাসপাতালে খোজ নিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *