নাগরিক রিপোর্ট:
প্রানঘাতী করোনা সংক্রমন রোধে লকডাউনকে কেন্দ্র করে বরিশালে সাধারনের মাঝে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কিভাবে গন্তব্যে ফিরবে, কি কেনাকাটা করবে, কি হবে- এমন নানা চিন্তায় নগরবাসীর দিনভর ছোটাছুটির যেন শেষ ছিল না। যেকারনে বাজারে যেমন ভীর ছিল, তেমনি অভ্যন্তরীন রুটে মানুষের চাপ ছিল চোখে পড়ার মত। বিধিনিষেধ সত্তে¡ও বাড়তি ভাড়া গুনেও রাজধানীতে আসা-যাওয়া থামছে না। অনেকেই লকডাউনের খবরে আগাম কেনাকাটা করায় বেড়ে গেছে কোন কোন পন্যের দাম। এদিকে করোনা রোধে শনিবার সর্বস্তরের নাগরিককে নিয়ে সভা করেছেন বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।
শনিবার বিকেলে নগরভবনে অনুষ্ঠিত সভায় অনলাইনে যুক্ত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম, পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান, বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দারসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগন। এসময় মহানগর আ’লীগের সভাপতি অ্যাড. এ কে এম জাহাঙ্গির, জামে এবায়দুল্লাহ মসজিদের পেশ ইমাম নুরুর রহমান বেগ, প্যানেল মেয়র রফিকুল ইসলাম প্রমূখ।
সভায় করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে শেবাচিম হাসপাতালের সেবা বৃদ্ধি অক্সিজেন নিশ্চিত করনের তাগিদ দেয়া হয়। করোনা সংক্রমন রোধে লকডাউনকালে ঘরের বাহিরে না বের হওয়ার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহবান জানানোও হয়েছে।
এদিকে লকডাউন ঘোষনার খবরে বরিশাল নগরীর চকবাজার, পিয়াজপট্টি, বাজার রোড, পোর্টরোডে কেনাকাটার ভীর ছিল ব্যাপক। নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ এসে বাড়তি কেনাকাটা শুরু করে।
নগরীর বাজার রোডের মুদি দোকানে নিত্যপন্য ক্রয়ে আশা শামিমা জাহান নামে এক নারী বলেন, লকডাউনে ঘর থেকে বেড় হওয়া যাবে না। তাই আগেভাগে কিনে রাখছেন। তবে বাজারে পন্যের দাম বেশি বলে তিনি দাবী করেন। একই অবস্থা দেখা গেছে পিয়াজ পট্টিতে।
এদিকে বরিশাল নৌবন্দের শনিবার সকালেও অভ্যন্তরীন রুটে লঞ্চ চলাচল করতে দেখা গেছে। ভোলা, মেহেন্দীগঞ্জ রুটে ব্যাপক মানুষকে বরিশাল ছাড়তে দেখা গেছে। ইসরাইল হোসেন নামে ভোলার এক বাসিন্দা বলেন, বরিশালে তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। সোমবার থেকে লকডাউন জারি হওয়ায় বাড়ি যাচ্ছেন। বিআইডবিøউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরির্দশক বলেন, শনিবার পর্যন্ত অভ্যন্তরীন রুটে যাত্রীর বাড়তি চাপ ছিল। কিন্তু রবিবার কি হবে তা এখনও জানতে পারেননি।
বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও রুপাতলী বাস টার্মিনালেও অব্যন্তরীন রুটে যাত্রী চাপ ছিল ব্যাপক। তবে এসব পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধির বালাই ছিল না। অনেকে আবার থ্রি হুইলারের মাধ্যমে বাড়ি ফিরছেন। নথুল্লাবাদ খোজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর অনেকেই মাওয়া থেকে মাইক্রো, মোটরসাইকেলে বাড়তি ভাড়ায় বরিশালে পৌছেছেন। এদের মাধ্যমে করোনা সংক্রমনের আশংকা থাকলেও শনিবার সড়কে প্রশাসনের তেমন কোন তৎপরতা ছিল না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক ডা: বাসুদেব কুমার দাস জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৭৪ জনের। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা এখন ১৬ হাজার ৮৬৮। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছিল ১২১ জনের। তিনি করোনা সংক্রমন রোধে লকডাউন মেনে চলতে সকলের প্রতি আহবান জানান।
