এখনও খাবার সংকটে শেবাচিম হাসপাতালের রোগী ও স্বজনরা

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট:
রোববার বেলা ১টায় শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয (শেবাচিম) হাসপাতালের সংলগ্ন বাঁধ রোডে হন্য হয়ে খাবার খুজছিলেন ঝালকাঠীর রাজাপুর উপজেলার পুটিয়াখালী গ্রামের তোফায়েল আহমেদ। জানতে চাইলে তিনি বললেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পিতার সঙ্গে থাকা তারা ৩ জন শনিবার রাত থেকে না খেয়ে আছেন। হোটেল বন্ধ থাকায় খাবার কিনতে পারছেন না তারা।

তোফায়েল আহমেদের বাবা মুক্তিযোদ্ধা সুলতান হোসেন গত ৫দিন যাবত শেবাচিম হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে চিকিৎসাধীন।
একই সময়ে দেখা হয়ে আরেক রোগীর স্বজন পিরোজপুরের স্বরূপকাঠী উপজেলার তাপস সুতারের সঙ্গে। নিজে অভূক্ত হলেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পিতা স্যুপ খেতে চাওয়ায় তা কেনার জন্য হোটেল খুঁজছেন। তাপস জানালেন পিতার সঙ্গে থাকা তিনিসহ তার আরেক ভাইও শনিবার রাত থেকে না খেয়ে আছেন।


স্থানীয় প্রশাসন শনিবার রাত থেকে নগরীর খাবার হোটেলগুলো বন্ধ করে দেয়ায় তোফায়েল আহম্মেদ ও তাপস সুতারের মতো শেবাচিম হাসপাতালেল কয়েক হাজার মানুষ খাবার সংকটে ভুগছেন। হাসপাতাল থেকে শুধুমাত্র রোগীদের খাবার সরবরাহ করা হলেও মান সম্মত না হওয়ায় বেশীরভাগ রোগী তা গ্রহন করেন না বলে জানা গেছে। দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান এ হাসপাতালটিতে প্রতিদিন দেড় সহ¯্রাধিক রোগী থাকেন। তাদের সঙ্গে স্বজন থাকেন কমপক্ষে ৩ জন।


গত দুই দিন যাবত তাদের খাবার সংকট নিয়ে অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে শনিবার বেলা ২টার দিকে পুলিশ প্রশাসন হোটেল মালিকদের শুধুমাত্র খাবারের পার্সেল বিক্রির অনুমতি দিয়েছেন। কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।


শেবাচিম হাসপাতাল সংলগ্ন বান্দ রোডে ‘নন্দীনি’ হোটেলের মালিক পবিত্র দেবনাথ বলেন, বাঁধ রোডের ৯টি খাবার হোটেলই এ হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের প্রধান ভরসা। শুক্রবার রাতে পুলিশ সদস্যরা পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত হোটেলগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।


পবিত্র দেবনাথ বলেন, শনিবার সকাল থেকে খাবার সংকটে রোগীদের স্বজনদের দূর্ভোগ দেখে হোটেল মালিকরা ৮টি বড় ড্যাগে খিচুরী রান্না করে বিনামূল্যে বিতরণ করেছেন। রোববার সকালেও একই অবস্থা হলে আরও ৫০ কেজি চাল ও ১৫ কেজি ডাল দিয়ে খিচুরী রান্না করে বিতরণ করা হয়।


ভাই ভাই হোটেল মালিক রিয়াজ বলেন, শেবাচিম হাসপাতালে রোগী ও স্বজন মিলিয়ে প্রতিদিন ৫ সহ¯্রাধিক মানুষ থাকেন। রোববার তারা খিচুরীর ১ হাজার প্যাকেট করেছেন। বেশীরভাগ স্বজনরাই খিচুরী না পেয়ে ফিরে গেছেন।
এ বিষয়ে শেবাচিম হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা: আ: রাজ্জাক বলেন, রেস্তোরা বন্ধ করেছে প্রশাসন। এক্ষেত্রে তাদের কিছু করার নেই।


প্রসঙ্গত, বরিশাল নগরীতে করোনা সংক্রামন পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় শুক্রবার সার্কিট হাউজ সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির যৌথ সভায় নগরীতে হোটেল রেস্তোরা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *