নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশাল বিভাগে এ যাবৎকালের মধ্যে একদিনে সর্বাধিক করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে রোববার। এদিন বিভাগের ৬ জেলায় ৭২০ জন পজিটিভ শনাক্ত হন। এ দিন নমুনাও পরীক্ষা হয় সর্বাধিক এক হাজার ৮৩৬ জনের। একই সময়ে করোনা শনাক্ত ও উপসর্গসহ মোট ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস জানান, রোববার শনাক্তের বিপরীতে বিভাগে শনাক্তের হার ছিল ৩৮ দশমিক ৬৭। তিনি আরও জানান, ২৪ ঘন্টায় বিভাগে করেনা পজিটিভ শনাক্ত ৫ জন মারা গেছেন। তারমধ্যে পিরোজপুরে ২ জন এবং পটুয়াখালী, বরগুনা ও ঝালকাঠীতে ১ জন করে।
অপরদিকে বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা জে খান স্বপন জানান, রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘন্টায় এ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে মোট ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা সকলে করোনার উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি আরও জানান, হাসপাতালের আরটিপিসিআর ল্যাবে ২৪ ঘন্টায় ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১১৭ জন পজেটিভ শনাক্ত হন। সে হিসাবে শনাক্তের হার ৬২ দশমিক ২৩।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশী সংক্রামিত হচ্ছে বরিশালে। এ জেলাতে পরীক্ষার বিপরীতে অর্ধেকের বেশী পজিটিভ শনাক্ত হচ্ছেন। গত ২৪ ঘন্টায় ৪০৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২১১ জন পজিটিভ শনাক্ত হন। শনাক্তের হার ৫১ দশমিক ৮৪।
ভোলায় সংক্রামনের হার ৪৭ দশমিক ৯৫। ২৪ ঘন্টায় এ জেলাতে ৭৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩৫ জন পজিটিভ শনাক্ত হন। পিরোজপুরে ৩৭৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৬০ পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। শনাক্তের হার ছিল ৪২ দশমিক ৯০।
ঝালকাঠীতে গত দুইদিন সংক্রামন কম থাকলে রোববার বেড়ে গেছে। এদিন পরীক্ষার বিপরীতে ৪২ দশমিক ৫১ জন পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। জেলাতে ৪৪৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৯০ জন পজিটিভ শনাক্ত হন। সক্রামন নি¤œমুখী হয়েছে বরগুনাতে।
এ জেলাতে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার হয়েছে ১৯। ৩০০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৫৭ জন পজিটিভ শনাক্ত হন। সমসংখ্যক রোগী পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে পটুয়াখালীতে। নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল ২৩৬ জনের। এ জেলাতে রোববার শনাক্তের হার ২৪ দশমিক ১৫।
দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র শেবাচিম হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে, এ হাসপাতালের ২০০ শয্যার করোনা ইউনিটে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৯৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। যার মধ্যে ৬৮ জন পজিটিভ শনাক্ত।
