তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রীর আত্মহত্যা, শিক্ষকের বিরুদ্ধে চার্জসীট

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট : বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী নুসরত জাহান নোহা আত্মহত্যার ঘটনায় শিক্ষক শফিকুল ইসলাম সুমনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জসীট) দিয়েছে পুলিশ। একবছর আগে নোহা আত্মহত্যা করার পর তার বাবা সুমন মিয়া আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা দায়ের করেছিলেন শফিকুল ইসলাম সুমনের বিরুদ্ধে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আগৈলঝাড়া থানার উপ পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান বৃহস্পতিবার শফিকুল ইসলামকে একমাত্র আসামী করে সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দেন। আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরোয়ার হোসেন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ্য করা হয়েছে, পরীক্ষায় নম্বর কম পাওয়ায় শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বেত্রাঘাত ও গালিগালাজ করায় অভিমানে নোহা আত্মহত্যা করেছে।
আগৈরঝাড়া উপজেলার খাজুরিয়া গ্রামের সুমন মিয়ার মেয়ে নুসরত জাহান নোহা স্থানীয় দারুল ফালাহ প্রি ক্যাডেট একাডেমীর তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্রী ছিল। অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক। গত বছর ৯ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়ির দোতালায় আড়ার সঙ্গে গামছা পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছে নোহা। পরদিন শিক্ষক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা দায়ের করেন নোহার বাবা।
তবে নোহার মা তানিয়া বেগম নোহাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে একই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর আদালতে পৃথক আরেকটি মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় নোহার বাবা সুমন মিয়া, সৎ মা ঝুমুর জামান ও সুমনের বোন লিপি বেগমককে আসামী করা হয়েছিল। সুমন মিয়া ও তানিয়া বেগমের বিচ্ছেদ হওয়ায় নোহা সৎ মায়ের সঙ্গে থাকতো।
দুটি মামলার তদন্ত শেষে আদালতে দেয়া অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, করোনাকালীন সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার মধ্যে গতবছর ৫ সেপ্টেম্বর নোহার স্কুলে মাসিক পরীক্ষা গ্রহন ও ৯ সেপ্টেম্বর ফল ঘোষণা করা হয়। নোহা ৩০ নম্বর পেয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় শ্রেনিকক্ষে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সামনে তাকে গালিগালাজ ও বেত্রাঘাত করেছেন শিক্ষক শফিকুল ইসলাম। এতে অভিমানে বাড়িতে ফিরে নোহা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *