বরিশালে ইউএনও’র বাংলোর সামনে গোলাগুলি

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে জাতীয় শোক দিবসের ব্যানার খোলা নিয়ে ইউএনও’র বাংলোর সামনে আনসার ও আ’লীগ নেতাকর্মীর মধ্যে গোলাগুলি, হামলার ঘটনা ঘটেছে। জানা গেছে, ওই ব্যানার ছিল পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামিম এমপির। স্থানীয় ক্ষমতানী দলের নেতাকর্মীরা দাবী করেছেন, সদর উপজেলার আনসারদের গোলাগুলিতে সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ সহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। তাদের অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান ও আনসার সদস্যরা গুলিবর্ষন করেছে। রোববার রাত ১১টার দিকে ঘটনার সুত্রপাত হয়। এ ঘটনায় রাত ১২টা থেকে নগরীর সিএন্ডবি রোডস্থ সদর উপজেলার সামনে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সহ¯্রাধিক নেতাকর্মী অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন।


এ প্রসঙ্গে বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান সোভন রাত পৌনে ১টায় জানান, ঘটনার আকস্মিকতায়য় তিনি হতবিহব্বল। তার বাবা-মা করোনায় আক্রান্ত। অথচ একদল লোক তার বাংলোতে গভীর রাতে হামলা করেছে। তিনি জানতে চান আমার বাংলোয় তারা কেন এসেছে। আমার নির্দেশে কেন গুলি হবে। এতো রাতে ৭০ জন লোক কেন আমার বাংলোর চত্বরে এসে জড়ো হয়েছে।


তবে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আতিকুল্লাহ মুনিম জানান, সিটিকরপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমারের নেতৃত্বে কর্মচারীরা সদর উপজেলা চত্বরে এসে ব্যানার, পোস্টার অপসরনের চেস্টা করেন। এসময় সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসাররা বাধা দেন। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান সোভনও তার বাসভবন থেকে বের হয়ে ব্যানার নামানোর কারন জানতে চান। পরে সিটি করপোরেশনের লোকজন এবং ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আলীগের নেতাকর্মীদের বের করে দেয়া হয়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ এসে পরিচয় দিলেও আনসাররা ইউএনও’র নির্দেশে গুলি করেন। এতে মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, মহানগর আ’লীগের যুগ্ন সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবুসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।


তবে স্থানীয় একাধিক সুত্র জানিয়েছে, উপজেলা পরিষদে সাটানো ব্যানার সদর আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর ছিল। মেয়রেরর অনুগত ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীরা ওই ব্যানার খুলতে গেলে প্রথমে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা ও পরে ইউনও এসে বাঁধা দেন। বাঁধা পেয়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীরা ফিরে গিয়ে বিপুল সংখক নেতাকর্মী সংঘবদ্ধ হয়ে পুনরায় উপজেলা পরিষদে ইউএনও’র বাংলোয় হামলা করে। এসময় উভয়পক্ষ থেকে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।


হানগর আওয়ামী লীগের সহ- সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র গাজী নইমুল ইসলাম লিটু বলেন, ইউএনও নিজে সিটি করপোরেশনের কাজে বাধা দেন এবং অশোভন আচরন করেন। তার প্রতিবাদ করলে গুলিবর্ষণ করা হয়।
এব্যপারে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম বলেন, তুচ্ছ ঘটনায় সদর উপজেলায় ঝামেলা হয়েছে। পরে পুলিশ গিয়ে বিক্ষোভ কারীদের সরিয়ে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *