নাগরিক রিপোর্ট : বরিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্র অশ্বিনী কুমার হল চত্বরসহ সর্বত্র জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে স্থাপন করা বিলবোর্ড-ব্যানার এখনও দৃশ্যমান। এগুলো সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারী আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতাকর্মীরা স্থাপন করেছেন।
সদর উপজেলা পরিষদে শোক দিবসের বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেষ্টুন স্থাপন করা হয়েছিল বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব:) জাহিদ ফারুক শামীমের পক্ষে। বুধবার রাতে সিটি করপোরেশনের কর্মী পরিচয়ে ৭-৮টি মোটরসাইকেলে মেয়র অনুসারী যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেগুলো অপসারন করতে গেলে নিরাপত্তারপ্রহরী আনসার সদস্যদের বাঁধা মুখে পড়তে হয়। এটাকে কেন্দ্র করেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবনে হামলা ও পুলিশের সঙ্গে মেয়র অনুসারী আওয়ামীলীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের সঙ্গে রক্তাক্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। যদিও বৃহস্পতিবার জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেছেন, ইউএনওর বাসায়কেউ হামলা করেনি। শান্ত বরিশালকে অশান্ত করতে ইউএনওর নির্দেশে আনসাররা গুলি করেছে।
নগরীতে রাজনৈতিক সচেতন একাধিক সুত্র জানিয়েছে, বরিশাল নগর আওয়ামীলীগের রাজনীতি সিটি মেয়র ও মহানগরের সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর একক নিয়ন্ত্রনে। প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম নগর রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও তার পক্ষে একটি বলয় নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন। যারা বিভিন্ন কারনে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর ওপর বিরাগভাজন। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে সিটি করপোরেশনের ৬ কাউন্সিলর মেয়রের পক্ষ ত্যাগ করে প্রকাশ্যে প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ট হন। মেয়রের ওপর নাখোশ অন্তত আরও ২০ কাউন্সিলর প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে অবস্থান নেবেন এমন গুঞ্জন চলছিল নগরীতে।
বরিশালের রাজনীতি সচেতন মহল মনে করেন, স্থানীয় আওয়ামীলীগের দুই বলয়ের দ্বন্দ্বের জেরেই উপজেলা পরিষদ চত্বরের ঘটনা ঘটেছে। ওই দুইপক্ষের একপক্ষে মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, অপরপক্ষে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম এমপি। তবে বরিশালে আওয়ামী রাজনীতির অভিবাবক খ্যাত সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বাবা বর্ষিয়ান রাজনীতিক (মন্ত্রী) আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি বুধবার রাতের ঘটনার পর থেকে নীরব রয়েছেন। তিনি বরিশালেও নেই। তার প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি।
সুত্রগুলোর মতে, প্রকৃতপক্ষে নগরী পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা নয়, উপজেলা পরিষদে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীমের সমর্থনে স্থাপন করা বিলবোর্ড-ফেষ্টুন অপসারন করে তাকে চাপে রাখাই ছিল মেয়র অনুসারীদের আসল উদ্দেশ্যে। যা শেষ পর্যন্ত রক্তাক্ত সংঘর্ষে গড়ায় এবং প্রশাসন ও বরিশালের আওয়ামীলীগ মুখোমুখি অবস্থানে দাড়িয়েছে। এছাড়া সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ৩ বছর আগে মেয়রের দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে তার সঙ্গে বরিশালের জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর নীরব বৈরী সম্পর্ক চলছিল বলে গুঞ্জন রয়েছে। বুধবার রাতের ঘটনায়ও সেটার প্রভাব পড়েছে।
ওই রাতের ঘটনায় ইউএনও মো. মুনিবুর রহমান বাদী হয়ে দায়ের করা মামলাও উল্লেখ করেছেন, শোক দিবস উপলক্ষে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে স্থাপন করা ব্যানার-ফেষ্টুন অপসারন করতে গিয়েছিলেন মামলার আসামী যুবলীগ-ছাত্রলীগের পদধারী নেতারা। বাঁধা দেয়ায় তারা হামলা করেছেন ইউএনও বাসায়। মামলার হুকুমের আসামী মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।
গতকাল শনিবার নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে গিয়ে দেখা গেছে, জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি সাজ্জাদ সেরনিয়াবাতের স্থাপিত শোক দিবসের বিশাল বিলবোর্ডে ঢাকা পড়েছে বরিশালের ঐতিহ্য অশ্বিনী কুমার হল। সেখানকার প্রবেশের প্রধান দুটি ফটকে স্থাপন করা নোটিশে লেখা রয়েছে- ‘অশ্বিনী কুমার হলের সৌন্দয্য রক্ষায় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ব্যানার বিলবোর্ড-পোষ্টার লাগানো নিষিদ্ধ’। সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত ইউএনও বাসায় হামলা মামলার ৪ নম্বর আসামী।
বৃহস্পতিবার আওয়ামীলীগের সংবাদ সম্মেলনে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা করতে একটি সরকারি দপ্তরে রাতে প্রবেশ করা যায় কি-না জানতে চাইলে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক আহমেদ বলেন, পরিচ্ছন্নকর্মীরা দিনে ব্যস্ত থাকায় তারা রাতেই এ কাজটি করেন। নগরী পরিচ্ছন্ন রাখতে বিসিসি সর্বত্র বিলবোর্ড-ব্যানার-ফেষ্টুন অপসারনের কাজ শুরু করেছিল বলে জানান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
কাউন্সিলরদের সঙ্গে বিরোধ : বিসিসিতে ৩০ জন সাধারন ও ১০ সংরক্ষিত কাউন্সিলর। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিত কাউন্সিলর জানান, দায়িত্ব গ্রহনের পর কমপক্ষে পর্যায়ক্রমে ২৫ কাউন্সিলরের সঙ্গে মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তারমধ্যে অন্তত ২০ জন কাউন্সিলের মেয়রর সঙ্গে মুখ দেখাদেখি বন্ধ বলে নগরীতে জোর গুঞ্জন রয়েছে। কাউন্সিলদের অভিযোগ, মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ একক সিদ্ধান্তে পরিষদ পরিচালনা করেন। পরিষদের তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ১৪টি স্থায়ী কমিটি গঠন করেননি মেয়র। এমনকি বিভিন্ন ওয়ার্ডে কাউন্সিলর অকার্যকর রেখে মেয়র অনুগত ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতাকে সর্বময় ক্ষমতার অধিকার দেয়া হয়েছে। এনিয়ে মেয়র ও কাউন্সিললদের মধ্যে ¯œায়ু দন্দ্ব থাকলেও বিষয়টি প্রকাশ্যে হয় চলতি আগষ্টের শুরুতে।
জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম করোনাকালীন সময়ে দুস্থ্যদের মধ্যে বিতরণের জন্য প্রত্যেক কাউন্সিলরকে ৬০০ ব্যাগ করে খাদ্য সহায়তা দেন। মেয়রের ভয়ে সব কাউন্সিলর বিষয়টি চেপে রেখে ওই ত্রান বিতরণ করেননি। তবে ৬ কাউন্সিলর যথাক্রমে ১ নম্বর ওয়ার্ডের আমির হোসেন বিশ্বাস, ২০ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়াউর রহমান বিপ্লব, ২২ নম্বর ওয়ার্ডের আনিছুর দুলাল, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাহাউদ্দিন বাহার, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের আনিছুর রহমান শরীফ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হুমায়ন কবির নিজ ওয়ার্ডে দুস্থ্যদের মধ্যে ত্রান বিতরণ করেন। এরপরই ৬ কাউন্সিলরের ওয়ার্ড কার্যালয় থেকে সচিব ও অফিস সহায়ক প্রত্যাহার করে নগর ভবনে সংযুক্ত করা হয়। এতে নগরীতে গুঞ্জন রয়েছে যে, প্রতিমন্ত্রীর ত্রান বিতরণ করায় ওই কাউন্সিলদের সচিব ও অফিস সহায়ক প্রত্যাহার করেছেন মেয়র সাদিক। যদিও পরে আবার নতুন করে পদায়ন দেয়া হযেছে। এতে ক্ষুদ্ধ ৬ কাউন্সিলর প্রকাশ্যে এসে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের শামীমের পক্ষে অবস্থান নেন এবং তার পক্ষে শোক দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছেন।
কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান বিপ্লব ও বাহাউদ্দিন বাহার বলেন, গত ৮ আগষ্ট প্রতিমন্ত্রীর ত্রান বিতরণ করার পর তাদের কার্যালয়ের সচিব ও অফিস সহায়ক প্রত্যাহার করে নিয়েছে নগর ভবন কর্তৃপক্ষ। তিনদিন পর যাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে তারা কেউ আগে সচিব পদে ছিলেন না। মুলত কাউন্সিলর অফিসের তথ্য পাঁচারে জন্যই তাদের পদায়ন করা হয়েছে মেয়রের এজেন্ট হিসাবে
কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান বিপ্লববলেন, মেয়র বেশীরভাগ মাসিক সভা করেন তার বাসায়। ওই সভায় তার ক্যাডার বহিরাগতরাও উপস্থিত থাকেন। এমনও হয়েছে কাউন্সিলররা নিচ তলায় খোলা জায়গায় দাড়িয়েছিলেন, মেয়র তিনতলার বারান্দায় দাড়িয়ে সভা করেছেন। বিগত সভার কোন রেজুলেশনও পাঠ করা হয়না। এক কথায় স্বাক্ষর করা ছাড়া কাউন্সিলদের আর কোন ক্ষমতা নেই। এসব কারনে তিনিসহ বেশীরভাগ মেয়র নিরাপত্তার কারনে মেয়রের বাসায় আপাতত যাচ্ছেন না।
ক্ষোভ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও : নগর ভবনে স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রায় ৫০০ জন। তিন বছর আগে সাদিক আবদুল্লাহ দয়িত্ব নেয়ার পর দূর্ণীতিবাজ আখ্যায়িত করে মোট ৪৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ওএসডি করে করে বেতন বন্ধ করে দেন। তাদের মধ্যে থেকে পর্যায়ক্রমে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২০ জনকে স্থায়ীভাবে চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে। চাকুরীচ্যুতদের মধ্যে প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মতিউর রহমান, দুইজন নির্বাহী প্রকৌশলী, প্রধান বাজেট কর্মকর্তাসহ গুরুত্বপূর্ন পদের কয়েকজন কর্মকর্তা রয়েছেন। এছাড়া বিএনপি দলীয় সাবেক মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ারের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত ৫৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বন্ধ করে দেন এক বছর আগে। এছাড়া যুবলীগ-ছাত্রলীগের অনুসারী কর্মচারীদের নগর ভবনের গুরুত্বপূর্ন শাখায় অস্থায়ী নিয়োগ দিয়ে স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনঠাসা করে রাখা হয়েছে অভিযোগ রয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গভীর রাত পর্যন্ত মেয়রের বাসায় বসিয়ে রাখারও অভিযোগ রয়েছে। এসব নিয়ে স্থায়ীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ থাকলেও চাকুরীচৃ্যুত হওয়ার ভয়ে বিষয়টি প্রকাশ্যে হয়নি। বিগত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসরাইল হোসেন বদলী হওয়ার পরও তার ছাড়পত্র দীর্ঘদিন আটকে রাখা রাখার অভিযোগ ছিল মেয়রের বিরুদ্ধে।
কথায় কথায় নগর অচল : গত এক বছরের মধ্যে তিনবার বরিশাল নগরীর অচল করে দিয়েছেন মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারীরা। প্রতিবারই বাস ও লঞ্চ এবং এমনকি কাঁচা বাজার বন্ধ করে ঘন্টার পর ঘন্টা পুরো নগরী অচল করে দেয়া হয়। এসময়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ওপর এলোপাতারি বাস রেখে দেয়ায় পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠীর জেলার সঙ্গে বরিশালের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। শত শত নেতাকর্মী দিয়ে ঘেরাও করা হয় থানা।
গত বছরের ডিসেম্বরে বিসিক শিল্প নগরীর ফুরচুন সুচের এক নারী শ্রমিককে উত্যক্ত করায় এক বখাটকে আটক করে পুলিশে দেন প্রতিষ্ঠান মালিক মিজানুর রহমান। ওই বখাটকে আওয়ামীলীগের কর্মী দাবী করে তার মুক্তির দাবীতে কাউনিয়া থানা ঘেরাও ও নগর অচল করে মেয়র অনুসারী আওয়ামীলীগ কর্মীরা।
কাশীপুর বাজারে ইজিবাইকে চাঁদাবাজীর অভিযোগে বাসদ কর্মী গোলাম রসুলকে মারধর করে স্থানীয় আওয়ামীলীগের একদল কর্মী। এ ঘটনায় গোলাম রসুলের মামলায় চাঁদাবাজ রিপন মাঝিকে গত ফেব্রুয়ারীতে গ্রেফতার করা হলে ওইদিনও বিমানবন্দর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন মেয়রের অনুসারীরা। নগরীর রূপাতলী বাস টার্মিনালের নিয়ন্ত্রন নিয়ে মেয়র অনুসারীদের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পদক সুলতান মাহমুদের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয় গত জুলাইতে। সুলতানের গ্রেফতারের দাবীতে একইভাবে পুরো ৩ ঘন্টা অচল করে রাখা হয়েছিল। সর্বশেষ গত বুধবার রাতে ইউএনওর বাসায় হামলার পর মধ্যরাত থেকে বাস ও লঞ্চ চলাচল এমনকি কাঁচাবাজারও বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। বেলা ১২টার দিকে প্রশাসনের চাপের মুখে সবকিছু আবার সচল হয়।
গত বৃহস্পতিবার আওয়ামীলীগের সাংবাদিক সম্মেলনে এ বিষয়টি এলে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, মেয়র সাদিক আবদুল্লাহকে সকলে ভালবাসেন। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হলে সকলে স্বেচ্ছায় সবকিছু বন্ধ করে দিয়ে প্রতিবাদ জানান। আওয়ামীলীগ কাউকে নির্দেশ দেয়না।
গ্রেফতার একুশ : সদর উপজেলার ইউএনও সরকারি বাসভবন এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দুটি মামলায় এ পর্যন্ত ২১ আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তাদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলেন, মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক ও ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ সাইয়েদ আহম্মেদ মান্না, ত্রান বিষয়ক মোয়াজ্জেম হোসেন ফিরোজ, ২৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি মোমেন উদ্দিন কালু ও জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত।
মেয়রের মামলা প্রত্যাহারের দাবী : মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার, ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিবুর রহমানের অপসারন দাবী করেছেন বরিশাল বিভাগের সকল পৌর মেয়র ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যাগণ। গতকাল শনিবার বিকালে বরিশাল ক্লাব মিলনায়তনে পৃথকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবী জানিয়ে তারা বলেন, অনথ্যায় শোকের মাস আগষ্ট শেষে তারা কঠোর কর্মসুচী দিতে বাধ্য হবেন। তবে কি কর্মসূচী দেবেন এ বিষয়ে পরে জানাবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। মেয়রদের পক্ষে গৌরনদী পৌর মেয়র হারিছুর রহমান এবং উপজেলা চেয়ারম্যানদের পক্ষে বরিশাল সদর উপজেলার সাইদুর রহমান রিন্টু বক্তৃতা করেন। মেয়রদের সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে নিয়োজিত আনসার সদস্যরা মেয়র সাদিক আবদুল্লাহকে লক্ষ করে গুলি করেন। নেতাকর্মীরা মানববর্ম তৈরী করে নিরাপদে মেয়রকে বাসায় পাঠিয়ে দেন। তারা মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহসহ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা দুটি প্রত্যাহারের দাবী জানিয়েছেন।
উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশনের সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, ইউএনও মুনিবুর রহমান বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর ওপর গুলিবর্ষনের ধৃষ্ঠতা তাই প্রমান করে। উপজেলা চেয়ারম্যান পরিষদ দাবী করেন, মুনিবুর রহমান কলাপাড়ার ইউএনও থাকাকালে ব্যাপক দূর্ণীতি ও অনিয়ম করেছেন। উপজেলা চেয়ারম্যানরাও মেয়র সহ দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা দুটি প্রত্যাহারের দাবী জানিয়েছেন।
এছাড়া মেয়রের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে গতকাল পৃথকভাবে মানববন্ধন পালন করেছেন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পরিচ্ছন্নকর্মী ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। পরিচ্ছন্নকর্মীরা জানিয়েছেন, মামলা প্রত্যাহার না হলে নগরীর ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করা হবেনা।##
২০২১-০৮-২২
