বরিশালে ইউএনও-পুলিশের মামলায় আ’লীগের ৯ নেতাকর্মীর জামিন

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরকারি বাসভবনে হামলা ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলায় মোট ৯ জন আসামীর জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার বরিশাল অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর আদালতে ওই দুই মামলায় গ্রেফতার হওয়া মোট ২১ আসামীর জামিন আবেদন করা হয়েছিল।


বিচারক মো. মাসুমবিল্লাহ ইউএনও’র দায়ের করা মামলায় ৯জন এবং কোতোয়ালী মডেল থানার উপ পরিদর্শক মো. শাহজালালের দায়ের করা মামলার ৩ আসামীর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন। তার মধ্যে মো. ইফতিয়ার উদ্দিন, আলো গাজী ও কালাম মনু উভয় মামলার আসামী হওয়ায় জামিনপ্রাপ্ত মোট আসামীর সংখ্যা হলো ৯ জন নেতাকর্মী।


জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন জানান, কারাবন্দী ও পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন ১২ আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীর জামিন আবেদন না মঞ্জুর করেছেন বিচারক। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবুু, সাংগঠনিক সম্পদাক ও সিটি কাউন্সিলর শেখ সাঈদ আহমেদ মান্না, ত্রান বিষয়ক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন ফিরোজ, রূপাতলী বাস টার্মিনালের পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক ও রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আহমেদ শাহরিয়ার বাবু এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে এক চোখের দৃষ্টি হারানো ২১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি মনির হোসেন, ১৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের কর্মী তানভীর ও নগরীর উপকন্ঠ কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রায়হান। শেষের এ তিনজন পুলিশ হেফাজতে ঢাকায় জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনষ্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসকাধীন আছেন।


বুধবার আদালত থেকে জামিনপ্রাপ্তদের মধ্যে একমাত্র উল্লেখযোগ্য আসামী হলেন বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি মোমিনউদ্দিন কালু। তিনি পুলিশের দায়ের করা মামলার ৪৬ নম্বর আসামী। এ মামলায় জামিনপ্রাপ্ত অপর আসামীরা হচ্ছেন মো. ইফতিয়ার উদ্দিন, কালাম মনু, মো. কবির উদ্দিন তালুকদার, হুমায়ন কবীর হাওলাদার, মো. ইলিয়াস, জসিম উদ্দিন, আলো গাজী নাসির উদ্দিন।
জামিন আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী মো. আর্শিব উদ্দিন শাওন জানান, জামিনের পক্ষে শতাধিক আইনজীবী আদালতে দাঁড়িয়েছিলেন। এর বিপরীতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পুলিশের পক্ষে জামিনের বিরোধীতা করা হয়নি।


প্রসঙ্গত, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদে সদর আসনের সংসদ সদস্য পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল (অব:) জাহিদ ফারুক শামীমের স্থাপন করা বিলবোর্ড-ব্যানার বুধবার রাত ১০টায় সিটি করপোরেশনের কর্মী পরিচয়ে অপসারন করতে যায় মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারী যুবলীগ-ছাত্রলীগের একদল কর্মী। এসময় প্রথমে আনসার সদস্যরা ও পরে ইএনও মো. মুবিবুর রহমান বাঁধা দিলে তার বাসভবনে হামলা করে ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *