নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশাল নগরীতে ‘হলিকেয়ার’ নামক একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন এক যুবককের রহস্যজনক মৃত্যু ঘটেছে। স্বজনদের অভিযোগ, তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। ওই যুবকের নাম চন্দন সরকার (২৫)। সে আগৈলঝাড়া উপজেলার বারপাইকা গ্রামের চিত্তরঞ্জন সরকারের ছেলে। বরিশাল নগরীর নবগ্রাম সড়কে হলিকেয়ার মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র নামক প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান। সেখানকার চিকিৎসাধীন একাধিক রোগী তাদের নির্যাতন করার দাবী জানিয়েছেন। এদিকে ঘটনার পর হলিকেয়ারের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান সুমন পালিয়েছে।
চন্দনের চাচাতো ভাই উজ্জল সরকার বলেন, তার ভাইয়ের মাথায় কিছুটা সমস্যা ছিল। হলিকেয়ারে ভর্তি করায় তিন মাসে ৩০ হাজার টাকা দেয়া হয়। চন্দনের সাথে আতœীয়রা দেখা করতে আসলে সে বিমর্ষ থাকতো। তাকে মারধর করা হয় বলে বিভিন্ন সময় বলেছে। তিনি বলেন, চন্দনকে হলিকেয়ারের লোকজন মানসিক ও শারিরিক নির্যাতন করে হত্যা করেছে।
হলিকেয়ারে চিকিৎসা নিতে আসা সেখানকার একাধিক রোগী জানান, প্রায়ই হলিকেয়ারের লোক এসে পিটায়। তারা চিৎকার করে বলেন, ভাই আপনারা আমাদের আতœীয়দের ডাকেন। ওরা মেরে ফেলবে। তারা খাবার দেয় না। সারা রাত দাড় করিয়ে রাখে। সব কাজ করতে হয়। হলিকেয়ারের মালিক সুমন এসে অনেককেই রুটে বানানো বেলনি দিয়ে মারতো।

এদিকে স্বজনরা নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ করায় শুক্রবার দুপুরে চন্দনের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করেছে।
তবে হলিকেয়ারের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান সুমন বলেছেন, চন্দন সরকার মাদকাসক্ত থাকায় তাকে হলিকেয়ারে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সে বাথরুমে ঢুকে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। হত্যার অভিযোগ প্রসঙ্গে সুমন বলেন, পুলিশের তদন্তেরও মাধ্যমে এ অভিযোগের নিস্পত্তি গতে পারে। হলিকেয়ারের কর্মচারীর মো: সবুজ জানান, মাদকাসক্ত চন্দন সরকারকে ২১ দিন আগে ওই প্রতিষ্ঠানটিতে ভর্তি করা হয়।
এব্যপারে বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ মো. ফয়সাল হোসেন জানান, স্বজনদের দেয়া অভিযোগের ভিত্তিতে চন্দন সরকারের মৃতদেহ উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে নেয়া হয়েছে। তবে এখনও কাউকে আটক করা হয়নি। তারা অন্য রোীদের কাছ থেকেও নির্যাতনের অভিযোগের কথা শুনেছেন। এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
