নাগরিক রিপোর্ট : বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরকারি বাসভবনে হামলা ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি মামলায় কারাগারে থাকা ১২জন আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীর জামিন আবেদন করা হয়েছে আদালতে। রোববার বরিশাল অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে জামিন আবেদন করেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস।
তিনি জানান, ১২ নেতাকর্মীর জামিন আবেদন শুনানীর জন্য আগামী ২ সেপ্টেম্বর পরবর্তী তারিখ ধার্য্য করা হয়েছে।
আদালত সুত্রে জানা গেছে, বরিশাল অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের নিয়মিত বিচারক মো. মাসুম বিল্লাহ রোববার ছুটিতে ছিলেন। এ আদালতের অতিরিক্ত বিচারকের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র মহানগর বিচারক মো. আনিছুর রহমান ১২ জন আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীর জামিন আবেদন গ্রহন করে শুনানীর জন্য ২ সেপ্টেম্বর তারিখ ধার্য্য করেন। প্রসঙ্গত, একই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া অপর ৯ জন আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী গত বুধবার জামিনে মুক্ত হয়েছেন।
কারাবন্দী ও পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন ১২ আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবুু, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিটি কাউন্সিলর শেখ সাঈদ আহমেদ মান্না, ত্রান বিষয়ক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন ফিরোজ, রূপাতলী বাস টার্মিনালের পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক ও রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আহমেদ শাহরিয়ার বাবু এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে একচোখের দৃষ্টি হারানো ২৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি মনির হোসেন, ১৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ কর্মী তানভীর ও নগরীর উপকন্ঠ কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রায়হান। এ তিনজন পুলিশ হেফাজতে ঢাকায় জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনষ্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসকাধীন আছেন।
উল্লেখ্য, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদে সদর আসনের সংসদ সদস্য পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল (অব:) জাহিদ ফারুক শামীমের পক্ষে লাগানো ব্যানার-ফেষ্টুন গত ১৮ আগষ্ট রাত ১০টায় সিটি করপোরেশনের কর্মী পরিচয়ে অপসারন করতে যায় মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারী যুবলীগ-ছাত্রলীগের একদল কর্মী। এসময় প্রথমে আনসার সদস্যরা ও পরে ইএনও মো. মুবিবুর রহমান বাঁধা দিলে তার বাসভবনে হামলা করে ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীরা।
এর জের ধরে রাত ২টা পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় ইউএনও এবং পুলিশের দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় মোট ২১ জন আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী গ্রেফতার হন। স্থানীয় প্রশাসন ও আওয়ামীলীগের টানা চারদিন এমন মুখোমুখি অবস্থানের পর প্রশাসনের উর্ধ্বত মহলেরর হস্তক্ষেপে গত ২২ আগষ্ট রাতে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. সাইফুল হাসান বাদলের সরকারি বাসভবনে দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
২০২১-০৮-২৯
