মৃত্যুহীন একদিন : দেড়মাস পর ভয়ংকর করোনার শান্ত রুপ

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট : বরিশাল বিভাগে রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় একজনও করোনা পজিটিভ রোগী মারা যাননি। তবে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের আইসোলেশন ইউনিটে উপসর্গে দুইজন মারা গেছেন। গত ৬০ দিনে পজিটিভ শনাক্ত রোগী মারা না যাওয়ার রেকর্ড এই প্রথম। বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক সোমবার বলেছেন, বরিশাল বিভাগে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। শনাক্ত, মৃত্যু এবং ভেরিয়েন্টের তীব্রতা কমে আসছে। তাই স্বাস্থ্য বিভাগ কিছুটা স্বস্তির মধ্যে আছে।
সারাদেশের ন্যায় বরিশাল বিভাগেও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয় মে মাসে। জুলাই মাসে বিভাগের ৬ জেলায় সংক্রামন ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ১ জুলাই থেকে গত ৬০ দিনে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় করোনা পজিটিভ ও উপসর্গে মারা গেছেন ৮৪৮ জন। এরমধ্যে পজিটিভ ছিলেন ৩৪৮ জন উপসর্গে মারা গেছেন ৫০০ জন। উপসর্গে মারা যাওয়া সকলে শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। একই সময়ে বিভাগে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৭৮ হাজার ১০৪ জনের। যারমধ্যে শনাক্ত হয়েছেন ২৬ হাজার ১৯ জন। মোট নমুনা পরীক্ষার মধ্যে জুলাই মাসে ৪০ হাজার ৫৯৪ জন এবং ৩০ আগষ্ট পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করিয়েছেন ৩৭ হাজার ৫১০ জন। জুলাই মাসে পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৯৪৩ জন এবং ৩০ আগষ্ট পর্যন্ত পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৯৬ জন।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, চলতি আগষ্ট মাসে ১৫ তারিখের পর থেকে বিভাগে কমতে শুরু করেছে করোনার তীব্রতা। তবে বিভাগে গত ৬০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯৯৮ জন পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছে গত ২ আগস্ট। ওইদিন বিভাগে শনাক্তের হার ছিল ৩৬ দশমিক ৮৬ জন। আবার বিভাগে সর্বাধিক ৩২ জন মারা যান ৫ আগষ্ট। যারমধ্যে পজিটিভ ছিলেন ১৫ জন এবং উপসর্গে মারা যান ১৭ জন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মতে, জুলাই থেকে আগষ্টের ১৫ তারিখ পর্যন্ত টানা ৪৫ দিন ছয় জেলায় সংক্রমন ও মৃত্যুর অগ্নিমূর্তি দেখিয়ে এখন ধীরে ধীরে শান্ত স্বরূপে ফিরছে বিভাগের করোনা পরিস্থিতি। সুত্র জানায়, গত ২০ আগষ্ট থেকে ১০ দিন ধরে বিভাগে করোনা শনাক্তের হার ২০ শতাংশের নিচে। ২০ আগষ্ট বিভাগে শনাক্তের হার ছিল ১৬ দশমিক ৮১ জন। তবে বিভাগে গত ২৬ আগষ্ট সবচেয়ে কম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। ওইদিন ১ হাজার ৯৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয় ১৩৩ জন। শনাক্তের হার ছিল ১২ দশমিক ১৪ জন। সর্বশেষ গতকাল সোমবার (৩০ আগষ্ট) বিভাগে ৮৬৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১১৩ জন পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ০২।
শেবাচিম হাসপাতাল সুত্র জানায়, গত প্রায় ১৫ দিন ধরে শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে রোগী ভর্তির সংখ্যা ক্রমশই কমছে। সর্বশেষ গতকাল সোমবার শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি ছিলেন ৯৯ জন। তারমধ্যে ৫১ জন পজিটিভ। বাকিরা আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। রোববার শেবাচিমতে ভর্তি ছিল মাত্র ১১৯ জন। তার আগের দিন ছিল ১১৪ জন। গতকাল সোমবার করোনা ডেডিকেটেড জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন মাত্র ৬ জন রোগী। জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মলয় কৃঞ্চ বড়াল সমকালকে বলেন, পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হচ্ছে। তাই আগামী শনিবার থেকে জেলা সদর হাসপাতালে আন্তবিভাগে সব ধরনের রোগী ভর্তি শুরু হবে। তবে ২২ শয্যার করোনা ইউনিট থাকবে।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস গতকাল সোমবার বিকালে সমকালকে বলেন, বরিশাল বিভাগে করোনা পরিস্থিতি যথেষ্ট উন্নতির দিকে। আমরা কিছুটা স্বস্তির মধ্যে আছি। তিনি বলেন, লকডাউন তুলে দেয়ার পর পরিস্থিতির অবনতি হয়নি। তবে আমাদের বর্তমান স্বস্তির পরিবেশ ধরে রাখতে সকলকে অতি অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। মাস্ক পড়তে হবে, নিয়মিত সাবান দিয়ে ধোয়ার অভ্যাস ধরে রাখতে হবে।
শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম বলেন, শনাক্ত মৃত্যু এবং সংক্রমনের তীব্রতা বরিশাল বিভাগে কমে এসেছে। তাই শেবাচিম হাসপাতালে গত প্রায় ১৫ দিন ধরে রোগীর সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম মনে করেন, করোনাভাইরাস যদি তার ধরন পরিবর্তন না করে তাহলে পরিস্থিতি আর তেমন অবনতি হবে না। তিনিও সর্বসাধারনকে মাস্ক পড়াসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরমর্শ দিয়েছেন।##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *