নাগরিক রিপোর্ট : ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে মা ইলিশের প্রজনন নিরাপদ করতে আজ সোমবার থেকে টানা ২২ দিন নদী-সাগরে ইলিশ আহোরন বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে ইলিশ ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা এলাকার মাইটভাঙ্গা গ্রামের জেলে শহীদ খান ১৫জন সঙ্গীনিয়ে ৩ দিন সাগরে অবস্থানের পর ভরা মৌসুমের শেষদিন গতকাল রোববার আলীপুর বন্দরে ফিরেছেন। ৩ দিনে আহোরিত ইলিশসহ অন্যান্য মাছ আলীপুর মোকামে বিক্রি করেছেন ৪৫ হাজার টাকায়। শহীদ খানের দাবী, তিনদিন সাগরে অবস্থান করে মাছ আহোরনে তার খরচ হয় প্রায় ২ লাখ। শেষ সময়ে বেশী মাছ পাওয়া যেতে পারায় এমন আশায় তিনি সঙ্গীদের নিয়ে সাগরে গিয়েছিলেন। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগের দিন নিরাশ হয়ে তাকে তীরে ফিরে আসতে হয়েছে। জেলে শহীদ খানের মতো উপকূলের হাজার হাজার জেলের একই অবস্থা।
২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ায় সাগর থেকে হাজার হাজার ট্রলার গতকাল রোববার দুপুরের মধ্যে দক্ষিণের মোকামে ফিরেছে। তবে কাংক্ষিত মাছ না পাওয়ায় জেলে-মাঝি-মাল্লাদের মুখে মুখে হাঁসি নেই। টানা ২২ দিন মাছ আহোরন ক্রয়-বিক্রয় এবং পরিবহন বন্ধ থাকায় মোকামগুলোতে গতকাল ছিল শেষ দিনের কর্মব্যস্ততা। আগামী ২২ দিন মোকামগুলোতে স্থবিরতা বিরজা করবে বলে জানিয়েছেন আড়তদাররা। জাল ও ট্রলার মেরামত করে সময় কাটাবেন জেলেরা।
বরগুনার পাথরঘাটার জেলে জহিরুল ইসলাম জানান, গভীর বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের (গুলাব) পর গত ২৮ অক্টোবর তিনিসহ শত শত ট্রলার পাথরঘাটা মোকাম থেকে সাগরের গেছেন। ৩ অক্টোবরে মধ্যে ফিরতে হবে তাই গভীর সাগরে যাননি তারা। তিনিসহ অন্যান্য ট্রলারগুলো গতকাল অল্পপরিমান মাছ নিয়ে পাথরঘাটা মোকামে ফিরেছেন।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরন কেন্দ্র পাথরঘাটার আড়তদার সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর সিকদার জানান, গতকাল বেলা ১২টার মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ট্রলার সাগর থেকে মোকামে ফিরেছে। ২২ দিন মাছ ধরা বন্ধ। তাই ট্রলারগুলো বিভিন্ন খালের মধ্যে নিরাপদে রাখা হয়েছে।
জাহাঙ্গীর সিকদার জানান, কোন ট্রলারই সর্বাধিক ৫ মনের বেশী ইলিশসহ অন্যান্য মাছ নিয়ে ফিরতে পারেননি। নিম্নচাপের পর সাগরে যাওয়া ট্রলারের মাঝি-মাল্লারা বড় লোকসানের মুখে পড়েছেন। গতকাল পাথরঘাটা মোকামে ৮০০-১০০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের মন পাইকারী বিক্রি হয়েছে ৪৬ হাজার টাকায়। অর্থাৎ প্রতিকেজির দাম পড়েছে ১ হাজার ১৫০ টাকা।
কুয়াকাটা আলীপুর মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি আনসার উদ্দিন মোল্লা বলেন, রোববার দুপুরে মধ্যে সাগর থেকে প্রায় ১ হাজার ট্রলার আলীপুর-মহিপুর মোকামে ফিরেছে। মোকামে ইলিশ বিক্রি হয় ৫০০-৬০০ মন। আনসার উদ্দিন মোল্লা বলেন, এসব ইলিশের পেটে ডিম নেই। ধারনা করা হচ্ছে- আরও ১৫ দিন পর এ ইলিশের পেটে ডিম আসতো। ফলে ২২ দিনের অবরোধ খুব একটা সুফল হবেনা বলে দাবী করেন আনসার উদ্দিন মোল্লা।
বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড মোকামের আড়তদার জহির সিকদার জানান, রোববার সকালে দাম চড়া থাকলেও বিকালের দিকে ট্রলার আসতে থাকায় ইলিশের দাম কিছুটা কমে যায়। ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের মাছ বিকালে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। মোকামে আমদানী হওয়া বেশীরভাগ মাছ ছিল সাগরের।
মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় বিভাগীয় উপ পরিচালক মো: আনিছুর রহমান তালুকদার বলেন, ৮০ ভাগ মা ইলিশ ডিম দেয় আশ্বিনের আমাবশ্যা ও পূর্ণিমায়। উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রজনন নিরাপদ করার জন্য রোববার দিবাগত রাত ১২টা থেকে ২৫ অক্টোবর পর পর্যন্ত ২২ দিন নদী-সাগরে ইলিশ নিধন এবং ক্রয়-বিক্রয় পরিবহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অন্য মাছ আহোরনের অজুহাতে ইলিশ নিধন করতে না পারে সেজন্য নদী-সাগরে জেলে নৌকা নামতে দেয়া হবেনা। কোষ্টগার্ড, নৌপুলিশ ও জেলেদের নিয়ে গঠিত ফিসগার্ড ২২ দিন নদী পাহাড়া দেয়া হবে।
এ কার্যক্রমে অংশ নিতে বিভিন্ন জেলা থেকে ২১ জন মৎস্য কর্মকর্তাকে ২২ দিনের জন্য বরিশাল বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রম তদারকিতে ৩টি মনিটরিং টিম গঠন করেছে মৎস্য অধিদপ্তর।##
