নাগরিক রিপোর্ট : বরিশাল সদর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের পাঁচটিতেই নৌকার প্রার্থীদের বড় বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা। ৬ ইউনিয়নের প্রত্যেকটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা এবং ৩টিতে বিএনপির ছায়া প্রার্থী রয়েছে। মঙ্গলবার প্রত্যাহারের শেষদিনে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী এবং অন্য দলের প্রার্থীদের কেউ নির্বাচন থেকে সরে দাড়াননি। বরঞ্চ তারা ইউনিয়নগুলোতে শক্ত প্রতিদ্বদ্বিতা গড়ার আভাস দিয়েছেন। চরমোনাই পীরের নিজ এলাকায় সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী ইসলামী আন্দোলনর প্রার্থীরা মাঠে নির্বাচনী মাঠে বেশ সরব। বিএনপির ছায়ায় থাকা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সুষ্ঠু ভোট হলে নিরব ভোট বিপ্লবের আশায় নিরবে-নিভৃতে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে জেলা আওয়ামলীগের এক প্রভাবশালী নেতা স্থানীয় সংসদ সদস পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম মতামত না নিয়ে তাদের পছন্দের প্রাথীর নাম কেন্দ্রে পাঠান এবং নৌকা প্রতকের মনেনযন দেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার ছয় ইউনিয়নের প্রার্থীদের সঙ্গে প্রশাসনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় বিভাগীয় কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম বাদল ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান উপস্থিত ছিলেন। তারা সুষ্ঠু ভোট গ্রহনের নিশ্চয়তাসহ নির্বাচনের আগে ও পরে প্রার্থীদের আচরন বিধি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আগামী ১১ নভেম্বর সদরের ৬ ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নগরী ঘেষা রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী আহমেদ শাহরিয়ার বাবুর বিরুদ্ধে ভোটে মাঠে আছেন আওয়ামীলীগ নেতা বর্তমান চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান খোকন। তিনি বলেন, নৌকার প্রার্থী মনোনয়নে স্বজনপ্রীতি হয়েছে। ফলে আওয়ামীলীগের যোগ্য প্রার্থীরা নৌকা প্রতীক পাননি। গতকাল প্রশাসনের সঙ্গে সভায় তিনি নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য প্রশাসনের কাজে আবেদন করেছেন। রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নে বিএনপির সমর্থনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন টানা দুইবারের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিনের ছোট ভাই মো. মনিরুজ্জামান।
সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও চরকাউয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ছবি এবারও নৌকার প্রার্থী হয়েছেন। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধানর সম্পাদক হারুন অর রশিদ ও সাবেক চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ খানও এ ইউনিয়নে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন। হারুন অর রশিদ গতকাল প্রশাসনের সঙ্গে সভায় বলেন, ‘প্রার্থী হওয়ায় তার জীবনের ওপর হুমকি রয়েছে’। ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল গণি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ভোটের মাঠে আছেন।
নিজ ইউনিয়ন চরমোনাইতে এবারের নির্বাচন চরমোনাই পীর পরিবারের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। ২০০২ সাল থেকে এ ইউনিয়নে পীর পরিবারের সদস্যরা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়ে আসছেন। এবার পীর পরিবার হঠাতে নৌকার প্রার্থীর মাষ্টার নুরুল ইসলামের সঙ্গে প্রকাশ্যে একট্রা হয়েছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। অপরদিকে বিদ্রোহী প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ন আহ্বায়ক সাব্বির হোসেনও সরবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। সাব্বির হোসেন বলেন, গতকাল প্রশাসনের সঙ্গে সভা করে তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবী করেছেন।
চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাষ্টার সিরাজুল ইসলাম দলনিরপেক্ষ হলেও স্থানীয় বিএনপি প্রকাশ্যে তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ফলে নৌকার প্রার্থী এস.এম মতিউর রহমান শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছেন। চাঁদপুরা ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন নৌকার প্রার্থী হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক এইচএম জাহিদ দাপুটে প্রচারনা চালাচ্ছেন।
শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নেও নৌকার প্রার্থী বর্তমান চেয়ারমান আরিফুজ্জামান মুন্নার ভোটের বৈতারিনী পাড় হতে প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে দাড়িয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মামুন তালুকদার। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামী প্রয়াত ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হকের ভাতিজা মামুন তালুকদারের পারিবারিক ইমেজের পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপির তার পক্ষে নিরবে কাজ করে যাচ্ছে। মামুন তালুকদার বলেন, নির্বাচনী প্রচারে ঘরোয়া সভা করতে গিয়ে এরই মধ্যে তিনি বিভিন্ন সময়ে নৌকা সমর্থকদের অযাচিত আচরনের শিকার হয়েছেন। বিষয়টি তিনি গতকাল প্রশাসনের সঙ্গে সভায় অবহিত করে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবী করেছেন।
বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সদর আসনের এমপি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব) জাহিদ ফারুক শামীম জানান, বরিশাল সদর উপজেলার ৬ ইউনিয়নের একটিতেও আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে প্রার্থীর নাম আসেনি। এমনকি ইউনিয়ন ও উপজেলার নেতারাও এক্ষেত্রে ছিলেন উপেক্ষিত।
স্থানীয় এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি থাকার পরও একবারের জন্য আমার কোনো মতামত চাওয়া হয়নি উল্লেখ করে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বরিশালে আওয়ামী লীগের মধ্যে আরেকটি আওয়ামী লীগ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।
জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস সাংবাদিকদের বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যাপারে এখনও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
