‘ডিসি আমবাগান’ কেটে বহুতল কমপ্লেক্স

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশালের বাকেরগঞ্জে ‘ডিসি আম বাগান’ কেটে সাফ করে ফেলেছে উপজেলা প্রশাসন। সরকারী ছুটির সুযোগে গত দুই দিন ধরে সেখানকার দেড় শতাধিক ফলজ আম গাছ কেটে গড়ে তোলা হচ্ছে বহুতল উপজেলা কমপ্লেক্স। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। উপজেলা পরিষদের তথ্যমতে, ভবনটি পরিষদের বর্তমান ভবনের পিছনে করার জন্য স্থান নির্বাচন করা হয়। উন্নয়নের নামে ডিসি আম বাগান কেটে ফেলা আইন বহির্ভূত বলে সংশ্লিস্টরা মনে করেন। বন বিভাগ জানিয়েছে, গাছ কাটার বিষয়ে তাদের অবহিত করা হয়নি।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ আমিরুজ্জামান রিপন বলেন, তৎকালীন জেলা প্রশাসক শহীদুল আলম বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিষদে আম বাগানটি গড়ে তোলেন। সেখানে দুই শতাধিক আম গাছ ছিল। এগুলোতে গত কয়েক বছর ধরে ফল ধরছে। এটি এলাকায় ‘ডিসি আম বাগান’ হিসেবেই পরিচিত। উপজেলা পরিষদের কমপ্লেক্স করার জন্য এর আগের জেলা প্রশাসক অজিয়ার রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভবনের স্থান বর্তমান উপজেলা পরিষদের পিছনে করার সিদ্ধান্ত দেন।

কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত উড়িয়ে দিয়ে নতুন করে উপজেলা প্রশাসন আমবাগান সাফ করে ৪ তলা ভবন করার সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য শুক্র ও শনিবার বেছে নিয়ে এ পর্যন্ত ১০০ এর বেশি আম গাছ কাটা হয়েছে। তিনি বলেন, পিছনে প্রচুর জায়গা আছে। অথচ উপজেলা পরিষদের মিটিং এ আম গাছ কাটার আতœঘাতি সিদ্ধান্ত হয়। এ নিয়ে উপজেলায় ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বাকেরগঞ্জের সেচ্ছাসেবী সংগঠন বেঙল ইউথ ফাউন্ডেশন এর উপদেস্টা সোহেল মাহমুদ বলেন, উপজেলা পরিষদের চত্তরে জমির অভাব নেই। কিন্তু উপজেলা কমপ্লেক্সে করার জন্য একটি আম বাগান কেটে সাফ করে ফেলেছে। তিনি বলেন, বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিষদে যত ভবন হয়েছে তা অপরিকল্পিত। এটিও হবে অপরিকল্পিতভাবে। তিনি সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ অবস্থার প্রতিবাদ জানাতে সকলকে আহবান জানিয়েছেন।

জানতে চাইলে বাকেরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান সামশুল আলম চুন্নু বলেন, ৭ মাস উপজেলা কমপ্লেক্স করার টেন্ডার হয়েছে। প্রায় ৮ কোটি টাকায় ৪ তলা বিশিস্ট ভবন করবেন তারা। ভবনটি পিছনে করার কথা ছিল। কিন্তু এটা করলে সৌন্দর্য্য থাকে না। যে কারনে ‘ডিসি আম বাগান’ কাটার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, বাগানে যে আম গাছ রোপন হয়েছে তা ভাল জাতের না। সবাই মনে করেন এটি জঙ্গল। তাই আলোচনা করে বাগানের গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তখন কেন বাগানটি করা হলো এ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান চুন্নু বলেন, তাকে না জানিয়ে ডিসি বাগানটি করেছে। গাছ কাটা তো অন্যায়। কিন্তু বন বিভাগ বলছে এই গাছ কাটলে কোন সমস্যা নেই। কমপ্লেক্স না হলেও আমবাগান রাখার যুক্তি নেই।

এ প্রসরঙ্গ উপজেলা বন কর্মকর্তা মহিদুর রহমান বলেন, বাগানের গাছ কাটার বিষয়ে উপজেলা পরিষদ তাদের কোন চিঠি দেয়ানি। গাছগুলো কাটায় সমস্যা নেই এমন কোন মতামত দেয়া হয়েছে কিনা এ প্রসঙ্গে বন কর্মকর্তা মহিদুর বলেন, তারা এধরনের কোন মতামত দেননি। বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, তিনি বিষয়টি শুনে চিঠি চাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বন কর্মকর্তাকে। কেন না গেজেট অনুযায়ী গাছ কাটতে হলে উপজেলা পরিষদের একটি নির্ধারিত কমিটির সম্মতি থাকতে হবে। উপজেলা বন কর্মকর্তা ওই কমিটির সদস্য।

এ বিষয়ে জানতে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাধবী রায়কে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে ফোন বন্ধ করে রাখেন। বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দারকে ফোন দেয়া হলে তিনি ফিরতি মেসেস এ জানান, ‘ফোন দিবেন’।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর বরিশালের সমন্বয়কারী রফিকুল আলম বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনভাবেই গাছ কাটা যাবে না। উন্নয়নের নামে ভবনের জন্য গাছগুলো কেটে ফেলা আইনবহির্ভূত হয়েছে। যদি কাটতেই হয় তাহলে কেন গাছগুলো লাগিয়েছিল। তিনি জানান, এতোগুলো গাছ কাটার অপরাধে সংশ্লিস্টদের কারন দর্শানো (শোকজ) উচিৎ।

এব্যপারে বরিশাল-৫(বাকেরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য নাসরিন জাহান রতœা বলেন, ‘আমবাগান কাটার বিষয়ে আমার অনুমতি নেয়নি। আম বাগান ছিল তৎকালীন ডিসির স্মৃতি। বাগান কাটতে হলে অনুমতি লাগবে। উপজেলার পরিষদ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিনা তা তার জানা নেই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *