গৌরনদীতে শিক্ষকের হামলায় ১০ ছাত্র আহত : মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষনা

Spread the love

নাগরিক রিপোর্র্ট : বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী উলূমে দীনিয়া কওমী নুরানী মাদ্রাসায় সোমবার নুরানী বিভাগের শিক্ষার্থীর উপর শিক্ষকের হামলা ও পিটিয়ে জখম করার ঘটনায় মঙ্গলবার শিক্ষার্থী মোঃ সোয়েব হোসেন বাদি হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে গৌরনদী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। হামলার ঘটনায় অনির্দিষ্ট কালের জন্য মাদ্রাসার কেতাব বিভাগের ক্লাস বন্ধ ঘোষনা করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। একই দিন ঘটনা তদন্তে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী, মাদ্রাসার শিক্ষক ও আহত ছাত্ররা জানান, উপজেলার বার্থী উলূমে দীনিয়া কওমী নুরানী মাদ্রাসার নুরানী বিভাগের শিক্ষক হাফেজ মানিক বেপারী কেতাব বিভাগের ছাত্রদের সঙ্গে প্রায়ই অসদাচরন করে আসছিল। সোমবার দুপুরে হাফেজ মানিক বেপারী কেতাব বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেন। এ সময় কেতাব বিভাগের ছাত্র মোঃ শাহ্জালাল, মোঃ মাহামুদ শিক্ষক হাফেজ মানিক বেপারীর অশালীন মন্তব্যের প্রতিবাদ করে। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মানিক বেপারী শিক্ষার্থী মোঃ শাহ্জালাল, মোঃ মাহামুদর উপর হামলা চালিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্তভাবে জখম করে।

এ ঘটনায় ওইদিন বিকেলে আহত দুই শিক্ষার্থীর সহপাঠি মোঃ রফিকুল ইসলাম মাদ্রাসার মুহতামিম মুফ্তি হাফেজ আমিনুল ইসলামের কাছে বিচার দেয়। এতে হাফেজ মানিক বেপারী ক্ষিপ্ত হয়ে সোমবার ক্লাস রুমে ঢুকে কেতাব বিভাগের ছাত্র মোঃ রফিকুল ইসলামকে পিটিয়ে আহত করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মাদ্রাসার কেতাব বিভাগের ছাত্ররা ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে শিক্ষক মানিক বেপারীকে ধাওয়া করলে শিক্ষক হাফেজ মানিক দৌড়ে মাদ্রাসার মুহতামিমের কক্ষে আশ্রয় নিলে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা তাকে আধাঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে।

ছাত্র মোঃ রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আমরা বিক্ষোভ করে মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও বার্থী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহ্জাহান প্যাদার বাড়িতে বিচার দিতে যাই। এ সময় শিক্ষক হাফেজ মানিক বেপারী বহিরাগত ১৫/২০ সন্ত্রাসীসহ হাতুড়ি, ব্যালচা ও লাঠিসোটা নিয়ে দ্বিতীয় দফায় অঅমাদের উপর হামলা চালায়। এতে কেতাব বিভাগের ছাত্র হাফেজ জাহিদুল ইসলাম, হাফেজ হাফিজুর রহমান, হাফেজ আবু ইউসুফ, হাফেজ সোয়াই আহত হন। আহতদের গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে মাদ্রাসার নুরানী বিভাগের শিক্ষক হাফেজ মানিক বেপারী বলেন, কেতাব বিভাগের ২ ছাত্র বেয়াদবী করার কারণে তাদের বক্াঝ্কা দিয়ে শাসন করা হয়েছে। মাদ্রাসা পরিচালণা কমিটির সভাপতি মোঃ শাহজাহান প্যাদা এ প্রসঙ্গে বলেন, ঘটনাটি তদন্তে মাদ্রসার অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শওকত হোসেনকে প্রধান করে ৭ সদস্য বিশিষ্টৃৃ একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আফজাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় মাদ্রাসার কেতাব বিভাগের ছাত্র হাফেজ মোঃ সোয়াইব বাদি হয়ে শিক্ষক মানিক বেপরীকে প্রধানসহ ১৫ জনকে আসামি করে মঙ্গলবার একটি মামলা দায়ের করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *