নাগরিক রিপোর্ট:
ফরম ফিলাপে অতিরিক্ত ফি ধার্য্য করার প্রতিবাদে শনিবার বরিশাল বিএম কলেজে বিক্ষোভ ও সামনের সড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। পরে তারা প্রশাসনিক ভবন আটকে অবস্থান নেয়। শিক্ষার্থীরা দাবী করেছেন, অন্যান্য কলেজের অপেক্ষা বিএম কলেজে প্রায় দেড় হাজার টাকা বাড়তি ফি ধার্য্য করেছে কর্তৃপক্ষ। করোনা সংকটকালীন প্রায় ৬ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা ফি দেয়া দু:সাধ্য।
আন্দোলনরতরা কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র-ছাত্রী। ২০১৬-১৭ সেশনে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা টোকেন হিসেবে ফি কমিয়েছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী অনার্স শেষ বর্ষের রাস্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র তামজিদ হোসাইন বলেন, সরকারি বরিশাল কলেজ এবং হাতেম আলী কলেজে অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফরমফিলাপের ফি মাত্র ৪ হাজার ৮২০ টাকা। কিন্তু বিএম কলেজ কর্তৃপক্ষ ধার্য্য করেছে ৬ হাজার ২৭০ টাকা। বিজ্ঞান বিভাগের ফি আরও বেশি। তারা মনে করেন কর্তৃপক্ষ দেড় হাজার টাকা বাড়তি নিচ্ছে।
এর প্রতিবাদে সকাল থেকে কলেজের সামনের সড়ক অবরোধ করে রাখেন ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী। এক পর্যায়ে অধ্যক্ষ এবং শিক্ষক সমিতির সম্পাদক প্রস্তাব দেন যে আন্দোলন বন্ধ করলে তাদের নেতৃত্ব দেয়া ২০-২৫জনের ১০০ টাকা করে কমাবেন। শিক্ষকদের এমন প্রহসনের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে তারা প্রশাসনিক ভবনে অবস্থান নেন। দুপুরে অধ্যক্ষ ৪র্থ বর্ষের সকলের ২০০ টাকা করে ফি কমানোর ঘোষনা দিয়েছেন।
অপর শিক্ষার্থী খায়রুল ইসলাম খোকন বলেন, গতবছর ৪ হাজার টাকা দিয়ে ফরম ফিলাপ করেছেন। সেখানে এ বছর ৬ হাজার ২০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। যা পুরোপুরি অযৌক্তিক। ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী সায়েম হোসেন বলেন, করোনার কারনে সংকটে আছেন। পরিবার থেকে আগে যেভাবে টাকা দিতো, তেমনটা এখন দিচ্ছে না। এরমধ্যে ফরম ফিলাপের অতিরিক্ত ফি মরার উপর খড়ার ঘা।
এব্যপারে বিএম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. গোলাম কিবরিয়া বলেন, শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেেছ। তাদের সাথে আলোচনা করে টোকেন হিসেবে কিছুটা কমিয়েছেন। যাদের বেশি সংকট তাদের দরিদ্র তহবিল থেকে সহায়তা করা হবে। এধরনের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিয়েছে।
