নাগরিক রিপোর্ট:
ঐতিহ্যবাহী বরিশাল বিএম কলেজের শতবছরের লাইব্রেরী ধুকে ধুকে চলছে। সেখানে আধুনিকায়নের ছোয়া নেই। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঝুকিপূর্ন রিডিং রুম ব্যবহার অনুপোযোগী। নতুন বই, পর্যাপ্ত সংবাদপত্র না থাকায় আগ্রহ হারাচ্ছেন তারা। পাশের শ্রীহীন কমন রুমে ছাত্রীরা বিমুখ হয়ে পড়ছেন। একইভবনে মহাত্না অশ্বিনী কুমার মিউজিয়াম এবং চিকিৎসা কেন্দ্র রয়েছে তালাবদ্ধ। দক্ষ জনবল না থাকায় লাইব্রেরী ভবনের ৫টি কার্যক্রম অনেকাংশে অচল হয়ে পড়ছে। বেহাল এ লাইব্রেরী কোন কোন সময় তালাবদ্ধ থাকায় হতাশ ও ক্ষুব্ধ সাধারন ছাত্র-ছাত্রীরা। কলেজে কর্তৃপক্ষ অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে করোনার দোহাই দিয়েছেন।
মঙ্গলবার বেলা ১২টায় বিএম কলেজের লাইব্রেরী ভবনের রিডিং রুম ঘুরে দেখা গেছে হাতে গোনা কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছেন। সেখানে একটি মাত্র পত্রিকা পড়ে আছে। রুমটি স্যাতস্যাতে এবং অন্ধকার। শিক্ষার্থীরা উপরের দিকে দেখিয়ে বললেন, পলেস্তারা খসে পড়ায় আসতেও ভয় করে। মান্দাতা আমলের মিল্লাত কোম্পানীর ফ্যানও যেন ছিড়ে পড়বে। মহসিন নামে একজন কর্মচারী থাকেলও তিনি বইয়ের নাম পড়তে জানেন না। মাঝে মাঝে তালা দিয়ে উধাও হন মহসীন। এ লাইব্রেরীতে ৫০ হাজারের মত বই থাকলেও সেগুলো সংরক্ষনের অভাব স্পস্ট।
পাশের ছাত্রী কমনরুম থেকে বেড়িয়ে আসা কয়েক ছাত্রী জানান, তাদের কক্ষের ফার্নিচার ঘুনে ধরেছে। বাথরুম, পর্দা এতো অপরিস্কার যে তারা আসা ছেড়ে দিয়েছেন। বিশেষ করে মমতাজ বেগম নামে একজন কর্মচারী থাকলেও তাকে নাকি অধ্যক্ষ তার বাসভবনে নিয়ে এক বছর ধরে দায়িত্ব পালন করান- এমনটাই অভিযোগ করলেন ছাত্রীরা।
ছাত্র কমন রুমের বিপরীতে চিকিৎসা কেন্দ্রে ঝুলছে তালা। ভবনের দ্বিতলায় কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মহাত্না অশ্বিনী কুমার দত্তের দুর্লব মিউজিয়াম বন্ধ থাকায় দেখার সুযোগ নেই ছাত্র-ছাত্রীদের। কলেজের ছাত্র শাওন খান বলেন, লাইব্রেরী তাদের আকর্ষনই করে না। কারন সেখানে নতুন বই, পত্রিকা নেই। পরিবেশও নেই। মিউজিয়াম এবং চিকিৎসা কেন্দ্র তারা কবে খোলা দেখেছেন মনে নেই।
জানতে চাইলে কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এ এস কাইউম উদ্দিন আহমেদ বলেন, তিনি খবর পেয়ে বুধবার শিক্ষক সমিতির সম্পাদককে নিয়ে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী পরিদর্শন করেছেন। ছাত্র-ছাত্রীদের অভিযোগ অযৌক্তিক নয়। করোনায় কার্যক্রম কিছুটা অকার্যকর হয়েছে। তবে তারা লাইব্রেরীকে আধুনিকায়ন করার উদ্যোগ নিচ্ছেন। জনবল বৃদ্ধি করে পাঠক ফিরিয়ে আনারও ব্যবস্থা করবেন।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানে লাইব্রেরীয়ান এভং সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদ শুন্য। শরীর চর্চা শিক্ষক দিয়ে দীর্ঘ বছর অ্যানালগ করে রেখেছে লাইব্রেরীটি। জানতে চাইলে কলেজের ক্রিড়া শিক্ষক ও লাইব্রেরিয়ান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো: আফিল উদ্দিন বলেন, তাদের জনবল সংকট। বই পড়তে পারে না এমন কর্মচারী দিয়ে কি লাইব্রেরী পরিচালনা সম্ভব? মিউজিয়াম ও চিকিৎসা কেন্দ্র বন্ধ প্রসঙ্গে বলেন, এটি তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।
ছাত্রমৈত্রী বিএম কলেজ শাখার সভাপতি ও ফিনন্যানন্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আরাফাত হোসেন শাওন বলেন, লাইব্রেরীর বেহাল চিত্র দেখে তারা অধ্যক্ষের সাথে কথা বলেছিলেন। সেখানকার বই সংরক্ষন ও নতুন বই দরকার। চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসক এখন আর বসে না। অনেকে জানেই না যে যাদুঘর আছে। আমরা এ বিষয়ে শিগগিরই কথা বলবো। একই মত দিয়েছেন কলেজের কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এব্যপারে বরিশাল বিএম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া বলেন, লাইব্রেরী সব সময়ই খোলা থাকে। করোনার কারনে ছাত্র ছাত্রী উপস্থিতি খুবই কম। তিনি জানান, রিডিং রুম ও কমন রুম আগের চেয়ে অত্যাধুনিক। কে বলছে পত্রিকা নেই, হয়তো পড়তে আসলে নিয়ে যায় শিক্ষাথীরা। ছাত্রী কমন রুমে কর্মচারী না থাকা প্রসঙ্গ বলেন, সেখানেও লোক আছে। তিনি মিউজিয়াম বন্ধ থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, করোনার কারনে ছাত্র ছাত্রীদের চিকিৎসা সেবা দিতে ডাক্তার আসছে না।
