সাগরে জলদস্যূবাহিনীর সমম্বয়কারীসহ ৬ জন গ্রেফতার

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট:
সুন্দরবন-সংলগ্ন দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুবাহিনীর সমম্বয়কারীসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৮। জলদস্যু বাহিনীর উপ বাহিনীর প্রধান ইলিয়াস আলী মৃধাকে (২৮) মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বোয়ালিয়া-পঙ্গীয়া এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করাা হয় আরও ৫ জলদস্যু। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় আগ্নোয়স্ত্র ও গুলি। শুক্রবার বরিশালে র‌্যাব- ৮ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

গ্রেফতার জলদস্যুরা হচ্ছে- বরগুনার তালতলী উপজেলার খলিল জমাদ্দার (৫০), পটুয়াখালী কলাপাড়া উপজেলার মাহতাব পেয়াদা (৩৩), একই উপজেলার জামাল আকন্দ (৩৬), মো. মাছুম ওরফে মানছুর খলিফা (৪৬), ও পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার মিনাজ খাঁ (৪০)। এদের মধ্যে খলিল জমাদ্দার জলদস্যুদের মূল সমন্বয়কারী বলে দাবি করেছে র‌্যাব।
র‌্যাব-৮ গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মুঈন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিন বছর বন্ধ থাকার পর গত নভেম্বরে বঙ্গোসাগরে জসদস্যুদের উপদ্রব বৃদ্ধি পায়। ১৬ নভেম্বর রাতে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের মান্দারবাড়ী এলাকায় একটি ট্রলারে থেকে ১৮-২০ জনের জলদস্যু গুলি করে পাথরঘাটার এক জেলেকে হত্যা করে। এরপর জলদস্যুদের দলটি জেলেদের জাল, মাছ, জ্বালানিসহ প্রায় আট লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয়। পরের এক সপ্তাহে কমপক্ষে ২০টি ট্রলার থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকার জাল, মাছ ও জ্বালানি লুটপাট করে দস্যু দলটি।

এ সময় সাত জেলেকে অপহরণ করা হয়। প্রত্যেকের পরিবারের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। ২৬ নভেম্বর ওই জেলেরা ছাড়া পাওয়ার পর পাথরঘাটা থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।

এরপর থেকেই র‌্যাব জলদস্যুদের আটক করতে গোয়েন্দা অভিযান শুরু করে। নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে ইলিয়াস আলী মৃধাকে মঙ্গলবার আটকের পর তার দেয়া তথ্যে জলদস্যুদের বাহিনীর আস্তানার সন্ধান পায়।

গ্রেফতারকৃতদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব জানিয়েছে, এ জলদস্যু বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ১৭-১৮ জন। গত ৩-৪ বছর আগে দলটি গঠন করে বিভিন্ন সময়ে তাঁরা মাছ ধরার মৌসুমে সাগরে জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় ও জাল, মাছ এবং অন্যান্য মালামাল লুট করে। কয়েকটি উপদলে বিভক্ত হয়ে চট্টগ্রাম, সন্দীপ, কক্সবাজার ও ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা এলাকার দূরবর্তী বঙ্গোপসাগরে তৎপরতা চালাতো তারা।

গ্রেপ্তারকৃত খলিল জমাদ্দার জলদস্যু বাহিনীর মূল সমন্বয়কারী। তিনি তালতলী, আমতলী, পটুয়াখালীতে দোকান পরিচালনার ছদ্মবেশে ডাকাতি কার্যক্রমের সমন্বয়, ডাকাতি পরিকল্পনা এবং গোপনে ডাকাত দলকে নানাবিধ সহযোগিতা করতো। ডাকাত দলের লুন্ঠিত মাছ কয়েকজন সুবিধাবাদী মৎসব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রির ব্যবস্থা করতো খলিল জমাদ্দার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *