নাগরিক রিপোর্ট : কন্যা সন্তানের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় ক্ষোভে বালতির পানিতে চুবিয়ে ছেলে সন্তানকে হত্যার অভিযোগ
রোববার (১৯ ডিসেম্বর) বেলা ১১ টার দিকে গৌরনদী থানা পুলিশ শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপালে পাঠিয়েছে।
মৃত শিশুটির নাম জোবায়ের। সে গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের বড় দুলালী গ্রামের সাগির হোসেন তালুকদার ও পলি দম্পতির ছেলে সন্তান।
স্বজনরা জানান, সাগির হোসেন ও পলি দম্পতির দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। তারা আশা করছিলেন দুই ছেলে সন্তানের পর কন্যা সন্তান হবে। কন্যা সন্তান নিয়ে পলি বেগম জল্পনাকল্পনা করতেন। তবে সাড়ে ৩ মাস আগে আরও একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন পলি বেগম। সন্তান মেয়ে না হওয়ায় অসন্তুষ্ট ছিলেন পলি বেগম। তৃতীয় ছেলে সন্তান জোবায়েরকে তেমন আদর যতœও করতেন না। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১ টার পর জোবায়েরকে ঘরে পাওয়া যাচ্ছিলো না। অনেক খোঁজাখুজির পর রাত ১২ টার দিকে পরিবারের সদস্যরা গোয়াল ঘরের পাশে বালতির পানির মধ্যে শিশু জোবায়েরকে চুবিয়ে ধরা অবস্থায় পলিকে দেখতে পান। শিশুটিকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসলে পলি দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা মৃত অবস্থায় শিশু জোবায়েরকে বালতির পানির মধ্য থেকে উদ্ধার করে।
জোবায়েরের বাবা সাগির হোসেন তালুকদার জানান, জোবায়ের জন্ম গ্রহণের পর থেকে পলি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। মন খারাপ করে থাকতেন। পলি জোবায়েরকে তেমন পছন্দ করতেন না। রাতে জোবায়েরের মৃত্যুর পর স্ত্রী পলিকেও পাওয়া যাচ্ছে না।
গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আফজাল হোসেন জানান, ঘটনার পর থেকেই ছালেহা আক্তার পলি বেগমের খোজ পাওয়া যাচ্ছে না। তার সন্ধান করছে পুলিশ। পরিবারের সদস্যরা জোবায়েরের মুত্যুর জন্য পলি বেগমকে দায়ী করছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। পলি বেগমকে হত্যা করেছে, না এর নেপথ্যে ভিন্ন কিছু আছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
