নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) অগ্নিদগ্ধদের আহাজারীতে ভারি হয়ে উঠেছে। শুক্রবার সকাল থেকে এসব রোগীর ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের বারান্দায়। বিকেল পর্যন্ত সুগন্ধ্যা নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চে আগুনে দগ্ধ ৭২জন রোগী ভর্তি হয়েছে বলে হাসপাতাল সুত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে ৮জনকে মুমূর্ষ অবস্থায় ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেয়ার ঘোষনা দেন।
শেবাচিম হাসপাতালের ৫ তলার বারান্দায় শুক্রবার সকাল ১১টায় কমপক্ষে ৩০জন অগ্নিদগ্ধ ছিলেন। কথা হয় মো: রিমন নামে মঠবাড়িয়ার এক মাদ্রাসা ছাত্রের সাথে। সে জানায় মধ্যরাতে হঠাৎ আগুন লাগে লঞ্চের ইঞ্জিন রুমে। ঝালকাঠীর কাঠাকাছি আসার ১০ মিনিট আগে এ ঘটনার পর এমভি অভিযান-১০ লঞ্চের মাস্টার এটি তীরে নিয়ে আসলেও দরজা খুলছিল না স্টাফরা। পরে আবার লঞ্চটি নদীর মাঝে নিয়ে যাওয়ায় অবস্থা বেগতিক দেখে তিনিসহ বহু যাত্রী সুগন্ধ্যা নদীতে ঝাপ দেন। একই কথা জানান সেখানে ভর্তি হওয়া রোগী আব্দুল্লাহ।
সরেজমিনে হাসপাতালের ৫ম তলা ঘুরে দেখা গেছে পুরুষ রোগীর সংখ্যা বেশি। বারান্দায় নার্স কোন রকম চিকিৎসা দিচ্ছেন। ৩য় তলায় মহিলা রোগীদের অবস্থা আরও খারাপ। আমেনা নামে এক স্কুল ছাত্রীর দুই হাত পুড়ে গেছে। তিনি খুজছেন স্বজনদের। দ্বিতীয় তলা ঘুরে দেখা গেছে, শিশু ওয়ার্ডে ৮জন রোগী ভর্তি হয়েছে এর মধ্যে ৩জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের গেটে দেখা গেল একাধিক এ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা পাঠানো হচ্ছে রোগীদের।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি বেলা সোয়া ১টায় শেবাচিম হাসপাতালে আসেন। তিনি ওয়ার্ডগুলো ঘুরে দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন। এসময় খালিদ মাহমুদ সুজন সাংবাদিকদের বলেন, লঞ্চে অগ্নিকান্ডের কারন উদঘাটনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আহত রোগীদের সুচিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, নিহতের প্রত্যেক পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে দেড় লাখ টাকা দেয়া হবে।
দুপুরের দিকে সকল রোগীকে চক্ষু ইউনিটে স্থানাস্তর করা হয়। বিকেল ৩টার দিকে হেলিকপ্টারে আসেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হয়েছে।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম জানান, তখন পর্যন্ত ৭৮ জনকে হাসপাতালে দগ্ধ রোগীকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। রোগীদের দুপুরের দিকে চক্ষু ইউনিটে এনে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি জানান, যারা ৮০ ভাগের ওপরে দগ্ধ হয়েছেন তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরন করা হয়েছে। দুপুর পর্যন্ত ৮ জন দগ্ধ রোগীকে ঢাকায় প্রেরন করা হয়েছে জানান পরিচালক।
