যাত্রীবাহী লঞ্চে দুর্বল অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশাল-ঢাকা নৌপথসহ দক্ষিনাঞ্চলের অধিকাংশ যাত্রীবাহী লঞ্চে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা বেশ দুর্বল। এসব লঞ্চের কাগুজে সার্বে সনদে অগ্নিনির্বাপনের যন্ত্রাংশ অনেকটাই মেয়াদ উত্তীর্ন। দক্ষ জনবল না থাকায় এগুলো ব্যবহার করতেও জানেন না লঞ্চের স্টাফরা। যেকারনে সুগন্ধ্যায় এমভি অভিযান-১০ এর মত দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা করেছেন সংশ্লিস্টরা। লঞ্চ মালিকরা সার্ভে সনদ অনুযায়ী অগ্নিনির্বাপন ব্যাবস্থা রাখার কথা বললেও নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের সংশ্লিস্টরা মেয়াদ উত্তীর্ন ও অদক্ষ জনবল থাকার বিষয়টিতে একমত পোষন করেছেন।

সরেজমিনে শুক্রবার দুপুরে বরিশাল নৌবন্দর ঘুরে লঞ্চগুলোতে অপ্রতুল অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা দেখা গেছে। কয়েকটি লঞ্চের বিভিন্ন ফ্লোর ঘুরেও অগ্নি নির্বাপনের কোন ব্যবস্থা চোখে পরেনি। লঞ্চের ইঞ্জিন রুমের পাশেই চলছে রান্নাবান্নার কাজ। একপাশে ছোট টি স্টল। যে কেউ ইঞ্জিন রুমের কাছে চলে আসছেন অনায়াসে।

জানতে চাইলে এমভি সুন্দরবন-১০ লঞ্চের মাস্টার মজিবর রহমান বলেন, বরিশাল-ঢাকা নৌ পথে লঞ্চের অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা বেশ দুর্বল। লঞ্চের ফায়ার স্টিংউইসার অপ্রতুল। সার্ভে সনদে যে পরিমান অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র দেয়া হয় তা পর্যাপ্ত কিনা সেটা ভাবার সময় এসেছে। সুন্দরবন-৭ লঞ্চে ২০০০৯ সালে আগুন লেগেছিল। এগেুলো ব্যবহার করার দক্ষ জনবল নাই। এজন্য ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষন দেয়া দরকার। ইঞ্জিন রুমে বড় ৪টি ফোম টাইপ থাকা দরকার। আগুন নিয়ন্ত্রনর পোষাক, বুট, মাস্ক কোন লঞ্চেই নেই। এছাড়া আগুন নিয়ন্ত্রনের জন্য বালি, বালতি রাখা হয়।

তিনি বলেন, লঞ্চে ৩ ধরনের আগুন লাগতে পারে। এগুলো হচ্ছে- তেলের আগুন, ইলিকট্রিক, সলিট আগুন। এ জন্য যেসব যন্ত্র আছে তা কতটা কার্যকর সেটি নিয়মিত খতিয়ে দেখা দরকার। কেন না অনেক আগের মেয়াদ উত্তীর্নউপাদান রিফিল করে না। লঞ্চে যে পরিমান বরাদ্ধ দেয় তা দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রন সম্ভব না। লঞ্চের স্টাফরা প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত না। কেবিনের লবিতে অগ্নিনির্বাপনের পযাপ্ত সরঞ্জাম নাই।

লঞ্চ লেবার এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক ও সুন্দরবন ১১ এর মাস্টার আলমগীর হোসেন আলম বলেন, অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র লঞ্চগুলোতে যে পরিমান আছে সেগুলো ব্যবহারের দক্ষ জনবল নেই। যখন ব্যবহার করতে হবে তখন প্রয়োগ না করতে পাড়লে তো সুগন্ধ্যায় এমভি অভিযান-১০ এর মতই ঘটবে। তিনি বলেন, এসব ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষন এবং পরীক্ষা করা হয়নি। প্রতি সেক্টরকে বছরের আগে মাথায় প্রশিক্ষন দেয়া দরকার। তিনি বলেন, ফায়ার যন্ত্রপাতি ডেট ওভার হলেও লেভেল লাগিয়ে দিলে কি করার আছে। এগুলো দেখার কেউ নেই।

লঞ্চ মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু এ প্রসঙ্গে বলেন, বরিশাল-ঢাকা নৌ পথে অগ্নি নির্বাপনের ব্যবস্থা শত ভাগ রয়েছে। প্রতিবছর সকল লঞ্চে সার্ভে হচ্ছে। ইঞ্জিন রুমে সব ব্যবস্থা আছে। তবে সুগন্ধ্যা নেদীতে কেন হলো দুর্ঘটনা তা তদন্তে বেড়িয়ে আসবে। তিনি বলেন, ইঞ্জিন ক্যাপাসিটি অনুযায়ী অগ্নিনির্বাপনের ব্যবস্থা হচ্ছে। স্টাফদের আগুন নিয়ন্ত্রনের প্রশিক্ষন না থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ট্রেনিং এলে তো স্টাফদের পাঠানো হয়। এর কোন উপাদান মেয়াদ উত্তীর্ন কিনা তা সার্ভে তে ধরা পড়ে।
বরিশাল নৌবন্দর কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা কতটা আছে তা নিশ্চিত করে নৌ পরিবহন অধিদপ্তর। এটি দেখার জন্য সার্ভেয়ার ও পরিদর্শক আছে। তারা বিষয়গুলো দেখবে।

এব্যাপারে নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের বরিশালের পরিদর্শক নুরুল করিম বলেন, সার্ভে সনদ হিসেবে বরিশাল-ঢাকা লঞ্চে অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র আছে। এখন প্রকৃত অর্থে কি অবস্থায় আছে তা নতুন করে দেখতে হবে। মাস্টাররা মেয়াদ উত্তীর্নর কথা বললে তাদের সাথে এক মত। হয়তো কোনটার ২ মাস কিংবা কোনটা ১ মাস ধরে মেয়াদ উত্তীর্ন আছে। এগুলো ব্যবহারে প্রশিক্ষন প্রাপ্ত স্টাফ না থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটার জন্য মালিক পক্ষ দায়ী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *