নাগরিক রিপোর্ট : বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের বার্ণ ও প্লাষ্টিক সার্জারী বিভাগের প্রধান ফটকটি শুক্রবার বেলা দেড়টায় তালাবদ্ধ দেখা গেছে। তালা ও গেটে ধুলাবালুর স্তুুপ দেখা বোঝা গেছে অনেকদিনে সেটি খোলা হয়নি। এসময় হাসপাতালের তৃতীয় ও পঞ্চম তলায় নারী ও পুরুষ সার্জারী বিভাগ এবং শিশু বিভাগে ৭০ জনেরও বেশী অগ্নিদগ্ধ রোগী চিকিৎসার অভাবে কাতরাচ্ছেন। ঢাকা থেকে বরগুনাগামী অভিযান- ১০ লঞ্চের যাত্রী ছিলেন তারা। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ঝালকাঠীর সুগন্ধা নদীতে লঞ্চটিতে অগ্নিকান্ড হলে দগ্ধ হয়েছেন এ যাত্রীরা। দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র শেবাচিম হাসপাতালের বার্ণ ইউনিট দেড় বছর যাবত বন্ধ এবং বার্ণ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় সুচিকিৎসা পাচ্ছেন না লঞ্চে অগ্নিদ্বদ্ধ যাত্রীরা।
শেবাচিম হাসপতালের সার্জারী বিভাগের চিকিৎসকরা অগ্নিদগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। রোগীর স্বজনরা জানান, এখানে চিকিৎসা বলতে শুধুমাত্র পোড়া জায়গায় মলমের প্রলেপ দেয়া।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চিকিৎসক না থাকায় শেবাচিম হাসপাতালের বার্ণ ও প্লাষ্টিক সার্জারী বিভাগটি ২০২০ সালের ১৫ মে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। হাসপাতালের নিচতলায় পূর্ব ব্লকে ১২টি শয্যা নিয়ে বার্ণ ও প্লাষ্টিক সার্জারী বিভাগ চালু হয়েছিল ২০১৫ সালের ১২ মার্চ। রোগীর চাপ থাকায় পরবর্তীতে সেটি ৩০ শয্যায় উন্নীত হয়েছিল। প্রতিদিন সেখানে অর্ধশতাধিক রোগী ভর্তি থাকতো।
এ বিভাগে ৮ জন চিকিৎসক ও ১৬ জন নার্স পদ ছিল। তবে শুরু থেকে বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত মাত্র ১ জন চিকিৎসক দিয়ে বিভাগটি কার্যক্রম চালানো হতো। একমাত্র চিকিৎসক সিনিয়র কনসালট্যন্ট ডা. এ এম সজল আজাদ ২০২০ সালের ২৮ এপ্রিল রহস্যজনকভাবে মারা যান। নগরীর মমতা স্পেশাইলজ হাসপাতালের লিফটের নিচে তার লাশ পাওয়া যায়। তার মৃত্যুর পর থেকে বার্ণ ইউনিটে অচলবস্থা নেমে আসে। চিকিৎসা সেবা স্বাভাবিক রাখতে ডা. শাখাওয়াত হোসেনকে দায়িত্ব দেয়া হলেও প্রথমে তিনি ৬ মাসের ছুটিতে পরবর্তীতে বদলী হয়ে যান। ফলে চিকিৎসক সংকটে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিভাগটি বন্ধ করে দেন। এরপর থেকে শেবাচিমতে চিকিৎসা নিতে আসা গুরুতর দগ্ধ রোগীদের ঢাকায় প্রেরন করা হয়।
শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টায় জানান, অভিযান- ১০ লঞ্চে অগ্নিকান্ডে দগ্ধ ৭৮ জনকে শেবাচিম হাসপাতালে অনা হয়েছে। তার মধ্যে ৭ জন শিশু। ৮০ ভাগের ওপরে দগ্ধ হওয়া ৭ জনকে ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ণ অ্যান্ড প্লাষ্টিক সার্জারী ইনষ্টিটিউটে প্রেরন করা হয়েছে।
শেবাচিম হাসপাতালের তথ্য প্রদানে দায়িত্বরত জাকারিয়া খান স্বপন বিকাল ৫টায় জানান, অভিযান- ১০ লঞ্চে অগ্নিদগ্ধ মোট ৭৮ জনকে ভর্তি করা হয়। তারমধ্যে ৭ জনকে উন্নত চিকিৎসকার জন্য ঢাকায় প্রেরন ও দুপুরে এক শিশুর মৃত্যু হলে ৭০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।
স্বপন জানান, চিকিৎসা দেয়ার সুবিধার্তে দুপুরের পর দগ্ধ সকল রোগীকে হাসপাতালের নাক-কান গলা বিভাগের একটি কক্ষে নেয়া হয়েছে। বিকালে বিমানে ঢাকা থেকে ৫ জন বার্ণ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বরিশালে পৌছেছেন। বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি বিকাল ৩টায় হেলিকপ্টারে বরিশালে পৌছে শেবাচিম হাসপতালে এসে দগ্ধ রোগীদের খোঁজখবর নেন। এসময় স্বাস্থ্য সচিব তার সঙ্গে ছিলেন। তারা দ্রুত বার্ণ ইউটিন চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন।
২০২১-১২-২৫
