ধর্মঘটের নেপথ্যে: পাঁচ কারনে নৌ সেক্টরে অস্থিরতা
নাগরিক রিপোর্ট ॥ আকস্মিকই অস্থির হয়ে উঠেছে নৌ সেক্টর। নানা দাবীতে নৌ শ্রমিকরা ধর্মঘট ঘোষনার ২৪ ঘন্টা পার হতে না হতেই মালিকরা নৌ ধর্মঘট শুরু করে। এর ফলে গত মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ঢাকা-বরিশাল নৌপথসহ বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা জিম্মী হয়ে পড়ে। রাজধানীর সাথে বরিশালের নৌযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় মহাদুর্ভোগে পরেন যাত্রী সাধারন। অভিযোগ উঠেছে, মালিক ও শ্রমিকদের স্বার্থে গত ৫ বছরে ৬ থেকে ৭ বার ধর্মঘট ডেকে জিম্মী করেছে যাত্রীদের। হঠাৎ এমন অস্থিরতার ৫টি কারন খুজে পাওয়া গেছে শ্রমিক, মালিকসহ নৌযান সংশ্লিস্টদের সাথে কথা বলে। দুই পক্ষই দাবী করেছে ঈদের আগ মুহুর্তে এমন ধর্মঘটের নেপথ্যে গভীর স্বরযন্ত্র রয়েছে।
শ্রমিকদের পর মালিকদের নৌধর্মঘট ডাকার নেপথ্যে ৫টি কারন খুজে পাওয়া গেছে। এগুলো হচ্ছে- নৌযান শ্রমিকদের দাবী নৌ মন্ত্রীর মেনে নেয়া, শ্রমিকদের দাবীর পাল্টা চ্যালেঞ্জ হিসেবে ধর্মঘট ডাকা, দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ, নৌ সেক্টরে সমন্বয়হীনতা এবং অস্থিরতা সৃস্টি করে সরকারকে বেকয়াদায় ফেলা।
১১ দফা দাবীতে মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে নৌ ধর্মঘট শুরু করে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন। পরদিন বুধবার দিনভর নৌ ধর্মঘট ছিল সারাদেশে। বিকেল ৩টায় নৌযান শ্রমিকরা যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোকে ধর্মঘটের আওতামুক্ত ঘোষনা করে। এমন খবরে বরিশাল নৌবন্দর, ঢাকা সদরঘাটসহ বিভিন্ন বন্দরে হাজার হাজার যাত্রী গন্তব্যে যাওয়ার জন্য জড়ো হয়। কিন্তু সন্ধ্যার পর নৌযান মালিকরা আকস্মিক সিদ্ধান্ত নেয় তারা লঞ্চ চালাবে না।
লঞ্চ মালিকদের এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে নৌ সেক্টরে অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পায়। বুধবার রাতে হাতে গোনা ২/১টি লঞ্চ বরিশাল ঢাকা রুটে চলাচল করায় চরম দুর্ভাগে পরেন যাত্রীরা। অসংখ্য যাত্রী বরিশাল নৌবন্দর থেকে বাড়ি ফিরে গেছেন।
জানতে চাইলে বরিশাল লঞ্চ লেবার এসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল হাশেম বলেন, ২০১৬ সালের গেজেট অনুযায়ী কোন মালিক তাদের বেতনভাতাসহ ১১ দফার ১ দফাও এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করেননি। তারা চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল ধর্মঘট করেছেন। ওই সময়ে সরকার ও লঞ্চ মালিকদের সাথে নৌযান শ্রমিকদের বৈঠক হয়। বৈঠকে ৪৫দিনের মধ্যে ১১ দফা বাস্তবায়নের জন্য চুক্তি হয়। এর গত ১৫ জুলাই নৌ মন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেন, কিন্তু মালিকরা আসেনি। ২০ জুলাই এর ঘোষনা অনুযায়ী ২৩ জুলাই থেকে নৌধর্মঘট শুরু করেন। পরে বুধবার দুপুরে নৌমন্ত্রীর সাথে লিখিত চুক্তি হলে তারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন। এবিষয়ে তারা অচিরেই প্রকাশ্যে মতামত দিবেন। নৌ শ্রমিক নেতা হাশেম বলেন, লঞ্চ মালিকরা যখনই শুনেছে যে সরকার তাদের দাবী মেনে নিয়েছে, তখনই কাউকে না জানিয়ে ধর্মঘট ডেকেছে। তারা স্টাফকে বেতন দেয় না। হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েও কেবল শোষন করেন। যেকারনে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তিনি জানতে চান- বুধবার কাদের জিম্মী করে তারা আকস্মিক ধর্মঘট করলেন। মালিকরা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চেয়েছে।
তবে লঞ্চ মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা ও সুন্দরবন লঞ্চের স্বত্তাধিকারী সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, ঈদ, বন্যারা কথা বিবেচনায় এনে তারা বৃহস্পতিবার দুপুরে লঞ্চ চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নৌ শ্রমিকদের অবৈধভাবে ধর্মঘটের অভিযোগ এনে পরাবাত লঞ্চের মালিক শহিদুল ইসলাম ভুয়া একটি ফৌজদারী মামলা করেছেন। তিনি বলেন, নৌ শ্রমিকরা সরকারের ভাবমূর্তি নস্ট করার জন্য ধর্মঘট ডেকেছিল। তারা চুক্তি অনুযায়ী ৫ বছরের স্থলে ২ বছরের মাথায় বেতন বৃদ্ধির দাবী তুলছে। নৌ যান শ্রমিকরা ঈদ আসলেই বিশৃংখলা করে। এমন অরাজকতা কাটিয়ে উঠতে নৌযান মালিকরা আইনী আশ্রয়ে যাচ্ছেন।
তবে বরিশাল নৌবন্দরে বৃহস্পতিবার একাধিক নৌযান শ্রমিক জানান, তারা ঈদ এলেও ঠিকভাবে বেতন পান না। অথচ মালিকরা উৎসব এলেই লাভবনা হন। এ নিয়ে অধিকাংশ লঞ্চের শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
এব্যপারে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার সদস্য সচিব মো: সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, সরকার এই সেক্টরকে এখনও শৃংখলায় আনতে পারেনি। যেকারনে নৌ শ্রমিকরা একত্র হয়ে প্রায়সই ধর্মঘট ডাকে। এতে জনগন ও মালিকরা জিম্মী হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, লঞ্চ মালিকরা এঅবস্থায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
২০১৯-০৭-২৬
