নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) কর্মী পরিচয়ে ব্যানার অপসারণ করাকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকতার বাসভবনে হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহসহ নামধারী ২৮ আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিলেনি বলে পুলিশ দাবী করেছে। হামলার ঘটনা সত্য হলেও মেয়রসহ যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে যথেস্ট সাক্ষি না পাওয়ায় চুড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
তদন্ত শেষে ৬ ডিসেম্বর কোতয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লোকমান হোসেন বরিশালের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামীদের অব্যহতি দেওয়ার আবেদন জানিয়ে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এবং কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) লোকমান হোসেন বলেন, যথেষ্ট সাক্ষী না থাকায় মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। প্রতিবেদন আদালত গ্রহণ না করলে পুনরায় তদন্ত হবে। তবে প্রতিবেদটি এখনও গৃহীত হয়নি।
আদালত সুত্র জানিয়েছে, আগামী ফেব্রুয়ারী মাসে এই মামলার ধার্য্য তারিখ আছে। ওই তারিখে শুনানী শেষে চুড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহন করা বা না করার ওপর আদেশ দেবেন আদালত।
জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৮ আগস্ট রাতে বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সাংসদ ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকর সমর্থনে টানানো ব্যানার অপসারণকে কেন্দ্র করে বরিশাল সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাদানুবাদ হয় তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমানের সঙ্গে। এ নিয়ে ওই রাতে সেখানে দুই পক্ষে সংঘাত সৃস্টি হয়।
এ ঘটনায় ১৯ আগস্ট সদর উপজেলার সাবেক ইউএনও মুনিবুর রহমান বাদী হয়ে মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহকে প্রধান আসামী করে ২৮ জনের নাম উল্লেখ সহ কোতয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
আদালতে দেওয়া চুড়ান্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, এই মামলা তদন্তের দায়িত্ব প্রথম দেওয়া হয়েছিল কোতয়ালী মডেল থানার সাবেক পরিদর্শক (অপারেশন) আনোয়ার হোসেনকে। আনোয়ার হোসেন নগরীর কাউনিয়া থানায় বদলী হওয়ার পর গত ১৯ নভেম্বর মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান কোতয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লোকমান হোসেন।
প্রতিবেদন মতে, ভবিষ্যতে ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের শনাক্ত করা সম্ভব হলে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করা হবে।
