ঘরে ঘুমন্ত বিধবা নারীর লাশ মিলল সন্ধ্যা নদীতে

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট : রাতে একা ঘুমিয়ে ছিলেন নিজ ঘরে। সকালে বাড়ি থেকে ২০০ গজ দুরে সন্ধা নদীতে মিলল বিধবা নারী মরিয়ম বেগমের (৩৫) মৃতদেহ। মাথায় গুরুতর জখম থাকায় ধারনা করা হচ্ছে তাকে হত্যা করেছে দৃর্বৃত্তরা। বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের উত্তর ভূতেরদিয়া গ্রামে বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত মরিয়ম ওই গ্রামের মৃত হারুন অর রশিদের স্ত্রী। হারুন রশিদ সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হয়ে ১১ মাস আগে মৃত্যুবরন করেন। তার ৩ ছেলে ২ মেয়ে রয়েছে। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, মরিয়ম বেগমের ২ ছেলে ঢাকায় চাকুরী করেন। বিবাহিতা ২ মেয়ে থাকেন স্বামীর বাড়িতে। ছোট ছেলে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র আসিফকে নিয়ে স্বামীর ভিটায় থাকতেন মরিয়ম বেগম।
প্রতিবেশী জাহানারা বেগম জানান, ছেলে আসিফ বুধবার বিকালে পাশের উপজেলা গৌরনদীর শরিকল গ্রামে বোন বাড়িতে বেড়াতে যায়। রাতে মরিয়ম ঘরে একা ছিল। একসঙ্গে স্কুলে যাওয়ার জন্য সহপাঠী জয় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে আসিফকে ডাকতে তাদের বাড়িতে যায়। দরজা বন্ধ ও ডাকাডাকি করে সারা না পেয়ে সে ঘরের সামনে অপেক্ষা করতে থাকে।
জাহানারা বেগম বলেন, জয় তাকে দেখে জানায় যে আসিফ ও তার মাকে ডেকে কোন সারাশব্দ পাওয়া যাচ্ছেনা। এসময় তিনি (জাহানারা) ঘরের পেছনে গিয়ে সেখানকার দরজা খোলা দেখেন। বাইরে জাহানারা বেগমের পায়ের স্যান্ডেল। ঘর থেকে নদীর দিকে যাওয়ার পথে ছোপ ছোপ রক্ত পড়ে আছে। এসব দেখে জাহানারা বেগম ডাকচিৎকার দিয়ে প্রতিবেশীদের জড়ো করেন। পরে তারা ২০০ গজ দুরে সন্ধা নদীর তীরে মরিয়মের লাশ দেখতে পান।
কেদারপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নুরে আলম বেপারী জানান, খবর পেয়ে তিনি ও বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করেছে।
বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, মরিয়ম বেগমের মাথায় গুরুতর জখম দেখে ধারনা করা হচ্ছে তাকে শক্ত কোন কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। হত্যাকান্ডে একাধিক দৃবৃর্ত্ত অংশগ্রহন করেছে বলে ধারনা করা হয়েছে। এ হত্যার আগে ধর্ষনের শিকার হয়েছে কি-না তা ময়না তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন ওসি মাহবুব। ##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *