অভিযোগ অস্বীকারের একদিন পরেই একটি দাবী মেনে নিল বিসিসি!

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট : সাত কাউন্সিলরের ৬টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ মিথ্যা দাবী করেছে বরিশাল সিটি করপোরেশ (বিসিসি)। গৃহকর বৃৃদ্ধি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওএসডি করে রাখা, হাট-বাজার ইজারা না দেয়া এবং সম্মানি কম দেয়াসহ ছয়টি অভিযোগ তুলে মেয়র, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিবকে গত ৩ জানুয়ারী আইনী নোটিশ দিয়েছিলেন সাতজন কাউন্সিলর। মঙ্গলবার দেয়া জবাবে অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন বিসিসি কর্তৃপক্ষ। তার একদিন পরেই কাউন্সিলদের একটি অভিযোগ বিসিসি সমাধান করেছেন বলে জানান ওই কাউন্সিলরা।
আইনী নোটিশদাতা সাতজনসহ আওয়ামীলীগ দলীয় মোট ১০ কাউন্সিলর বঞ্চনার অভিযোগ এনে গত আগষ্ট থেকে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক হোসেনের পক্ষে আইনী নোটিশের জবাব দেন অ্যাডভোকেট জগদীশ চন্দ্র সরকার। সাত কাউন্সিলরের পক্ষে আইনী নোটিশদাতা অ্যাডভোকেট আজাদ রহমান জানান, তিনি বুধবার নোটিশের জবাব গ্রহন করেছেন।
বিসিসির দেয়া জবাবের প্রেক্ষিতে আইনী নোটিশদাতা কাউন্সিলরদের অন্যতম ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফ আনিসুর রহমান সমকালকে বলেন, বিসিসি আইনী নোটিশ জবাব দিয়ে আরেকটি আত্মঘাতি ভুল করেছে। তাদের প্রধান অভিযোগ ছিল, অন্য কাউন্সিলরদের ৫০ হাজার টাকা করে সম্মাানি দেয়া হলেও সাত কাউন্সিলরকে দেয়া হতো সাড়ে ৪৩ হাজার টাকা করে।
কাউন্সিলর আনিছ শরীফ বলেন, মঙ্গলবার দেয়া বিবিসির জবাবে বলা হয়েছে কাউন্সিলরদের সম্মানি সাড়ে ৪৩ হাজার টাকা। তবে মাসিক সভায় অংশগ্রহনাকারীরা যাতায়াত ভাতা বাবদ আরও সাড়ে ৬ হাজার টাকা পাচ্ছেন। নোটিশদাতা কাউন্সিলররা সভায় আসেন না, তাই যাতায়াত ভাতার বিল পাচ্ছেন না। এ জবাব দেয়ার একদিন পরই বুধবার সাত কাউন্সিলরের হিসাব নম্বরে ডিসেম্বর মাসের সম্মাানি ৫০ হাজার টাকা করে জমা হয়েছে বলে জানান আনিছ শরীফ। তিনি বিসিসি কর্তৃপক্ষকে উল্টো প্রশ্ন তোলেন, তারা যাতায়াত ভাতার ভাউচার দেননি, তারপরও কিভাবে ডিসেম্বরের সম্মাানি ৫০ হাজার টাকা পেলেন?
আইনী নোটিশে আরও অভিযোগগুলো হচেছ- গৃহকর ১ হাজার গুন বৃদ্ধি, নগর ভবন পরিচালনায় সরকারী আদেশ-নির্দেশ উপেক্ষা করা, পরিষদের প্রথম সভায় কাউন্সিলদের নগর ভবনে যাতায়াত নিষিদ্ধ করা, অযৌক্তিক অভিযোগ তুলে বিপুল সংখ্যক স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ওএসডি করে রেখে অস্থায়ী কর্মচারীদের গুরুত্বপূর্ন পদে পদায়ন, কোন দরপত্র আহ্বান ছাড়াই ব্যক্তি বিশেষকে নগরীর হাট-বাজার ইজারা প্রদান।
বিসিসি’র জবাবে বলা হয়েছে, অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দূর্ণীতির প্রমানের ভিত্তিতেই ওএসডি করা হয়েছে। নগর ভবনের কাজ স্বাভাবিক রাখতে চুক্তিভিত্তিক জনবল নিয়োগ দেয়া হয়। এছাড়া নগর ভবনে সরকারী আইন-কানুনের বিষয়গুলো দেখতে কয়েকজন ক্যাডার কর্মকর্তা প্রেষনে নিযুক্ত আছেন। অন্যান্য অভিযোগুলো পুরোপুরি মিথ্যা ভিত্তিহীন।
প্রসঙ্গত বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ সঙ্গে বেশীরভাগ কাউন্সিলেরর অঘোষিত দুরত্ব চলছে। মেয়র অনুসারী ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরা বিসিসি কর্মী পরিচয়ে গত ১৮ আগষ্ট রাতে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম এমপির পক্ষে লাগানো ব্যানার অপসারন করতে যান। এনিয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মেয়র অনুসারীদের তুলকালামকান্ড হয়। এর কয়েকদিন ১০ জন কাউন্সিলর মেয়রের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়ে সদর আসনের সাংসদ পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীমের সঙ্গে রাজনীতি করার ঘোষনা দেন।##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *