বরিশাল বিএনপির হেভিয়েট নেতারা উপেক্ষিত

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশাল বিএনপির হেভিওয়েট নেতারা ধীরে ধীরে দুরে সরে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন সাংসদ, মেয়র কিংবা দলের গুরুত্বপুর্ন পদে থাকা এসব নেতা কয়েক মাস আগেও বরিশাল বিএনপির কান্ডারী ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, নতুন নেতৃত্ব সৃস্টি হওয়ায় দলে চরম ভাবে উপেক্ষিত সরোয়ার, চাঁন, কামাল, মেজবাহ’র মত সিনিয়ররা। নতুন কমিটির অনেকে আবার হামলা, লাঞ্চনা, বঞ্চনারও সম্মুখীন হচ্ছেন। গুঞ্জন রয়েছে, বরিশাল সিটির মেয়র এবং সদর আসনের এমপি পদের দিকে চোখ পড়েছে কয়েক নবীন নেতার। যুবদল, ছাত্রদল, কাউন্সিলররাও আগামী নির্বাচনে এমপি এবং মেয়র হতে উঠে পড়ে লেগেছেন। এজন্য হেভিওয়েটদের দুরে সরিয়ে সরব হয়ে উঠেছেন জনপ্রতিনিধ হওয়ার স্বপ্ন বিভোর এসব উঠতি নেতা।

বরিশাল সদরের ৪ বারের সাংসদ এবং সিটি মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ার এখনও দলের যুগ্ন মহাসচিব। দু:সময়ের এই নেতা এখন দলের সভা-সমাবেশে দাওয়াত পান না। দলের জন্য নিজেকে বিসর্জন দেয়া নিবার্হী সদস্য এবায়দুল হক চাঁন রোববার সমাবেশে গিয়ে অপমানিত হয়ে চলে এসেছেন চাঁন। একাধিকবার সিটি মেয়র হওয়া আহসান হাবিব কামাল কিছুদিন আগেও বিএনপির অনেকের ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। তার খোজ আর কেউ রাখেন না। সাবেক এমপি মেজবাউদ্দিন ফরহাদ উত্তর বিএনপির পোড় খাওয়া নেতা হয়েও এখন উপেক্ষিত।

গত বছর নভেম্বরে বরিশাল নগর, উত্তর ও দক্ষিন বিএনপির নতুন নেতৃত্ব হওয়ার পর দলে উপেক্ষিত শীর্ষ এই নেতারা। যেকারনে বিএনপির একটি বড় অংশ মুখ ফিরিেেয় নিচ্ছেন দল থেকে। নগর বিএনপির সাবেক সহ সাধারন সম্পাদক আনোয়ারুল হক তারিন বলেন, অনেকেই এমপি, মেয়র হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। এজন্য ১২-১৩ বছর পর ঘন ঘন বরিশালের কর্মসুচীতে অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু এমপি-মেয়র হতে যে যোগ্যতা লাগে তা আছে কিনা সেটা ভাবতে হবে।

জানা গেছে, রোববার বরিশালে বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বরিশালে অবস্থান করলেও ওই সমাবেশে দাওয়াতই পাননি সরোয়ার। নির্বাহী সদস্য এবায়দুল হক চাঁন সমাবেশে এসে পিছনের চেয়ারে বসার জায়গা পেয়ে ক্ষোভে চলে যান। সমাবেশ শেষে নগর বিএনপির সদস্য আফরোজা খানম নাসরিনের গাড়িতে হামলা করেছে যুবদল নেতারা। নাসরিন ছাত্রদলের মাঠ কাঁপানো নেত্রী ছিলেন।

বিএনপির নির্বাহী সদস্য মেজবাউদ্দীন ফরহাদ বলেন, সমাবেশে চাঁন ভাই এসে দেখেন তার চেয়ার পিছনের সারিতে। তিনি ঝামেলায় না জড়িয়ে চলে যান। সাবেক এমপি মেজবাহ মনে করেন অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে দলকে আন্দোলনে এগিয়ে নেয়া দরকার। অথচ উত্তরের সাবেক সভাপতি হলেও কর্মসুচীতে তাকে ডাকেই না।

বিএনপির যুগ্ন মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, যারা ১০-১২ বছর কর্মসুচীতে আসেননি তাদের মহড়া চলছে বরিশাল বিএনপিতে। নিস্ক্রয় এই নেতৃত্ব ভাড়া করে কর্মী আনছে। গুরুত্বপুর্ন নেতাদের দলের বাইরে রেখে রাজনীতি এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে না। তিনি কেন সমাবেশে যাননি এ প্রসঙ্গে সরোয়ার বলেন, ‘আমাকে দাওয়াত দেয়নি।’

তবে বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান ফারুক বলেন, বিএনপিতে কাউকে ডাইভার্ট করার সুযোগ নেই। এখানে মেয়র, এমপি হওয়ার অনেক লোক আছে। দল যাকে মনোনয়ন দিবে তার পাশে সবাই থাকবেন। এজন্য কোন যুবদল নেতে সদরের বাসিন্দা হলে তিনি আসতেই পারেন। কোন জনপ্রতিনিধি আরও উপরে উঠতে চাইতেই পারেন।

ফারুক বলেন, চাঁন ভাই ফোন দিয়ে তাকে বলেছেন, ‘ব্যবস্থাপনা ভাল না থাকায় সমাবেশ থেকে চলে গেলাম।’ তিনি বিষয়টি বুঝতে পারলে হতে দিতেন না। কামাল ভাই শুনেছেন অসুস্থ। মেজবাহ আজকাল প্রোগ্রামে আসেন। নাসরিনের গাড়িতে হামলার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে দক্ষিন বিএনপি। সরোয়ার ভাই যে বরিশালে ছিলেন তা জানতেন না। তাই তারা দাওয়াত দেননি। কিন্তু তারও (সরোয়ার) তো দায়িত্ব আছে। তিনি নাকি নতুন কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে ঢাকায় লোকজন পাঠান, মিটিং করেন।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, চাঁন ভাই বিব্রতবোধ হয়ে সমাবেশ থেকে চলে গেছেন। চাঁনের মত ত্যাগী ও দলের দু:সময়ের নেতাদের সম্মান দেয়া জরুরী। তিনি বলেন, বর্তমান নেতৃত্ব যদি উচ্চাবিলাসে ব্যস্ত থাকেন তবে তা হবে ক্ষতিকর। সরোয়ার, চান, কামাল, শিরিন, মেজবাহ, জিয়া- এদের রাজনৈতিক শত্রু মনে করে দুরে ঠেলে দিলে দল টেকসই হবে না। হেভিওয়েট এই নেতাদের যদি কেউ কেউ দলের বাইরে রাখার স্বরযন্ত্র করে তবে সেটা হবে অশনী সংকেত।

এব্যপারে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, কেউকে বাদ দিয়ে দল এগোবে না। এক সময় অনেকের ট্রেডিশন ছিল চেয়ার পেলেই বড় নেতা বনে যেতেন। এখানে দুই পক্ষেরই দায়িত্ব আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *