দক্ষিণাঞ্চলে ডায়রিয়ার প্রকোপ

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট : চৈত্রর তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। জেলা-উপজেলার হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই আগের দিনের চেয়ে বেশী সংখ্যক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে। ডায়রিয়ার প্রকোপ এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রনের মধ্যে থাকলেও স্বাস্থ্য বিভাগের স্থানীয় শীর্ষ কর্মকর্তারা পুরো বিষয়টি নজরদারীতে রেখেছেন।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. শ্যামল কৃঞ্চ মন্ডল বলেন, প্র্রতিবছর চৈত্র-বৈশাখে পানিবাহিত এ রোগটির প্রকোপ দেখা দেয়। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে নদী-খালের পানি ব্যবহকারীরা ডায়রিয়ায় বেশী আক্রান্ত হন। এর কারন সম্পর্কে এই চিকিৎসক বলেন, চৈত্র গ্রামাঞ্চলের পুকুর-ডোবা ও খালের পানির পরিমান কমে যায়। দীর্ঘদিন পানি আটকে থাকায় তারমধ্যে এক ধরনের জীবনু তৈরী হয়। ওই পানিতেই গ্রামের মানুষ থালাবাটি ধোয়া, রান্না কাজে ব্যবহার এবং খালে গোসল করেন। এতে মানুষের শরীরে জীবানু প্রবেশ করে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন।
ডা. শ্যামল কৃঞ্চ মন্ডল আরো বলেন, শহরের পথচারীরা তীব্র গরমে পিপাসু হয়ে পথেঘাটে শরবতসহ নানা মুখরোচক খাবার খাচ্ছেন। এ থেকেও ডায়রিয়া ছড়াচ্ছে। ডা. শ্যামল কৃঞ্চ বলেন, ডায়রিয়া এখন কোন ভীতিকর সংক্রামন নয়, সচেতন থাকলেই এটা নিয়ন্ত্রনে রাখা যাবে। সব হাসপাতালেই পর্যাপ্ত খাবার ও আইভি স্যালাইন মজুদ রয়েছে।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের ৬ জেলায় গত ফেব্রুয়ারী মাসে যে সংখ্যক মানুষ ডায়রিয়ার আক্রান্ত হন, তার দ্বিগুন আক্রান্ত হয়েছে চলতি মাসের ২৩ মার্চ পর্যন্ত।
এ দপ্তরের পরিসংখ্যানবিদ আহসান কবির জানান, ফেব্রুয়ারী মাসে ৬ জেলায় মোট ১ হাজার ৮১০ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। অপরদিকে চলতি মাসে ২৩ মাস পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৬৪৫ জন। উপকূলীয় এলাকায় আক্রান্তের হার বেশী।
বরিশাল জেলা সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। এ ওয়ার্ডের সেবিকা ইনচার্জ শামসুন্নানার জানান, গত ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত এ হাসপাতালে ৬৪ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। গত ২২ মার্চ একদিনে সবোচ্চ ১২ জন রোগী ভর্তি হন। তারা সকলে ছিলেন নারী। শামসুন্নাহার জানান, নারীরাই বেশী আক্রান্ত হচ্ছেন। সদর হাসপাতালে এ পর্যন্ত চিকিৎসা নেয়া ৬৪ জনের মধ্যে নারী ৪১ জন এবং পুরুষ ২৩ জন। এ সেবিকার মতে, নারীরা বাসী খাবার বেশী খাওয়ায় তাদের আক্রান্তের সংখ্যাও বেশী।
হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সাহরাজ হায়াত বলেন, নারীদের পাশাপাশি শিশু আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে।
বরগুনার আমতলী উপজেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুমন খন্দকার জানান, দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় এবং রোদের তাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলীয় এলাকায় নদী-খালে লবনক্তার পরিমান বেড়ে গেছে। যে কারনে উপকূলীয় এলাকায় চলতি মাসে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। এ চিকিৎসক জানান, আমতলী হাসপাতালে গত এক সপ্তাহে ৪৫ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।
বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন ডা. মারিয়া হাসান বলেন, ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব জেলায় কিছুটা বেড়েছে। খাল-পুকুরের পানি ব্যবহার না করার জন্য জনগণকে উদ্বুত্ব করতে স্বাস্থ্য কর্মীদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। গতবছর বাকেরগঞ্জ উপজেলায় খালের পানিতে কলেরার জীবানু পাওয়ায় এ সতর্কতা নেয়া হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন বলেন, বর্ষা মৌসুম শুরু না হওয়া পর্যন্ত সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *