সৈয়দ জুয়েল:
একটি সত্য ঘটনার গল্প দিয়ে লিখাটা শুরু করি- এক সমালোচক পাশের বাড়ীর এক ছেলেকে হিংসে করতো। হিংসের মূল কারন পাশের বাড়ীর ছাত্রটি বেশ মেধাবী ছিলো। তো এস,এস,সি পরীক্ষার সময় রাত জেগে পড়ায়,এলাকার লোকজনে বলাবলি শুরু করলো-ছেলেটা অনেক ভাল রেজাল্ট করবে। জনৈক সমালোচক এই শুনে বলে-পড়ালেখা করে লাভ নেই,ভাল রেজাল্ট করতে পারবেনা। পরীক্ষার ফল প্রকাশে দেখা যায় ঐ ছেলে দেশের মেধা তালিকায় পঞ্চম হয়। এ শুনে সমালোচক সবাইকে বলে বেড়ায় প্রথম তো হতে পারেনি!
পরবর্তীতে এইচ,এস,সিতে মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হলে সমালোচক আবারও বলে-প্রথম আর হলো কই! যখন সে গ্রাজুয়েশন শেষ করে প্রথম ক্লাস হয়ে,সে সময়ও সমালোচক বলে রেজাল্ট ভাল করলেও জীবনে ভাল চাকুরী পাবেনা। ছেলেটি যখন ভাল একটি চাকুরী পায়,তখনও সমালোচক বলে-চাকুরী ভাল পেলেও জীবনে পদোন্নতি আর হবেনা!
ওদিকে যে সমালোচক উনি এক চায়ের দোকানদার ছিলো,এই এত বছরে উনি চায়ের দোকানদারি-ই রয়ে গেলেন। এই হলো সমালোচক আর যাকে নিয়ে সমালোচনা করা হয়,তার মাঝে পার্থক্য। আপনি যত ভাল কাজই করেননা কেন,এক শ্রেনীর মানুষ আপনাকে নিয়ে সমালোচনার দোকান খুলে বসবেই। এক জীবনে আপনার সফলতায় সবাইকে কাছে পাবেন,এটি ভাবা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। এটি জ্ঞানীরা বেশ ভাল ভাবে জানে বলেই তারা সফল।
কাজ যারা বেশি করবেন,তাদের নিয়েই সমালোচনা হবে। অকর্মা,বোধহীন, উপলব্ধি হীন মানুষরা আপনার কাজের মূল্যায়ন না করলেও,সমাজের বৃহত অংশ তাদের জাগ্রত বিবেক দ্বারা আপনার পাশে সবসময়ই থাকে। এটিই তাদের এগিয়ে যাওয়ার জন্য বড় শক্তি। সমাজের অসঙ্গতিপূর্ণ চিত্র ফুটিয়ে তুললে কারো গাত্রদাহ হবে,এটি মেনেই সচেতন মানুষরা এগিয়ে চলে। বনের মাঝে দূর্বাঘাস মাড়িয়ে চলা লোকটি পায়ের নীচে দলিত হওয়া নানা রংয়ের ঝরাপাতার রং,আকৃতির কথা যেমন স্নরন করেনা,তেমনি সমালোচকদের বাঁকা তর্জনী,প্রলাপ মাড়িয়ে পথ চলেন তারা।
তবে যুক্তির সমালোচনার কদর করেন এরা। সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরতে আপনার দু-চারজন শত্রু হয়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক ঘটনা। তবে আপনার পাশে থাকবে সমাজের আলোকিত অনেক মানুষ। যারা আপনাকে প্রতিনিয়ত সাপোর্ট দিয়ে যাবে। কেউ মন থেকে শুভ কামনা জানিয়ে,আবার কেউ কেউ একদম পাশে থেকে দু’হাত বাড়িয়ে।
নেতিবাচক চিন্তা শীল মানুষরা ঘরে বাইরে সুখী হয়না বলেই অন্যের সুখ বা সফলতায় ঈর্ষান্বিত হয় মরনব্যাধি ক্যানসারের মত। শরীরে একবার এই রোগ বাসা বাধলে,তা থেকে উত্তরনে থেরাপি দিয়ে একটু ভালো করলেও আবারও পুরানো চেহারায় ফিরে আসে। তাই এ জাতীয় সমালোচকদের এড়িয়ে চলাই উত্তম।
আপনি যে চেয়ারটায় বসে আছেন,তার আশেপাশে অনেকেই ঘাপটি মেরে বসে থাকবে-দখল বা নড়বড়ে করে দেয়ার জন্য। তাই যত্ন করুন চেয়ারের। সাবধান থাকুন,আর নিজের সেরা কাজ করেই চলুন ক্লান্তিহীন। সফলতার পর সফলতায় সমালোচকদের মুখে ছাই দিয়ে বিজয়ের শেষ হাসি আপনি-ই হাসবেন।
