ইফতার পার্টির নামে চাঁদাবাজীর অভিযোগ বরিশাল মহানগর বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট : ইফতার পার্টি আয়োজনের নামে ব্যাপক চাঁদাবাজীর অভিযোগ উঠেছে বরিশাল মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে। আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসহ একাধিক নেতাকর্মী এ অভিযোগ করেছেন। মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক চাঁদাবাজীর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, নিজেদের টাকা ও শুভাকাংক্ষীদের সহায়তায় দলের ইফতার পার্টি সম্পন্ন করেছেন।
বৃহস্পতিবার বরিশাল নগরের জেলা স্কুল মাঠে বিশাল প্যান্ডেল করে মহানগর বিএনপির ইফতার অনুষ্ঠান হয়। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া স্কাইপিতে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তৃতা করেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা স্কুল মাঠে গিয়ে দেখা গেছে , স্কুলের মাঠে বিশাল সামিয়ানা এবং ডিসপ্লে বসানো হয়েছে। প্যান্ডেলের নিচে কয়েকশ নেতাকর্মীর বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
দলের একাধিক সুত্র জানায়, ইফতার আয়োজনের জন্য ৪২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির প্রত্যেক সদস্যকে সর্বনি¤œ ২ হাজার টাকা চাঁদা ধার্য্য করা হয়। অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছলদের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে আরও অনেক বেশী। এছাড়া নগরের কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোট অংকের চাঁদা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। দপদপিয়া এলাকায় এক ধর্ণাঢ্য ঠিকাদারের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে দলের একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছেন। ওয়ার্ড কমিটির পদপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে চাঁদা নেয়ার অভিযোগ করেছেন ওয়ার্ড পযায়ের অনেক নেতা।
মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মুসা কাজল বলেন, ‘আমার কাছে যুগ্ন আহবায়ক মাকসুছুর রহমান মাকসুদ ইফতারের জন্য চাঁদা চেয়েছিলেন, আমি দেইনি।’ আহবায়ক কমিটির আরেক সদস্য আফরোজা খানম নাসরিন বলেন, ‘সদস্য সচিব আমার কাছে ২ হাজার টাকা চেয়েছেন। আমি বলেছি আপনারা আহবায়ক এবং সদস্য সচিব ইফতারের আয়োজন করবেন, আমরা কেন টাকা দেব?
ইফতারের নামে চাঁদাবাজীর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগরের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির যুগ্ন আহ্বায়ক জিয়াউদ্দিন সিকদার বলেন, তার কাছে কেউ চাঁদা চাননি। সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমান ছাড়া চাঁদাবাজীর অভিযোগ তোলাও ঠিক নয়।
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক বলেন, ‘আমরা নিজেদের টাকায় দল পরিচালনা করি। আমাদের ভাল কাজগুলো দেখে দলের মধ্যে অনেকের হিংসা হয়। তারা অতীতে ক্ষমতায় থেকে চাঁদাবাজী করেছেন, এখন নেতৃত্বে থাকতে না পারার বেদনায় আমাদের বিরুদ্ধে এসব মিথ্যাচার করছেন। ফারুক বলেন, চাঁদাবাজীর অভিযোগ কেউ প্রমান করতে পারলে দলের নেতৃত্ব ছেড়ে দেবো।
ইফতারের নামে চাঁদাবাজীর অভিযোগ প্রসঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসর রহমান বলেন সাংবাদিকদের, ইফতার ইস্যুতে কারো কাছ থেকে টাকা নেয় ঠিক নয়। মহানগর বিএনপিতে এটা হয়েছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হবে।##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *