বিএনপির ইফতার: চাঁদাবাজীর খবরে তোলপাড়

Spread the love

বরিশাল:
বরিশাল নগর বিএনপির সাম্প্রতিক ইফতার পার্টিকে কেন্দ্র করে ঢালাও চাঁদাবাজীর ঘটনায় দলে তোলপাড় ঘটছে। ঘটনাটি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সহ কেন্দ্র পর্যন্ত পৌছেছে। চাঁদাবাজীর ঘটনা ধামাচাঁপা দিতে সোমবার দলীয় কার্যালয়ে আহবায়ক কমিটির রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। ৩ ঘন্টা ব্যাপী ওই বৈঠকে চাঁদাবাজীর খবর ফাঁস হওয়ায় তুমুল বাককিতন্ডা, এবং তর্কবিতর্ক ঘটে। বৈঠকে নগর বিএনপির সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির সহ তার কয়েক অনুসারী চাঁদাবাজীর খবর প্রকাশ হওয়ায় গনমাধ্যম সম্পর্কে ক্ষুব্ধ হয়ে কটাক্ষ করেন।

মুল্যয়ন সভার শুরুতেই চাঁদাবাজী নিয়ে মুখ খোলায় দলের ২ সদস্যের বহিস্কার চান কয়েকজন নিস্ক্রিয় সদস্য। তবে ওই ২ সদস্য বৈঠকে অকপটে স্বীকার করেন যে তাদের কাছে চাঁদা চাওয়ার বিষয়টি তারা প্রকাশ করেছেন। এসময় সদস্য সচিব মীর জাহিদসহ কয়েকজন ক্ষুব্ধ হন তাদের উপর।

সভায় নগর বিএনপির সদস্য আব্দুল হালিম মৃধা আক্ষেপ করে বলেন, পথে ঘাটে আমাদের ইফতারীতে চাঁদা নিয়ে কথা হয়। সম্প্রতি তিনি আদালতে গেলে সেখানকার আইনজীবী অ্যাড. মিন্টু মোল্লা বলেছেন আমরা নাকি ইফতারে চাঁদাবাজী করেছি। হালিম আফসোস করে বলেন, এ বিষয়টি কেন্দ্র পর্যন্ত পৌছেছে।

নগর বিএনপির ১নং সদস্য আ ন ম সাইফুল ইসলাম আজিম বলেন, আপনারা ইফতার পার্টি ভাল বললেও, আমি বলবো ভাল হয়নি। কেন না আমার ওয়ার্ডের নেতারা প্যাকেট পাইনি। তিনি গনমাধ্যমকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘দুস্ট সাংবাদিকরা ইফতার পার্টিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।’

বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক জিয়া উদ্দিন সিকদার বলেন, ‘ফ্রিডম অফ স্পিচ, ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেসন’ সবার থাকতে হবে। দলের সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ হতাশ কন্ঠে বলেন, নগর বিএনপির কর্মসুচীতে অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিএনপি নেতাদের নির্দেশ দেয়, এটা দু:খজনক।

বিএনপির ২৮ নং সদস্য বদিউজ্জামান টলন বলেন, আমরাই তো স্বতস্ফুর্ত চাঁদা দিতে চেয়েছি। এটা নিয়ে এই সব সাংবাদিকদের কাছে দলের যেসব সদস্য মুখ খুলছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

৪২ নং সদস্য ইয়াছির আরাফাত মিন্টু বলেন, যারা ইফতারির চাঁদা নিয়ে মুখ খুলেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অ্যাকশন নেয়া উচিৎ। তিনি গনমাধ্যমের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, সাংবাদিকরা একের পর এক কিভাবে নিউজ করে? ছাত্রদল নেতা মিন্টু দীর্ঘ বছর দলে অনুপস্থিত থেকে এক লাফে নগর বিএনপির আহবায়ক কমিটিতে ঠাইঁ পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ প্রসঙ্গে মিন্টু বলেন, কিভাবে ছাত্রদল থেকে বিএনপি নেতা হলেন তা দল ভাল জানে।


দলের ৩ নং যুগ্ন আহবায়ক আলতাফ মাহমুদ সিকদারও চাঁদাবাজীর ঘটনা ফাঁস হওয়া ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ইফতারের ভাল, মন্দ, ভুল, ত্রুটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চাঁদাবাজী নিয়ে সভায় বাকবিতন্ডা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা এই কথাগুলো বলে তারা আমাদের মঙ্গল চায় না।

নগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক আলী হায়দার বাবুল বলেন, আহবায়ক কমিটির সভায় ইফতারের মুল্যয়ন হয়েছে। সভায় চাঁদাবাজী নিয়ে ক্ষোভ, তুমুল বাককিতন্ডা, এবং তর্কবিতর্ক হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছু শুনিনি, আমার কানে একটু সমস্যা। সভায় গনমাধ্যমকে কটাক্ষ করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটার আমি কি বলবো, আমার কোন মন্তব্য নাই।

নগর বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসিন মন্টু বলেন, আহবায়ক কমিটি দরজা আটকে বৈঠকে যা করেছে তা দু:খজনক। ওই সভায় যা শুনেছেন তা সত্য হলে আমি ক্ষুব্ধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *