‘ইভিএম’র ভোট আমরা চাইনা’- চরমোনাই পীর

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট : সকল নিবন্ধিত দলের মতামত নিয়ে নির্বাচনকালীন জাতীয় সরকার গঠন করতে হবে। নির্বাচনে ইলেকট্রনিক্স ভোটার মেশিন (ইভিএম) আমরা চাইনা এবং ভোটের দিন সসস্ত্র বাহিনীর হাতে বিচারিক ক্ষমতা দিতে হবে। শুক্রবার বরিশালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিভাগীয় মহাসমাবেশে দলের আমীর চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম উলেœখিত দাবীসহ মোট ১৫ দফা দাবী জানিয়ে বলেছেন, দাবীগুলো না মানলে তারা সরকার পতন আন্দোলন শুরু করবেন।
চরমোনাই পীর গনকমিশনে ১১৬ জন আলেমকে নিয়ে অবমাননাকর তালিকা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অবিলম্বে ওই তালিকা প্রত্যাহার করে জাতির কাছে মাফ চান। অন্যাথায় আগামীতে এদেশের জনগণ গণধোলাই কমিশন গঠন করবে। তখন গণ কমিশনের হোতারা পালিয়েও রক্ষা পাবেনা।
পীরের নিজ জেলায় নগরের বঙ্গবন্ধু উদ্যানে অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশে বিভাগের ৬ জেলা থেকে লক্ষাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশগ্রহন করেন। মাঠ উপচে আশপাশের সড়কও লোকারন্য হয়ে পড়ে। বেলা ১১টার পর থেকে একের পর এক মিছিল আসতে সমাবেশ স্থলের দিকে। মাঠে জুম্মার নামাজ আদায় শেষে সমাবেশ শুরু হয়।
দ্রব্যমূল্যর উর্ধ্বগতি, শিক্ষা সিলেবাসে ধর্মীয় শিক্ষা সংকোচন বন্ধ, ইসলাম দেশ ও মানবতাবিরোধী মদের বিধিমালা বাতিল, স্বাধীনতার মুল লক্ষ্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা এবং দূর্ণীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাতর দাবীতে গত ১ এপ্রিল ঢাকায় জাতীয় মহাসমাবেশে করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ওই মহাসমাবেশে প্রতিটি বিভাগীয় পর্যায়ক্রমে মহাসমাবেশ করার ঘোষনা দেয় দলটি। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বরিশালে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো। এতে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর ও মহাসমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।
চরমোনাই পীর বক্তৃতায় আরো বলেন, স্বাধীনতার পর কয়েকটি দল আমাদের বোকা বানিয়ে ক্ষমতায় এসে ধোকা দিয়েছে। তারা জনগণের স্বপ্নকে গলাটিপে হত্যা করেছে। এই দলগুলো এখন দেশে মাকাল ফলে পরিনত হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যত নিয়ে আমরা চিন্তিত। মানুষ আর তামাশা ও প্রহসনের নির্বাচন দেখতে চায়না। দিনে ভোট রাতে করে গঠিত অবৈধ সংসদের অধীনে কোন নির্বাচন দেশবাসী মেনে নেবেনা। জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা আগে জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দেয়ার দাবী জানানো হয় মহাসমাবেশে। ]
শিক্ষা সিলেবাসে ধর্মীয় শিক্ষা সংকুচিত করার ষড়যন্ত্র বন্ধ করার দাবী জানিয়ে বলেন, শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনির গোটা পরিবার দূর্ণীতিবাজ। চাঁদপুরে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মানে তাদের পরিবারের দূর্ণীতি গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। দিপু মনি চাচ্ছেন দেশের সকলকে কুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তাদের পরিবারের মতো দূর্ণীতিবাজ বানাতে।
ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে দেশের মানুষ ক্ষুধায় কাতরাচ্ছে। ক্ষুধার্ত মানুষের মাথা ঠিক থাকেনা। তারা ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠলে তাদের নিয়ন্ত্রনের ক্ষমতা সরকারের থাকবেনা।
সমাবেশে আরও বক্তৃতা করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য আশ্রাফ আলী আকন, উপদেষ্টা মাওলানা ওবায়েদুর রহমান মাহবুব, যুগ্œ মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান, অধ্যাপক সৈয়দ বেলায়েত হোসাইন, উপাধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, ডা. সিরাজুল ইসলাম সিরাজী, লোকমান হোসেন জাফরীসহ বরিশাল বিভাগের অন্যান্য জেলা নেতৃবৃন্দ।
ইসলামী আন্দোলনের মিডিয়া সেলের সদস্য মোহাম্মদ শরীয়ত উল্লাহ জানান, বিভাগের পিরোজপুর, বরগুনা ও পটুয়াখালী থেকে দলের নেতাকর্মীদের সমাবেশে আসতে বাঁধাগ্রস্থ করা হয়েছে। পিরোজপুরে ১০৮টি, পাথরঘাটায ৩০টি, মঠবাড়িয়ায় ২৫টি এবং পটুয়াখালীতে ৫০টির বেশী বাস রিজার্ভ করা থাকলেও শেষ মুহুর্তে রিজার্ভ বাতিল করেছে স্থানীয় বাস মালিক সমিতি। এতে ক্ষমতাসীন দলের ইন্ধন আছে বলে দাবী ইসলামী আন্দোলন নেতৃবৃন্দের।##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *