বিসিক শিল্পনগরের উন্নয়ন প্রকল্পে আবারও সিটি করপোরেশনের বাঁধা : প্রাচীর ভাংচুর

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট : নগরে শিল্প ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) উন্নয়ন প্রকল্পে আবারও বাঁধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার শেষ বিকালে পূর্ব নোটিশ ছাড়াই শিল্পনগরীর পশ্চিম দিকে সীমানা প্রাচীরের একাংশ বুলড্রেজার দিয়ে গুড়িয়ে দিয়েছে। তার দুইদিন আগে গভীর নলকুপ স্থাপনের সরঞ্জাম জব্দ করে নিয়ে যায়। বিসিকের কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে বিষয়টির সমালোচনা করে বলেছেন, সিটি করপোরেশরেন এসব কাজ আইনবহির্ভূত ও সরকারের শিল্প উন্নয়নে বাঁধা দেয়া সামিল।

সংশ্লিষ্ট সুত্র জানিয়েছে, গত বছর ফেব্রুয়ারীতে বরিশাল শিল্পনগরীতে ৭১ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে বিসিক। দরপত্রের মাধ্যমে কার্যাদেশ পান ‘নিয়াজ ট্রেডার্স’ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ক্রয় সুত্রে উন্নয়ন কাজটি করছেন বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি ও ফুরচুন সুজ কোম্পানীর মালিক মিজানুর রহমান। প্রকল্পের কাজ শুরুর পরই সিটি করপোরেশন থেকে একের পর এক আপত্তি আসতে থাকে। এনিয়ে বিসিক অভ্যন্তরে

একাধিকবার হামলা-ভাংচুর এবং কাউনিয়া থানা ও দুটি বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট অবরোধসহ পুরো নগর অচল করে দিয়েছিলো মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ অনুসারী আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা। এরপর থেকে বিসিক অভ্যন্তহরে শিল্প প্রতিষ্ঠানে নতুন ট্রেড লাইসেন্স প্রদান বন্ধ এবং পুরানো ট্রেড লাইসেন্সও নবায়ন করছেন না সিটি করপোরেশন।

গত দুইদিনের ব্যবধানে আবারও শিল্প নগরী অভ্যন্তরে সিটি করপোরেশনের অভিযানে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ দাবী করছেন, বিসিক কর্তৃপক্ষ প্লান বর্হিভূত সীমানা প্রাচীর করায় এবং গভীর নলকুপ স্থাপনে অনুমতি না নেয়ায় তারা অভিযান চালিয়েছেন। সটি করপোরেশনের অনুমতি নেয়া হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজের আগ মুহুর্তে বুলড্রেজার নিয়ে পশ্চিম দিকে নিমানাধীন সীমানা প্রাচীর গুড়িয়ে দেয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় নতুন প্লট তৈরীর জন্য সেখানে নিচু জমি ভরাট করে ১৭০০ ফুটের দেয়াল নির্মান কাজ চলছে।

বরিশাল বিসিকের উপ মহাব্যবস্থাপক জালিস মাহমুদ বলেন, প্রায় আধাঘন্টায় ১০০ ফুট দেয়াল গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তারপরে অজ্ঞাত কারনে বুলড্রেজার নিয়ে বিসিসির কর্মীরা চলে যান। জালিস মাহমুদ বলেন, এতে ১৭০০ ফুটের পুরো দেয়ালই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। গত শনিবার রাতে গভীর নলকুপ স্থাপনের বোরিং মেশিন জব্দ করে গেছে বিসিসির লোকজন।

বিসিক শিল্প নগরীতে অভিযানের কারন জানতে চাইলে বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক আহমেদ বলেন, তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই।

প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও জনসংযোগ কর্মকর্তার দায়িত্বরত স্বপন কুমার রোহান বলেন, বিসিকে সীমানা প্রাচীর নির্মানে বিসিসি থেকে প্লান নেয়া হয়নি। নিয়মানুযায়ী বিসিসির অনুমতি না নিয়েই গভীর নলকুপ স্থাপন করা হচ্ছিল। তিনি বলেন, উচ্ছেদ অভিযানের আগে বিসিক কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে বলা হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে বিসিকের উপ মহাব্যবস্থাপক জালিস মাহমুদ বলেন, শিল্প নগরী আইনে বিসিক শিল্পনগরীর সীমানার মধ্যে উন্নয়ন কাজের নকশা ও অনুমোদন বিসিক কর্তৃপক্ষই প্রদান করবেন। এজন্য স্থানীয় সিটি করপোরেশন বা পৌর কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন নেই। সারাদেশে ৮৬টি বিসিক শিল্পনগরী একই আইনে চললেও বরিশাল সিটি করপোরেশন অজ্ঞাত কারনে সকল উন্নয়ন কাজে বাধা দিচ্ছে। এতে বরিশাল শিল্পনগরী মুখ থুবরে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

গত শনিবার গভীর নলকুপ স্থাপনের সরঞ্জামদী নিয়ে যাওয়ার পর একই তথ্য জানিয়ে সরঞ্জামদী ফেরত দেয়ার জন্য বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছেন বিসিকের কেন্দ্রীয় দপ্তরের সচিব মফিদুল ইসলাম। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্ব নোটিশ ছাড়া বিসিক অভ্যন্তরে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে কাজের মালামাল জব্দ করে সিটি করপোরেশন আইন বর্হির্ভূত কাজ করেছে।

বরিশাল বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বলেন, সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের একের পর ঘটনায় বিসিকে এখন শিল্পায়নের পরিবেশ নেই। গত দেড় বছরে নতুন কোন উদ্যোক্তা আসেনি। যারা আছেন তারাও চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। সিটি করপোরেশনের এ ভূমিকা এক প্রকার উন্নয়বিরোধী। এটা অব্যাহত থাকলে পদ্মাসেতু পরবর্তী শিল্পায়নে বরিশাল নগরের একমাত্র শিল্প এলাকাটি বঞ্চিত হবে।##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *